1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

২৭ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩
  • ২০৬ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ করবে দলটি। সেই সমাবেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন- এখন দাবি আদায়ের পালা।

 ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ১১ দফা দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সারা দেশে ঘোষিত ৬টি সমাবেশ কর্মসূচি শেষ করেছে।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার এক দফা দাবি আদায়ে ঢাকার নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণভাবে মহাসমাবেশ করা হবে। সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তিসহ যুগপৎভাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সমমনা গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, এলডিপি, গণফোরাম, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোটসহ ৩৬টি দল একযোগে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। নানা রঙের ক্যাপ, গেঞ্জি পরে আর মাথায় ফিতা বেঁধে দলে দলে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান আর মিছিলে পুরো এলাকা মুখরিত করে তুলেন।

ঢাকার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া নেতাকর্মীরা উদ্যানের ভেতরে প্রবেশের আগে সড়কে মিছিল-স্লোগান দিয়ে মহড়া দেন। তারা ‘মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘গুম করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে খালেদা জিয়া লড়বে’, ‘এই মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন মোড়, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, শাহবাগ, রমনা পার্ক, কাকরাইল মোড়, প্রেসক্লাব-হাইকোর্ট মোড়, সেগুনবাগিচাসহ আশপাশের এলাকায় তারুণ্যের সমাবেশে যোগ দিতে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে নেতাকর্মীরা তাদের উপস্থিতিতে এসব এলাকার সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা গেছে।

সমাবেশ শুরুর আগে নেতাকর্মীদের ভিড়ে মঞ্চ ভেঙে পড়ে। এ সময়ে ২ জন আহত হন। একটি খোলা ট্রাকে মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশের কার্যক্রম পরিচালনা করেন দায়িত্বশীল নেতারা।

সমাবেশ শুরুর আগেই জাসাসের শিল্পীরা মঞ্চে গান পরিবেশনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে তোলেন। সমাবেশকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশে বিশেষ করে শাহবাগ, রমনা পার্ক, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মোড়, শিল্পকলা একাডেমির চারপাশ, প্রেসক্লাব-হাইকোর্ট মোড়, সেগুনবাগিচাসহ আশপাশে লোকারণ্য হয়ে যায়। আশপাশের এলায়কায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

 সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ভিরু এবং কাপুরুষের দল। তাই তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। সরকার বিদেশিদের বলছেন- ‘আমরা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দেব’, অথচ নির্বাচনে আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে নির্বাচনি মাঠ খালি করছেন। এই চক্রান্ত মানুষ সহ্য করবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একদিকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রগুলো। অপরদিকে অন্যায় অবিচার অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে রাতারাতি পাল্টে ফেলছেন ডিসি-এসপিদের। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বস্তদের দিয়ে সাজানো হচ্ছে প্রশাসন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আর সময় নেই। এখন আমাদের অধিকার আদায়ের পালা। আমরা নির্বাচন চাই- তবে সেটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। দলীয় সরকারের অধীনে নয়। কিন্তু বিএনপি যাতে নির্বাচনে যেতে না পারে তারা মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এখন আবারও গায়েবি মামলা দিচ্ছে। সাত মাসে ৫০টি গায়েবি মামলা দিয়েছে। এগুলো কিসের আলামত? ওদিকে বিদেশিদের বলছে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। অথচ সিনিয়র নেতারা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তাদের মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে যাচ্ছে। এটাকে তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা আসলে ভয় পেয়ে এসব করছে। তবে কোনোভাবেই দেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন হবে না। এবার সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। এবার সেটি হবে না। জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি- সবাই বলেছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। অতএব অবিলম্বে পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে দাসানুদাস নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন গঠন করুন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ নয়। তারা সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় বসে আছে। আর বড় বড় কথা বলে যে, তারা ক্ষমতায় এলেই নাকি গণতন্ত্র হয়। ২০১৪ সালে বিনাভোটে ১৫৩ জন এমপি হয়েছে। তা হলে তারা কী বৈধ? আওয়ামী লীগ আর বিচারপতি খায়রুল হক যোগসাজশ করে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ব্যবস্থা বহাল রেখেছে। কারণ তারা জানে নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। এখন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার অলিখিত একদলীয় শাসন বাকশাল চালু করেছে। তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রবিরোধী। তারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। মাথায় হিজাব বেঁধে আর হাতে তসবিহ নিয়ে বলেছিল ১০ টাকা সের দরে চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন এবং কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবেন। আজকে ঘরে ঘরে চাকরি নেই। টাকা ছাড়া চাকরি হয় না। বিসিএস পাস করলেও ভিন্নমতের কারণে চাকরি হয় না।

তিনি বেলন, সর্বশেষ ঢাকা-১৭ আসনে নতুন মডেলের নির্বাচন দেখলাম। হিরো আলম বড় আশা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ তাকেও ভোট করতে দেয়নি। এরা কাউকে সহ্য করতে পারে না। এরা দেশটাকে মনে করে তাদের বাপের তালুকদারি। এরা সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করছে, দেশটাকে ফোকলা বানিয়ে ফেলেছে। এই সরকার বিদ্যুৎ খাতে ১৪ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। শুধু টাকা পাচারে ব্যস্ত। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতা রফিকুল আলম মজনু, সাইফুল ইসলাম নিরব, শেখ রবিউল আলম রবি, আবদুল মোনায়েম মুন্না, ইউসুফ বিন জলিল কালু, এসএম জাহাঙ্গীর, মিয়া ন–রুদ্দিন অপু, গোলাম মাওলা শাহীন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জয়নাল হোসেনসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, অনির্বাচিত ও ভোট চোর খুনি সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এবার ভোট চোরের ক্ষমা নেই। তরুণরা তাদের টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে। ইতিমধ্যেই পতনের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এবার ফয়সালা হবে রাজপথে।

ঢাকা মহনগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, একাত্তরের যুদ্ধে শহিদ হতে পারিনি। এবার শহিদ হতে চাই। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

সভাপতির বক্তব্যে যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক হতে শপথবাক্য পাঠ করান এবং বলেন, এই সরকারের আমলে ৪ কোটি ৭০ লাখ তরুণ ভোটার ভোট দিতে পারেনি। তারা আজকে জেগে উঠেছে। এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিগত আন্দোলনে গুম খুনের শিকার নেতাদের পরিবারের সদস্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীর্ঘদিন জেল খাটা ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।

নতুন ভোটার আর তরুণদের জাগ্রত করতে জুন মাসের প্রথমদিকে ‘তারুণ্য সমাবেশে’র ঘোষণা দেয় বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। ১৪ জুন চট্টগ্রাম, ১৯ জুন বগুড়া, ২৪ জুন বরিশাল, ৯ জুলাই সিলেট ও ১৭ জুলাই খুলনায় তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :