
শাহজাহান বিশ্বাস:এবার বর্ষা শুরু হবার আগেই মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নের যমুনা পাড়ের মানুষের মাঝে নদী ভাঙনের আতংক বিরাজ করছে। কারণ গতবার ওই এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে নদীর গভীরতা বেড়ে তীরবর্তি এলাকায় অনেক উচু খাড়া পাড়ালের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে পানি বাড়ার সাথে সাথে স্রোতে ওই এলাকায় ব্যপক আকারে নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে মহা চিন্তিত রয়েছেন তীরবর্তি এলাকার মানষজন। তাই আগে থেকেই জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যাস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা।
সম্প্রতি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর উক্ত নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে লোকজনের খোঁজ-খবর নেন এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
নদী তীরবার্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সময় তীরবর্তি এলাকায় ভয়াবহ আকারে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ওই সময় মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরীভাবে কিছু জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন রোধ করা কঠিণ হয়ে পড়ে। এতে বাড়ি-ঘর ও ফসলী জমি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেকেই। গতবারের ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এবার বর্ষা শুরু হবার আগেই ভাঙন আতংকে মহাচিন্তিত রয়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। কারণ এবছর নদীর ওই তীরবর্তি এলাকায় নদীর গভীরতা অনেক বেড়ে উচু খাড়া পাড়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এখন থেকেই পানির ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম পানি বাড়ার সময় স্রোতে আরো বড় ধরনের নদী ভাঙনের আশংকা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিছেন। এমতবাস্থায় বর্ষার আসার আগেই জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন নদী পাড়ের লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, এবার শুস্ক মৌসুমেও থেমে থাকেনি নদী ভাঙন। আরিচা ঘাট থেকে তেওতা পর্যন্ত ঢেউয়ের আঘাতে অল্প অল্প করে তীরবর্তি এলাকায় ভাঙছে। বর্ষা আসার দুই মাস আগে থেকেই এবার নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে, আরিচা থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা-কাম যমুনার তীর রক্ষা বাঁধের নিহালপুর থেকে নিহালপুর আতার স্কুল পর্যন্ত পাকা রাস্তা। এটি একেবারেই নদীর তীর ঘেষা রাস্তা।এ এলাকার মধ্যে ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ১টি মসজিদ ও কবরস্থানসহ বহু অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়া যমুনার তীরবর্তি এলাকায় তেওতা নিহালপুর এলাকা থেকে সমেজঘর তেওতা এবং তেওতা বাজার পর্যন্ত বহু মানুষের বাড়ি ঘর ও রয়েছে। এসব বাড়ি ঘরও হুমকির মুখে।
ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা আরো জানান, প্রতি বছরই বর্ষার সময় ভাঙন দেখা দেয়। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব জীবন কাটাচ্ছেন। নদীতে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হয়েছে। তারপরও অদ্যবাধিও স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। নদীর স্রোত, অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে তেওতা ইউনিয়নের বিশেষ করে নিহালপুর, সমেজঘরসহ আসপাশের এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি আরিচা ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট ঘাট ও আরিচা বন্দর এবং বন্দর বাজার হুমির মুখে পড়বে।
শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের মানুষ বেশি অবহেলিত বলে মন্তব্য করে ইউপি সদস্য মো: মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, আরিচা ঘাট থেকে নিহালপুর, সমেজঘর, তেওতা বাবুরবাড়ি হয়ে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে স্থায়ী বেরী বাঁধ নেই। এ কারণে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষের বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি । এ ভাঙন রোধে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন করেছে। কিন্তুু অদ্যবধিও প্রয়োজনীয় স্থায়ী কার্যকরি কোন পদক্ষে নেয়া হয়নি। এমতবস্থায় উক্ত এলাকায় একাবাসীর পক্ষ থেকে স্থায়ী বেরী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবী জানান তিনি।
শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য, মো: আবুল কালাম জানান, এবার বর্ষা শুরু হবার আগেই তেওতা ইউনিয়নের নিহালপুর এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বারের ভাঙনের এবার নদীর গভীরতা বেড়ে তীরবর্তি এলাকায় অনেক উচু খাড়া পাড়ালের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ঢেউয়ের আঘাতে এখন থেকেই নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদী পারের মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।এব্যাপারে আমরা মানিকগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করলে তিনি উক্ত ভাঙন কবিলত এলাকা পরিদর্শন করেন এব্য এলাকার লোকজনের খোঁজ-খবর নেন। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে শিবালয় উপজেলার নয়াকান্দী গ্রামের তীরবর্তি এলাকার বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। এখানেও পদ্মা নদীর পাড়ে পানির গভীরতা অনেক বেশি। ফলে, স্রোত একেবারে কিনারায় এসে লাগছে বলে স্থানীয়রা জানান। পানির ঢেউয়ে নদীর পাড়ের তিন ফসলি জমি একটু-একটু করে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে পুরো এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে বলে স্থানীয়রা আশংকা করছেন। এখানেও ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন-রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।
এছাড়া উপজেলার শিবালয় ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবালয়, অন্বয়পুর, হাজিরবাধা, দাসকান্দি, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, বরুরিয়া, নয়াকান্দি, মান্দ্রাখোলা এলাকা সমূহের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ বাড়িঘর ও ফসলি জমি ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, যেখানে একবার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে সেখানে দ্বিতীয়বার জিওব্যাগ ফেলার সুযোগ নাই। তবে অস্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে রবিবার সমেজঘর তেওতা এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
Leave a Reply