
অনলাইন ডেস্ক: সংবাদ কর্মীরা এখন নিজেরাই সেলফ সেন্সরশিপ (স্বআরোপিত নিয়ন্ত্রণ) করছেন দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় পিছিয়েছে শতাধিকবার। সাংবাদিকদের গুম করে কয়েক মাস পরে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এরপরও প্রথিতযশা সাংবাদিকদের গণতন্ত্র হত্যাকারীদের সমর্থনে কথা বলতে দেখলে লজ্জা লাগে। তারা এখন উর্দির ভূমিকা পালন করছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ডিইউজের এই অংশের সদস্যরা বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বলে পরিচিত। অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক নেতারা ছাড়াও বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দল ও জোটের নেতা, বিএনপি সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যম এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ বর্তমান সরকারের উচ্ছিষ্টভোগী। আরেক ভাগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছেন। যারা সংগ্রাম করছেন, তারা নানাভাবে নিষ্পেষিত। একটার পর একটা মামলা দিয়ে প্রতিহত করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারকে ‘দানব’ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য দরকার। ঘরে বসে থাকার সময় নেই। রাজপথে নেমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দানবকে নামাতে হবে। অত্যাচার-নির্যাতন এখন এমন পর্যায়ে গেছে, সবাই মিলে একজোটে লড়াই না করলে কীভাবে বের হব, আমি নিজেও বুঝতে পারি না।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী বলেন, যেভাবেই বলা হোক না কেন, সাইবার নিরাপত্তার নামে সেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনই রয়েছে। সাংবাদিকদের হেনস্থা করতেই সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ভুলে যায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণে নতুন মোড়কে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে তার পক্ষ নেওয়া। নীরব থাকার সময় নেই। এক দফা দাবি আদায় ছাড়া মুক্তি নেই।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে রুহুল আমিন গাজী, নুরুল আমিন রোকন, এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকাদার, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খান, রাশেদুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাসহ পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply