1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

শিবালয়ের যমুনায় বিশাল চর, সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যহত

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪
  • ৩৮২ বার পড়েছেন
শিবালয়ের যমুনায় বিশাল চর সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যহত

শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সেচ সংকটের কারণে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বোরো আবাদ। জমি থেকে সরিষা ঘরে তোলার ১৫দিন অতিবাহিত হলেও পানির অভাবে এবছর কাশাদহ সেচ প্রকল্পের প্রায় ১২শ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। অতি দ্রুত পানি সরবরাহের জোর দাবী জানিয়েছেন তারা। তানা হলে এ অঞ্চলে এবার ধানের উৎপাদন কমে যাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে পদ্মা-যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। নদীগুলো হারিয়ে ফেলেছে গভীরতা। যে কারণে শুস্ক মৌসুম আসলেই নদীগুলো শুকিয়ে পানি শূণ্য হয়ে পড়ছে। এতে  সেচ ও মাছের সংকট এবং গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহারের পানিসহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আরিচা ঘাটের কাছে যমুনা নদীর পানি দুরে সরে যাওয়ায় বন্ধ হওয়ার পথে কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম। ফলে এবার বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফারাক্কার প্রভাব এবং নদীর ওজানে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

শিবালয়ে সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যাহত

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ১৯৮০ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে শিবালয় উপজেলার ১৪/১৫টি গ্রামের ২ হাজার কৃষক প্রায় ১২শ’ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবত স্বল্প খরচে বোরো আবাদ করে আসছেন। এতে একদিকে নদীর আয়রনমুক্ত পানি দেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালে শিবালয় ক্ষুদ্র পানি ব্যাবস্থপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার-৩। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুণ:খননসহ নির্মাণ করা হয়েছে পাকা ড্রেন ও পানির হাউজ। এবার নদীতে চর পরে বন্ধ হয়ে গেছে পানির উৎস। সেচের অভাবে এবার বোরো আবাদ করতে না পারলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত সেচ প্রকল্পের কৃষকরা। কাশাদহ সেচ প্রকল্পের পানিতে নামমাত্র মূল্যে কৃষকরা ধানের আবাদ করে থাকে। তবে এবার বোরো মৌসুমের শুরুতেই প্রকল্পের পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। কৃষকরা সরিষা উঠিয়ে জমি চাষ করে পতিত রেখেছেন। পানির অভাবে চাষ করতে পারছেন না। বীজ তলায় নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা। স্যালো মেশিনে বোরো আবাদে খরচ হয় অনেক বেশী। তাই অতি দ্রুত সেচ প্রকল্পটি সচল করার জোর দাবী জানিয়েছেন তারা। যেখানে দেশের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘দেশের কোথাও এক ইঞ্চি জায়াগাও যেন খালি না থাকে’। সেখানে সেচের অভাবে কাশাদহ সেচ প্রকল্পের অনেক আবাদযোগ্য কৃষি জমি এখনও আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।

এ অঞ্চলে এখন ইরি-বরো ধান আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। কাশাদহ সেচ প্রকল্পের আশপাশের জমিগুলোতে পুরোদমে চলছে জমি তৈরি এবং  ধানের চারা রোপনের কাজ। বিগত বছরগুলোতে এসব জমিতে ধানের চারা রোপন করা হয়ে যেতো। কিন্তু এ বছর চারা রোপনতো দূরের কথা, সেচের অভাবে জমি তৈরিই করতে পারছেন না এ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।

বোয়ালী গ্রামের কৃষক মিন্টু সিকদার বলেন, সেচ সংকটের কারণে আমরা এবার জমিও তৈরি করে ধানের চারাও রোপন করতে পারছি না। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে জমিতে সেচ দেওয়া অনুরোধ করছি।

কৃষক বাচ্চু শেখ বলেন, আমরা ১৫দিনের বেশী সময় ধরে জমি থেকে সরিষা উঠানো হয়েছে। ্এখন  পানির অভাবে জমি চাষাবাদ করতে পারছি না। অন্যান্য বছর এতো দিনে আমাদের ধানের চারা রোপন করা হয়ে যায়। কিন্তুু এবছর পানির অভাবে জমিই তৈরি করতে পারছি না।

কৃষক মো: ইয়াকুব সিকদার বলেন, আমরা আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীর পানি দিয়ে বোরো আবাদ করে থাকি। এ বছর সেচের অভাবে জমিতে আবাদ করতে পারছি না।

কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. মশিউর রহমান আওয়াল বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পাম্পের সাহায্যে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তুলে বোরো ধানের আবাদ করে আসছি। এ বছর বিআইডব্লিউটিএ উজানে নদী খনন করে ড্রেজিংকৃত মাটি ফেলার কারণে আমাদের পানির হাউজের সামনে যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে নদীর পানি তোলার পাম্পের হাউজ এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে সরে গেছে মূল নদী। চর কেটে পানি সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়িই সেচ সংকট সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, নদীতে চর পড়ার কারণে সেচ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আসলে আমাদের করার কিছুই নেই। বিষয়টি আমরা মনিটরিং করছি।  এছাড়া  উপজেলা প্রশাসন এবং পরিষদের সংশ্লিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে চর কেটে পানি সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :