
অনলাইন ডেস্ক: মানুষের জীবনে নামাজ সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সুন্দর হয়। ভারসাম্যপূর্ণ সমাজের জন্য নামাজ একটি আদর্শ উপায়। নামাজ মানুষের বোধশক্তিকে জাগ্রত করে পাপাচার থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)। নামাজ মানুষকে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবনের শিক্ষা প্রদান করে। নামাজ দৃষ্টি ও মন নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। নামাজ আদায় করতে গেলে সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। নামাজ একজন মানুষের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বপরায়ণতার শিক্ষালাভ করে থাকেন। এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিঃসন্দেহে নামাজ বিশ্বাসীদের ওপর সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : ১০৩)
যখন নামাজের সময় উপস্থিত হয়, তখন ভালোভাবে ওজু করে নামাজ আদায়ে জামাতে শরিক হতে হয়। কেউ ইচ্ছা করলে ওজু ছাড়াই জামাতে শরিক হওয়ার সুযোগ নিতে পারে। কারণ একজন নামাজি ওজু করলেন, কী করলেন না, তা তো কেউ দেখে না। অন্য কেউ দেখুক অথবা না দেখুক আল্লাহ দেখছেনÑএ ভয় নামাজির অন্তরে বদ্ধমূল হওয়ার কারণে সে ওজু ছাড়া নামাজে অংশ নেয় না। সুতরাং একজন নামাজি নামাজের মাধ্যমে আমানত রক্ষার এ শিক্ষায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে গভীর অরণ্যে, জনমানবহীন ধু ধু প্রান্তরে বা কর্মক্ষেত্রে কোনো পাপ কাজ করতে সাহসী হবে না। সে যদি রাস্তায় কোথাও স্বর্ণ বা টাকা পড়ে থাকতে দেখে আর সে যদি সত্যিকার নামাজি হয় তা হলে সেসব স্পর্শ করতে পারে না। নামাজি ব্যক্তি আমানতের খেয়ানত করবে না। কারণ নামাজ তাকে অন্যায়, অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সবাইকে নামাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করা কর্তব্য। নামাজ আমরা নিজেরাও পড়ব, অন্যদেরও পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করব। মহান আল্লাহ সবাইকে তওফিক দিন।
Leave a Reply