1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক

ইসলাম সবচেয়ে বেশী শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকার দিয়েছে

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫
  • ২৫৬ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ইসলাম মানবজীবনের জন্য রহমত। জাহেলি আরবে যখন দাস-দাসী ও গরিব শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হতো, তখনই রাসুল (সা.) নিয়ে এসেছিলেন মানবতার বার্তা। একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে ইসলামের। ইসলাম সব বৈধ শ্রম ও শ্রমিকের ও গৃহকর্মীর মর্যাদা প্রদান করেছে, তাদের অবস্থান বিবেচনা করেছে, তাদের সম্মানিত করেছে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। পূর্ববর্তী কোনো কোনো সমাজব্যবস্থায় কাজ ও শ্রমের অর্থ ছিল দাসত্ব ও গোলামি। কোনো কোনো সমাজব্যবস্থায় কাজের অর্থ ছিল হীনতা ও অপদস্থতা।

কিন্তু ইসলাম সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। ইসলামি সভ্যতা কর্মজীবী ও শ্রমিক শ্রেণিকে যে মহৎ দৃষ্টিতে বিবেচনা করেছে সে ব্যাপারে শ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য হলো রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন। তাঁর জীবনচরিতই ছিল শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের স্বীকৃতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) শ্রম দিয়ে জীবিকা উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে বলেন, ‘শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর, যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়’ (মুসনাদে আহমাদ : ৮৩৯৩)। অন্য এক হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যে ব্যক্তি আপন শ্রমের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখো, আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) আপন শ্রমলব্ধ উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (বুখারি : ২০৭২)

মানুষ মানুষের কাছে নানা প্রয়োজনে ছুটে যায়। কেউ শ্রম দেয় অর্থের জন্য, কেউ অর্থ দেয় শ্রম নেওয়ার জন্য। এই প্রয়োজন দ্বিপক্ষীয় হলেও অর্থের প্রয়োজন শ্রমিককে সমাজের চোখে ছোট করে তোলে। এই ছোট ভাবনাটাই শ্রমিককে অবহেলা ও নিগ্রহের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলাম এসে এ ধারণাকে বিলুপ্ত করে। নবীজি (সা.) ঘোষণা দেন, ‘তোমাদের সেবকরা তোমাদের ভাই। তাদের আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন। কারও অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যা খায় তাকেও যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকেও যেন তা পরায়। তোমরা তাদের ওপর কষ্টকর কাজ চাপিয়ে দিও না। যদি দিতেই হয়, তা হলে তাদের সহযোগিতা করো’ (বুখারি : ৩০)।

শুধু এটুকুই নয়, তাদের যথাযথ সম্মান দিতে বলেছেন; ঠিক যেমন মানুষ নিজ সন্তানের সঙ্গে আচরণ করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তাদের সন্তানের মতো মর্যাদা দাও (আদর-যত্ন করো)। তোমরা যা খাও তাদেরও তা খাওয়াও’ (ইবনে মাজাহ : ৩৬৯১)। চাকর-বাকর, গৃহকর্মী ও শ্রমিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর শাস্তির কথা বলে গেছেন নবীজি। হজরত আবু মাসউদ আনসারী (রা.) বলেন, আমি একদিন গোলামকে মারছিলাম। পেছনে কাউকে বলতে শুনলাম, মনে রেখো আবু মাসউদ, আল্লাহর ক্ষমতা তোমার ওপর এর চেয়েও বেশি। পেছন ফিরে দেখি, রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে। বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে আল্লাহর ওয়াস্তে আজাদ। নবীজি বললেন, তুমি যদি তা না করতে তবে জাহান্নামের আগুন তোমাকে স্পর্শ করত। (মুসলিম : ১৬৫৯)

শ্রমিকের অনেক অধিকার আছে, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, ভালো আচরণ, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ভুল-ত্রুটি মার্জনা ইত্যাদি। সর্বাগ্রে একজন শ্রমিকের সবচেয়ে বড় অধিকার হলো উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও নির্ধারিত প্রাপ্য যথাযথভাবে পরিশোধ। শ্রমিক থেকে শ্রম নেওয়ার পর তার ন্যায্য প্রাপ্য দ্রুত পরিশোধের ব্যাপারে গুরুত্বের সঙ্গে তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। শ্রমিকের প্রাপ্য যথাযথভাবে পরিশোধ না করা ভয়াবহ গুনাহ। একজন শ্রমিক গায়ের রক্ত ঘামে পরিণত করে হালাল রুজি উপার্জন করে। চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা তার প্রাপ্য। এই প্রাপ্য পরিপূর্ণভাবে দেওয়ার দায়িত্ব মালিকের। মালিক যদি শ্রমিকের বেতন দিতে গড়িমসি করে; কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে পাকড়াও করবেন। হাদিস শরিফে শ্রমিকের মজুরি নিয়ে টালবাহানা না করে তা দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিস, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে দাও তার ঘাম শুকানোর আগেই’ (ইবনে মাজাহ : ২৪৪৩)। শ্রমিককে পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করার ব্যাপারে হাদিস কুদসিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াব এক. ওই ব্যক্তি যে আমার নামে অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করেছে। দুই. যেকোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রি করে সেই মূল্য ভক্ষণ করেছে। আর তিন. যেকোনো শ্রমিকের শ্রম পুরোপুরি গ্রহণ করে তাকে তার মজুরি থেকে বঞ্চিত করেছে’ (বুখারি : ২২২৭)। এ থেকে বোঝা যায়, শ্রমিককে তার চুক্তিকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত করা বা মজুরি নিয়ে টালবাহানা করা কত বড় অন্যায়। যে লোক চাকর-বাকর, গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের প্রতি জুলুম করে, তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা তাকে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কেয়ামতের দিন তিনি তার প্রতিপক্ষ হবেন।

শ্রমিককে তার চুক্তিকৃত মজুরি যথাসময়ে পরিশোধ করা যেমন একটি কর্তব্য, তেমনি আরেকটি কর্তব্য হচ্ছে, মজুরির পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হওয়া। মজুরি এমন হওয়া কাম্য, যা দ্বারা একজন শ্রমিকের স্বাভাবিক প্রয়োজন মেটে।

শ্রমের সঙ্গে পারিশ্রমিকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একজন শ্রমিক টাকার প্রয়োজনেই অন্যের কাজ করেন। তিনি তার শ্রম দিচ্ছেন নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য। তাই কাউকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের আগে তার কর্মদক্ষতা যাচাই করতে হবে। এরপর উপযুক্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা শ্রম গ্রহীতার ওপর নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামি অর্থনীতিতে ন্যূনতম পারিশ্রমিক প্রত্যেক শ্রমিকের প্রয়োজন অনুসারে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক শ্রমিককে কমপক্ষে এমন মজুরি ও পারিশ্রমিক দিতে হয় যাতে সে তার জীবনধারণের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। শ্রমিক তার সর্বোচ্চ কষ্ট, চেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করবে, আর বিনিময়ে তাকে অনেক অল্প, অতি নগণ্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করবে। ইসলাম এমন কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। ইসলাম শুধু এক দিনই নয়, তিনশ পয়ষট্টি দিনই চাকর-নফর, শ্রমিক, অধীনস্তদের সঙ্গে এমন কোমল আচরণ করতে বলে। তাই আমরা যারা শ্রমিকের অধিকারকে দিবসে বন্দি করে ফেলি, তাদের উচিত পশ্চিম থেকে চোখ ফিরিয়ে কুরআন-হাদিসে নিবদ্ধ করা; তা হলেই সব সমস্যার সমাধান সুন্দর হয়ে ধরা দেবে।সুত্র:সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :