
অনলাইন ডেস্ক: ভোগ্যপণ্যের বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি টালমাটাল অবস্থা মসলাজাতীয় পণ্য আদার। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যটির দাম। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আদায় কেজিপ্রতি দাম বাড়ল ৫০ টাকা। গত বৃহস্পতিবারও ঢাকার বাজারে এক কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকায়। শুক্রবার আদার কেজি হয়ে গেছে ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার চেয়ে আদার সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক।
অন্যদিকে আদার মতোই পেঁয়াজ-রসুনের দামও বাড়ছে প্রায় প্রতিদিনই। রাজধানীর বাজারে এখন পেঁয়াজের কেজি সেঞ্চুরির কাছাকাছি। কোথাও এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়, আবার কোথাও বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। অর্থাৎ খুচরা বাজারের বিক্রেতারা এখন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন যে যার মতো দামে। এ ছাড়া এক দিনের ব্যবধানে রসুনেও দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা।
অন্যদিকে কাঁচা বাজারের উত্তাপও বেড়েই চলেছে। বেগুন, করোলা, শসা, পটোল, চিচিঙ্গা এবং ঝিঙার মতো অধিকাংশ সবজির দাম এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া মাছ-মাংস, চাল-ডাল এবং তেল-চিনি বাজারও আগের মতোই বেসামাল। এভাবে সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে গিয়ে হিমশিম খান ক্রেতারা।
মসলাজাতীয় পণ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ এখন চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম। অবশ্য বাজারে গেলে ব্যবসায়ীদের এ কথার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ প্রতিটা দোকানেই এসব পণ্য থরে থরে সাজানো রয়েছে। কোনোটিরই কমতি নেই। বাজার বিশ্লেষক ও ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটই যদি হতো তা হলে তো বাজারে এসব পণ্য পাওয়া যেত না।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে আদার চাহিদা ২ লাখ ৪০ হাজার টনের মতো। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ৮০ হাজার টন। বাকি দেড় লাখ টনেরও বেশি আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আদা আসে চীন থেকে। তবে বিশ্ব বাজারে বুকিং দরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে দেশের আমদানিকারকরা পণ্যটির আমদানিতে লাগাম টেনেছেন। ফলে বাজারে এক ধনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারে আদার দাম বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি।
বাজারে কাঁচামরিচের দামও এখন আকাশছোঁয়া। বাজারে কাঁচামরিচের কেজি এখন ২০০-২২০ টাকা। কয়েক দিনের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো সবজির দাম কমেনি। বরং এ বছর চড়া দামের সবজির তালিকায় যোগ হয়েছে সচরাচর স্থিতিশীল থাকা আলুও। এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়তি দামে আলু কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারে আলুর দাম আরও বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুদিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। রোজার ঈদের পর থেকেই ধীরে ধীরে আলুর দাম বাড়তে শুরু করে। তখন এ পণ্যটির দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ টাকা।
শুধু আলু নয়, বাজারে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁপের দামও। সারা বছর এ সবজি ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে কেনা গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে অন্যান্য সবজিও প্রতি কেজি ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
আলুর দাম বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও। সংস্থাটি বলছে, বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম ২৯ শতাংশ বেড়েছে। আর বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ১৮-২৫ টাকা। যা এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাছের বাজারও। হুট করে সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৬০০ টাকা কেজির কমে কেনা যাচ্ছে না টেংরা, কই, শিং ও চিংড়ি। চাষের রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩২০ টাকারও বেশি দামে। দুই কেজি বা তার চেয়ে বড় হলে দাম কেজিতে আরও ১০০-২০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এমনকি ছোট আকারের পাঙাশ-তেলাপিয়া মাছের দামও এখন কেজিপ্রতি ২৪০-২৫০ টাকা। যা স্বাভাবিক সময়ে ২০০ টাকা কেজি বা তারও কমে পাওয়া যেত।
বাজারে দেখা গেছে, মুদি দোকানগুলোতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা ও চিনি ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখনও চিনির সংকট কাটেনি। অধিকাংশ দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না প্যাকেটজাত চিনি।
এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগির কেজি ৬০০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা ডজন। গরুর মাংসের দাম রমজানের পর থেকে দুই দফা বৃদ্ধির পর আর কমেনি। রাজধানীর বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। এ ছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।
Leave a Reply