
অনলাইন ডেস্ক: হঠাৎ ওষুধের দাম বৃদ্ধি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রোগীপ্রতি মাসিক খরচ ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেড়েছে। এসব খরচ পুরোটাই রোগীকে বহন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিবারের রোগীর চিকিৎসা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাড়তি দামের জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। তার ওপর ওষুধের এই দাম বৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন আবদুল আলীম (৫০)। তিনি বলেন, সকালে ও রাতে দুই বেলা ইনসুলিন নিতে হয়। কিন্তু ইনসুলিনের দাম ১ প্যাকেটে বেড়েছে ৩০০ টাকা। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কাভারসিল ৪ এমজির ট্যাবলেট বাজারে ১ পাতা (৩০টি) বিক্রি হতো ৪৯০ টাকায়। তা এখন বেড়ে ৫৪০ টাকা হয়েছে। এত খরচ কুলাতে পারি না।
শুধু ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের নয়, দাম বেড়েছে লিভার, হৃদরোগ, হাঁপানি এবং গ্যাস্ট্রিকসহ জীবন রক্ষাকারী বেশ কিছু ওষুধেরও। অন্যদিকে ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ওষুধের কাঁচামাল, বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণ এবং ওষুধ আমদানি কমে যাওয়ায় গত এক বছরে দেশে ওষুধের মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্যও দ্বিগুণ থেকে চারগুণ বেড়েছে। অনতিবিলম্বে অতিপ্রয়োজনীয় ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসার উপকরণের অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে দুর্ভোগ-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদনের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে করণীয় নির্ধারণে গত বুধবার বৈঠক করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। ওই বৈঠকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপতাল ও ক্লিনিকসমুহ), ঔষুধ শিল্প সমিতি, ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, ফার্মাসিউটিক্যাল ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল ডিভাইন অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার, মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, মেডিকেল ডিভাইস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, অযৌক্তিভাবে কোনো ওষুধের দাম বা চিকিৎসা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়নি। আমাদের যেভাবে মূল্য বাড়ানোর উচিত সে ভাবে বাড়ানো হয়নি। তবে কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ৮৫ ডলারের দাম এখন কত হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি কেজি কাঁচামালের দাম আগে কী ছিল, এখন কী হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আগে যেটি ৪ ডলারে কিনত, এখন ৮ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে শুল্ক কমানোর দাবি জানায়। তিনি বলেন, সারা দেশে আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। স্বল্পসংখ্যক লোকবল দিয়ে পরিপূর্ণভাবে ফার্মেসি নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। দেশে শুরু থেকেই ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাদের ওষুধ লিখতে অনুরোধ করে। এই চর্চা থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা কঠিন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
তবে ওই বৈঠকের পরেও ওষুধের দামে প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর কয়েকটি ফার্মেসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনেরিক নাম ‘অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মিলিগ্রামের’ প্রতিটি ট্যাবলেট ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। যা নিউমেনিয়া, টাইফয়েড, ব্রঙ্কাইটিস ও সাইনাসের প্রদাহ রোধে ব্যবহার করা হয়।
সেফুরোক্সাইম গ্রুপের ওষুধ সাধারণত সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে নাক, কান, গলা এবং মূত্রথলির সংক্রমণে চিকিৎসক এই ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। গত চার মাসে তিন দফা দাম বেড়েছে। শুরুতে প্রতি পিস বিক্রি হতো ৫৫ টাকায়। গত মাসে তা বেড়ে ৬০ করা হয়। আর এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৬৫ টাকায়।
সেফিক্সাইম গ্রুপের ২০০ মিলিগ্রামের প্রতিটি ক্যাপসুলের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। ৪৫ টাকার সেফিক্সাইম ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল এখন ৫৫ টাকা। বিসোপ্রোলল ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি পিসের দাম বেড়েছে দেড় টাকা। আগে যেখানে বিক্রি হতো ১০ টাকা এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১১টায়। অ্যামলোডিপাইন বেসিলেট ৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট প্রতি পিস ৫ থেকে বেড়ে ৬ টাকা হয়েছে। ডক্সোফাইলাইন ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট প্রতি পাতা ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে।
এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেফাক্লাভ ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতিটি ওষুধের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। প্রতি পিস ৫০ টাকা বিক্রি হতো। তা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। ভিটামিন জাতীয় ট্যাবলেট নিউরো-বি প্রতি প্যাকেট (৩০ পিস) ২৭০ টাকা বিক্রি হতো। এই সপ্তাহে তা বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। ক্যালসিয়াম সমস্যাজনিত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট+ভিটামিন ডি ট্যাবলেট প্রতি পিস ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১১ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া জীবন রক্ষাকারী কিছু বিদেশি ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন প্রদাহজনিত সমস্যা সোলু মেড্রল ৫০০ মিলি ইনজেকশনের দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। প্রতিটি ইনজেকশনের দাম একলাফে ৬০০ টাকা বেড়েছে। সোলু মেড্রল ইনজেকশন ২ হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
শাহবাগের মেসার্স মেডিকোর্সের মালিক তাওহীদুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ওষুধের দাম বাড়ছে। ফলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না।
সোল ফার্মার ম্যানেজার এসআই সবুজ সময়ের আলোকে বলেন, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে ওষুধের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩ গুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে কয়েকটি এন্টিবায়োটিকের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে ওষুধ অন্যতম। অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে ওষুধের দামও বেড়ে গেছে। ওষুধ প্রস্তুতের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিশ^ব্যাপী সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু এ সুযোগে লাগামহীন দাম বাড়ালে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের মোড়কীকরণসামগ্রী, পরিবহন ও বিপণন ব্যয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য, ডলারের বিনিময়ে মূল্য ইত্যাদি বৃদ্ধির কারণে সার্বিকভাবে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে ওষুধের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওষুধের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা গ্রহণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কয়ার ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধের সবচেয়ে বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসহ আরও কিছু কোম্পানির ওষুধের মূল্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অতি প্রয়োজনীয় ও দৈনন্দিন চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত হয়Ñএমন ওষুধগুলোর মূল্য বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে ৪৪টি অতি প্রয়োজনীয় ও দৈনন্দিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়-এমন ওষুধের জেনেরিকের নাম উল্লেখ করে আগের ও বর্তমান মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আগে ৭০ পয়সা মূল্য ছিল, বর্তমানে তা ১ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট (র্যাপিড) আগে ৭০ পয়সা ছিল, বর্তমানে ১ টাকা ৩০ পয়সা, প্যারাসিটামল ৬৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট (এক্সআর) আগে ১ টাকা ৩১ পয়সা এবং বর্তমানে ২ টাকা ২০ পয়সা, প্যারাসিটামল ৬৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট (এক্সআর) আগে ১ টাকা ৪ পয়সা এবং বর্তমানে ২ টাকা ২৫ পয়সা, প্যারাসিটামল ৮০ মিলিগ্রাম ড্রপস ও ১৫ মিলিলিটার বোতল আগে ১২ টাকা ৮৮ পয়সা ও বর্তমানে ২০ টাকা, প্যারাসিটামল ৮০ মিলিগ্রাম ড্রাপস ও ৩০ মিলিলিটার বোতল আগে ১৮ টাকা এবং বর্তমানে ৩০ টাকা, প্যারাসিটামল ১২০ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সাসপেনশন/৬০ মিলিলিটার বোতল আগে ১৮ টাকা এবং বর্তমানে ৩৫ টাকা, প্যারাসিটামল ১২০ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সাসপেনশন/১০০ মিলিলিটার বোতল আগে ৩০ টাকা ৮০ পয়সা এবং বর্তমানে ৫০ টাকা। তাছাড়া মেট্রোনিডাজল ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আগে ৬০ পয়সা এবং বর্তমানে ১ টাকা, মেট্রোনিডাজল ২৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আগে ৯২ পয়সা এবং বর্তমানে ১ টাকা ২৫ পয়সা, মেট্রোনিডাজল ৪০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আগে ১ টাকা ৩৭ পয়সা এবং বর্তমানে ১ টাকা ৭০ পয়সা, মেট্রোনিডাজল ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আগে ১ টাকা ৬৬ পয়সা এবং বর্তমানে দুই টাকা, মেট্রোনিডাজল ২০০ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সাসপেনশন/৬০ মিলিলিটার বোতল আগে ২৬ টাকা এবং বর্তমানে ৩৫ টাকা, মেট্রোনিডাজল ২০০ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সানপেনশন/১০০ মিলিলিটার বোতল আগে ৩৪ টাকা ৯২ পয়সা এবং বর্তমানে ৪৫ টাকা, মেট্রোনিডাজল ৫০০ মিলিগ্রাম/১০০ মিলিলিটার ইনফিউশন/১০০ মিলিলিটার বোতল আগে ৭৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বর্তমানে ৮৫ টাকায়, এমোক্সিসিলিন বিপি ১২৫ মিলিগ্রাম/১.২৫ মিলিলিটার সাসপেনশন/১৫ মিলিলিটার বোতল আগে ২৬ টাকা ৩৪ পয়সা এবং বর্তমানে ২৫ টাকা, এমোক্সিসিলিন বিপি ১২৫ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সাসপেনশন/১০০ মিলিলিটার বোতল আগে ৪১ টাকা ৪০ পয়সা ও বর্তমানে ৭০ টাকা, এমোক্সিসিলিন বিপি ২৫০ মিলিগ্রাম/৫ মিলিলিটার সাসপেনশন-জিএস/১৫ মিলিলিটার বোতল আগে ৬৭ টাকা ৯৪ পয়সা এবং বর্তমানে ১০০ টাকা, এমোক্সিসিলিন বিপি ২৫০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল আগে ৩ টাকা ১৫ পয়সা এবং বর্তমানে ৪ টাকা, এমোক্সিসিলিন বিপি ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল আগে ৫ টাকা ৯০ পয়সা ও বর্তমানে ৭ টাকা ৪ পয়সা, এমোক্সিসিলিন বিপি ৫০০ মিলিগ্রাম ইনজেকশন আগে ২৪ টাকা ২০ পয়সা এবং বর্তমানে ৫৫ টাকা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ২০১৭ সালে হার্টের রিংয়ের (স্টেন্ট) সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ হাজার ও সর্বোচ্চ মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সংস্থাটি নির্ধারিত মূল্য তালিকা হাসপাতালের প্রকাশ্য স্থানে টানানোরও নির্দেশনা প্রদান করে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন ধরনের হার্টের রিং রোগীদের কাছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ওষুধের মোট উৎপাদন ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ অনৈতিকভাবে ব্যয় হয়। চিকিৎসকরা যাতে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লেখেন সে জন্য কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের নানা অনৈতিক সুবিধা দেয়, এতে অনৈতিক বিপণন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করে এই অনৈতিক বিপণন ব্যয় মেটাতে হয়। সুত্র: সময়ের আলো
Leave a Reply