
অনলাইন ডেস্ক: দেশের পোল্ট্রি খাত লুটে খাচ্ছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অভিযোগ করে ক্ষুদ্র খামারিরা বলেছেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহযোগিতায় এই খাতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে। ছোট খামারি ও ডিলাররা পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটালেও আজ তারা অসহায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ৫০ লক্ষ প্রান্তিক উদ্যেক্তা জিম্মি হয়ে পড়েছে গুটি কয়েক ব্যাক্তির কাছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ) এর উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ এবং কর্পোরেট কোম্পানীর সিন্ডিকেট ভাঙ্গার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি করেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) প্যারাগন, আফতাব, নারিশ,কাজী, নাহার, সিপি, পিপলস ও ব্রিডার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (বিএবি), ফিড ইন্ড্রাস্টিজ এসোসিয়েশন (ফিআব) কারনে প্রান্তিক খামারিদের মুরগি বাজারে আসলে দাম কমে যায়। যে কারনে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি শেখ মাহবুবুর রহমান, চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার সভাপতি সানাউল্লাহ, কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি নুরুল ইসলাম, খুলনা জেলার সভাপতি অমিত রায়, রাজশাহী জেলার সভাপতি ইয়াসিন, ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মকবুল হোসেন সাগর, টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি ফরহাদ হোসেন সহ অন্যান্য সকল জেলার নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ভুট্টার দাম ২০২১ সালে দাম ছিল ২৮ টাকা কেজি, ৫০ কেজির ১বস্তা পোল্ট্রি ফিডের ছিল ২৫০০ টাকা,২০২২ সালের শুরুতে ভট্টার দাম ছিল ২৮ টাকা, ৫০ কেজির ১ বস্তা ফিডের দাম ছিল ২৭০০ টাকা, ২০২২ সালের উক্রেন রাশিয়া যুদ্বের দোহাই দিয়ে লাগাম হীন ফিডের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয় লাস্ট ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ভুট্টার দাম হয় ৪১ টাকা পোল্ট্রি ফিডের দাম পৌঁছায় ৩৭৪০ টাকায়। কিন্তূ মার্চ ২০২৩ থেকে ভুট্টার দাম কমে দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৬ টাকায় পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনে ৬০ শতাংশ ভুট্টা প্রয়োজন হয় সেই ভুট্টার দাম কমেছে কেজিতে ১৬ টাকা এবং অন্য উপাদান ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড উৎপাদনের সকল পণ্যের দাম কমেছে ১০ থেকে ১২টাকা কিন্তু সকল পণ্যের দাম কমার দুই মাস পরেও কোম্পানি গুলো।
তিনি বলেন, আসছে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বাজেটে বাজারের শেয়ারের ২০ শতাংশ ডিম মুরগি উৎপাদন কারি সিন্ডিকেট কর্পোরেট গ্রুপের সকল সুযোগ সুবিধা বাতিল করে। ডিম মুরগি উৎপাদনে ৮০ শতাংশ শেয়ারের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের সুরক্ষা দিতে হবে ক্ষুদ্র খামারিদের ১০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে সকল ব্যাংক থেকে ঋণ এর ব্যবস্থা করে উৎপাদনে ধরে রাখতে হবে। তা না হলে এক ভবিষ্যতে আমিষের ঘাটতি দেখা দিবে। ডিলার খামারিরা ব্ল্যান্ক চেকের মাধ্যমে জিম্বি হয়ে পড়েছেন কোম্পানির কাছে। সিন্ডিকের বিরুধ্যে শাস্তির ব্যবস্থা না হলে ডিম মুরগি বেশি দামে কিনে খেতে হবে জিম্বি হয়ে পড়বে ভোক্তা ও বাজার ব্যবস্থা। পোল্ট্রি খামারিদের রক্ষায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ডি এল এস এর কর্মকর্তাদে কোন ভূমিকা দেখছি না। তারা কর্পোরেটদের সহযোগিতা করে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন।
এমন কি তারা পোল্ট্রি নীতিমালা ২০০৮ খসড়া করে বাজার সিন্ডিকেটের যন্ত্র কন্ট্রাক ফার্মিং কে বৈধতা দিতে যাচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্থিতিশীল বাজার রাখতে হলে কোম্পানি গুলো ফিড ও বাচ্চা উৎপাদন করে ১০০ ভাগই। তাই করবে এবং তাদের কন্ট্রাক ফার্মিং ও কোম্পানিদের ডিম মুরগি উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। প্রান্তিক খামারিরা ডিম মুরগি উৎপাদন করবে কখনো বাজার সিন্ডিকেট হবে না।খামারিদের সংগঠন বিপিএ দীর্গ দিন ধরে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে ও বাণিজ্য মন্ত্রীর এবং সচিব মহাদয় সহ প্রাণিসম্পদে এবং ভোক্তা অধিদপ্তর সহ সকল কর্মকর্তাদের অবহিত করে স্বারক লিপি প্রধান করে পোল্ট্রি বোর্ড ও মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার দাবির জানানোর পরিপেক্ষিতে খামারিদের উৎপাদিত ডিম মুরগি পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদন খরচ সমন্বয় করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে কমিটি করতে বলা হয় প্রাণিসম্পদের কর্মকর্তাদের।
সুমন হাওলাদার বলেন, সেই কমিটি কর্পোরেট সিন্ডিকেটদের আদিপত্তর বিস্তার। সেখানে খামারিদের সংগঠন বিপিএ এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মূল্য নির্ধারণ দুইটি মিটিংএ সশরীরে উপস্থিত থাকলেও তাদের মতের সাথে মিল না হওয়ায় রাখা হয়নি কমিটিতে। রাখা হয়েছে ২০ শতাংশ উৎপাদনকারি কর্পোরেট গ্রুপের কয়েকটি এসোসিয়েশন ও এস এম এস দিয়ে যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তাদের নিয়ে কমিটি করা হয়। সাবেক ডিজি ও কর্পোরেটদের হস্তক্ষেপে প্রাণিসম্পদের পক্ষ থেকে রাখা হয়নি ৮০ শতাংশ ডিম মুরগি উৎপাদন কারি প্রান্তিক খামারিদের । কমিটির প্রধান করা হয়েছে কর্পোরেটদের মুখপাত্র এবং এস এম এস দিয়ে বাজার নিয়ন্তন কারি বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনে সংগঠনের উপদেষ্টা প্রাণিসম্পদের সাবেক ডিজি মোসাদ্দেক হোসেনকে। কর্পোরেটদের এসোসিয়েশন গুলো নিয়ে গঠন করা হয়েছে ডিম মুরগির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ কমিটি।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক খামারিদের রক্ষায় প্রাণিসম্পদের ডি এল এস কে দায়িত্ব দিলেও তাদের সাথে খামারিদের যোগাযোগ নেই এমন কি প্রান্তিক খামারিদের খামার নিবন্ধন সহ খামার করার জন্য নিরুসাহিত করা হয়। প্রাণিসম্পদের গুটি কয়েক কর্মকর্তা ও কর্পোরেট গ্রুপের এসোসিয়েশন গুলোর বিরুদ্বে তদারকি করে শাস্তির ব্যাবস্থা করুন। পোল্ট্রী শিল্পের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পোল্ট্রি শিল্পের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন। পোল্ট্রি শিল্প ও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদনে ধরে রাখুন বৃহত্তর ৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান রক্ষা করুন।
Leave a Reply