
অনলাইন ডেস্ক: মানুষ অনেক আমল করে কিন্তু কোন সময় আমল করলে কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা বেশি তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি আমলেরই নির্দিষ্ট সময় আছে আবার আমল না করারও কিছু সময় আছে। একজন মুসলমানের কর্তব্য, আমলের উপযুক্ত সময়, আমলের মাকরুহ সময় ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মতান্ত্রিক ইবাদতের পাশাপাশি এমন কিছু সময় রয়েছে যখন বান্দার আমল বিশেষভাবে কবুল হওয়ার আশা থাকে। আল্লাহর রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম এসব সময় কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। মুমিন বান্দা এ সময়গুলো কাজে লাগিয়ে রবের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত বিষয় পাস করিয়ে নিতে পারে। বিশেষ সময়গুলো হলো-
রাতের শেষ প্রহর: রাতের শেষ প্রহর মুমিনের জন্য সুবর্ণ সময়। এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার অনেক নিকটবর্তী থাকেন এবং দোয়া কবুলের আহ্বান করতে থাকেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন-কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি : ১১৪৫)।
বিশেষ পাঁচ রাত: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমন পাঁচটি রাত রয়েছে, যে রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না-১. জুমার রাত ২. রজব মাসের প্রথম রাত ৩. শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ শবে বরাত ৪. ঈদুল ফিতরের রাত ৫. ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭৯২৭)
সূর্য ঢলে পড়ার পর নামাজ: হজরত আবদুর রহমান বিন সায়িব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য ঢলে পড়ার পর জোহরের আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এ সময় আসমানের দুয়ারগুলো খোলা হয়। আমি পছন্দ করি এ সময় আমার কোনো নেক আমল ওপরে উঠুক।’ (রিয়াজুস সালিহিন : ১১১৭)
নামাজের জন্য অপেক্ষা: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। তারপর যারা চলে যাওয়ার চলে গেল এবং যারা থেকে যাওয়ার থেকে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এত দ্রুতবেগে এলেন যে তাঁর দীর্ঘ নিশ্বাস বের হতে লাগল। তিনি তাঁর দুই হাঁটুর ওপর ভর করে বসে বলেন, ‘তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের প্রতিপালক আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলেছেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরজ আদায়ের পর পরবর্তী ফরজ আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।’ (ইবনে মাজা : ৮০১)
নফল রোজা পালন : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না-১. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ২. রোজাদারের দোয়া, যখন সে ইফতার করে ৩. অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। আল্লাহ একে (মজলুমের দোয়া) মেঘমালার ওপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জত ও সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব।’ (তিরমিজি : ২৫২৬)
কালেমা পাঠ: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘কোনো বান্দা একনিষ্ঠতার সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললে তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খোলা হয়। ফলে ওই কালেমা আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যতক্ষণ সে কবিরা গুনাহ ত্যাগ করে।’ (তিরমিজি : ৩৫৯০)
Leave a Reply