
অনলাইন ডেস্ক: ভূমিকম্পে ভবন দুলে উঠতেই ঘুম ভেঙে যায় দক্ষিণ তুরস্কের আদানা শহরের বাসিন্দা নিলুফার আসলানের। একটি পাঁচতলা ভবনে থাকেন তিনি। ভূমিকম্পের মাত্রা বুঝে নিলুফার ধরেই নিয়েছিলেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউই আর বাঁচবে না। তাই প্রতিবেশী স্বজনদের ডেকে বলেন, ‘ভূমিকম্প হচ্ছে। চলো, আমরা অন্তত সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় মরি।’
তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থানীয় সময় ভোরে ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গাজিয়ান্তেপে।
ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে, তখন ওই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ছিল ঘুমন্ত। নিলুফার আসলান বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমাদের ভবন প্রায় এক মিনিট পর্যন্ত দুলেছে।’

ভূমিকম্প থামতেই নিলুফার ভবনটি থেকে দৌড়ে বের হন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের সঙ্গে কিছুই নিতে পারিনি। বাইরে বেরোনোর পর দেখি ঘরে পরার স্যান্ডেল পরে আছি।’
বাইরে বের হয়ে নিলুফার দেখেন, আশপাশের চারটি ভবন ভেঙে পড়েছে।
ঘটনার সাক্ষী স্থানীয় লোকজন এভাবেই ভূমিকম্পের পর নিজেদের আতঙ্ক ও বিস্ময়ের কথা প্রকাশ করে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাসিন্দা সামের বলেন, দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো নিচে পড়ে যায়। প্রচণ্ড আতঙ্ক নিয়ে ঘুম ভেঙে যায়।
তুরস্কের গাজিয়ান্তেপের বাসিন্দা এরদেম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘শিশুদের যেভাবে দোলনায় দোল দেওয়া হয় আমার তখন সে রকম অনুভূতি হচ্ছিল। আমার ৪০ বছর বয়সে এমন কিছু কখনো দেখিনি। সবাই হয় নিজেদের গাড়িতে বসে ছিল, না হয় উন্মুক্ত জায়গায় যেতে গাড়ি নিয়ে ছুটেছে। আমি মনে করি, এখন একজন মানুষও নিজের ঘরে নেই।’

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিককে পাজারসিকের বাসিন্দা নিহাত আলতুনদাগ বলেন, ‘আমার চারপাশেই ছিল ভেঙে পড়া ভবন। অনেক ভবনে আগুন লেগে গিয়েছিল। শুধু ভেঙে ভেঙে পড়ছে এমন ভবনও ছিল। আমি এখন যেখানে সেখান থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরেই একটি ভবন ধসে পড়েছে। সবাই বাইরে রয়েছে, সবাই ভীত।’ সূত্র : বিবিসি
Leave a Reply