
অনলাইন ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। কাল বাদে পরশু অর্থাৎ রোববার পাঁচ বছর পর প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নির্বাচনের দিন আবহাওয়া নিয়ে ভোটারদের কৌতূহল রয়েছে। কারণ ভোর থেকেই ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করবেন। শীতের সকালে তিনি কী পরিধান করবেন তা অনেক সময়ে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ভোরে কুয়াশা থাকলেও, সূর্যের দেখা মিলবে। ফলে সকালে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে ঢাকার বাইরে কুয়াশা কাটতে বেশ সময় নেবে। সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি আরেকটু বাড়বে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় একই সময়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
এদিকে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে ১১ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে। এ ছাড়া অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা। অনেক স্থানে বীজতলা বাঁচাতে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজ চলাচলে দেরি হচ্ছে। এমনকি অনেক ফেরি ঘাট বেশ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফ্লাইট ল্যান্ডিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারছে না। সেগুলো দেশে ও দেশের বাইরে কাছাকাছি বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করছে। বৃহস্পতিবার ১৩টি ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে সিলেট, কলকাতা, হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এর ফলে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। আর যাত্রীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট নামতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ জেলায় তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। হিমেল বাতাসের সঙ্গে কনকনে শীতে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার কুয়াশা কিছুটা কম ছিল। তার পরেও রাতে বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়েছে কুয়াশা। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন এ অঞ্চলের শ্রমজীবী, ছিন্নমূল ও দরিদ্র লোকজন। হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি কাহিল হয়ে পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশু ও বয়স্করা। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নদ-নদী অববাহিকা বিশেষ করে চরের বাসিন্দাদের অবস্থাও করুণ। শীত ও কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা কাজে যেতে না পারায় সংসারে কষ্ট বেড়েছে দিনমজুরদের।
কুড়িগ্রাম জেলা সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের হোটেল শ্রমিক আজগার আলী বলেন, ‘মুই হোটোলোত কাজ করোং, সবসময় পানির কাজ করা নাগে। ঠান্ডাত হাত-পাও বরফ হয়ে যায়। কয় দিন থাকি থেকে ঠান্ডা খুব বেশি হইছে। কিন্তু কী করমো, পেটের দায়ে অনেক কষ্ট সয়াও কাজ করোং।’
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৩৬৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৭১ জন এবং শীতজনিত রোগী রয়েছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আজ (গতকাল) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ মাসে ২-১টি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
এদিকে শীতার্ত দরিদ্র মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে ৪২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসের মাধ্যমে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশায় টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে এ রুটে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।
এর আগে বুধবার রাত সোয়া ৯টা থেকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দীর্ঘসময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়ার সহকারী ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহিম জানান, কুয়াশার ঘনত্ব কমে যাওয়ায় সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে কুয়াশায় কিছুই দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে রাত সোয়া ৯টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।
Leave a Reply