
অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমের জেলাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির পর কাঁচা মরিচের দাম কমে এসেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম হয়েছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আর খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল এক হাজার টাকা দরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির পর দাম পড়তে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার খরিপ মৌসুমে যশোর জেলায় ৬৮০ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১ হাজার ৭৩৭ হেক্টরে, মাগুরায় ৬২৬ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ৩ হাজার ৩৮৬ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ৮৩৯ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। চাষ শুরুর পর দীর্ঘ তাপপ্রবাহ শুরু হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় মরিচগাছে ফুল-ফল ধরা বন্ধ হয়ে যায়। গাছ কুঁকড়ে মরে যায়। এতে উৎপাদন একেবারে কমে যায়। হাট-বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের আমদানি একেবারেই কমে যায়। ফলে দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। শনিবার ঝিনাইদহের শৈলকূপা হাটে কথা হয়
গোবিন্দপুর গ্রামের চাষি গোলাম কিবরিয়া ও হাসান অলির সঙ্গে। গোলাম কিবরিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। গাছে ফুল ও ফল ধরা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ১৫ কেজি কাঁচা মরিচ হাটে এনে পাইকারি প্রতি কেজি ১২৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আর হাসান আলি বলেন, ১০ কাঠা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। ১৫ কেজি হাটে এনে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এদিন শৈলকূপা হাটে খুচরা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। যশোরের সবচেয়ে বড় সবজির হাট বারিনগরে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান হৈবতপুর গ্রামের চাষি ইজাজুল ইসলাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, টানা খরার কারণে মরিচগাছের ফুল ও ফল ঝরে পড়ে। উৎপাদন কমে যায়। বৃষ্টির পর গাছগুলো সতেজ হয় । সেই সঙ্গে ফুল ও ফল ধরা বেড়ে গেছে। উৎপাদনও বেড়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply