
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অনেক জমির বরো ধানে কালো চিটা দেখা দিয়েছে। ফলে এবার উৎপাদন হ্রাসের আশংকা করছেন কৃষকরা। ধানের পরিপক্ক হওয়ার সময়ে মাত্রারিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধানের দানা গঠণ প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্থ করে। এতে অর্ধপুষ্ট দানার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবার দীর্ঘদিন ধরে তাপপ্রবাহ চলতে থাকে । ‘হিট শকের’ কারণে ধানের চিটা হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছেন।
শিবালয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবছর ৭ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে বরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশী আবাদ করা হয়েছে ব্রি-৮৯ জাতের ধান। এছাড়া ব্রি-৯২, ৮৮, ৫৮ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। এসব ধানের এবার উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন।
ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এমনিতেই এ অঞ্চলের জমিগুলো নীচু হওয়ায় ধানের আবাদ এবং কাটতে দেরি হয়। যেসব জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে সেগুলো কিছু কিছু কাটার প্রক্রিয়া চলছে। ব্রি-২৯ জাতের ধান এখনো মাঠে আছে। এসব জাতের ধান ফুলে বের হচ্ছে, আবার কিছু জমির ধান আধা পাকা।

তবে আগে রোপনকৃত এবং ব্রি-৫৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব অনেক জমির ধানে কালো চিটা দেখা দিয়েছে। এতে ধানের উৎপাদন হ্রাসের আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক কৃষকরা অক্ষেপ করে বলেছেন, এবছর আমরা বেশী দামে সার, বীজ, কীটনাশক ক্রয় করে বরো আবাদ করেছি। এরপর যদি ধানে চিটা হয় তা হলে আমাদের মরা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এক বার ধান উৎপাদন করে সারা বছর সংসার পরিচালনা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে এবছর সংসার পরিচালনা নিয়ে মহা চিন্তিত রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ এসব কৃষকরা।
বোয়ালী গ্রামের কৃষক বাচ্চু শেখ বলেন, সার,কীটনাশক এবং সময় মতো সকল ধরনের পরিচর্যা করার পরও তার চাষকৃত আড়াই বিঘা ধানের মধ্যে এক বিঘা ধানে কালো চিটা হয়েছে। এরকম চিটা এটাই প্রথম, এর আগে কখনো দেখেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, এবার আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। প্রথম অবস্থায় ভালই ছিল। কিন্ত এখন আস্তে আস্তে ধানে কালো চিটা দেখা দিচ্ছে। কি কারণে এটা হচ্ছে তা আমি বলতে পারছি না।
কাশাদহ সেচ প্রকল্পের রাখালি মো. ইমান আলী বলেন, এ প্রজেক্টের অনেক জমির ধান কালো চিটা হয়ে যাচ্ছে। ধানের পেট বা থরের মধ্য থেকেই বের হচ্ছে কালো ধান। কি কারণে এরকম হচ্ছে তা তিনি বলতে পারেনি। এবছর এ প্রজেক্টে একেবারে সর্বনাশা হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মশিউর রহমান আওয়াল বলেন, হাইবিট ধান ফুলে বের হওয়ার পর কালো চিটা হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এর কারণ কি তা কৃষকরা বলতে পারছে না। এমতাবস্থায় উৎপাদন কম হওয়ার আশংকা করছেন তিনি।
শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন তাপপ্রবাহ থাকায় ধানগুলো পরাগায়নে সমস্যা হচ্ছে। ধানগুলো যখন থোর থেকে বের হচ্ছে তখন আবহাওয়াগত এবং অত্যাধিক তাপও প্রবাহের কারণেই এ ধানগুলোতে কালো চিটা হয়েছে।
Leave a Reply