
মোঃ শাহানুর ইসলামঃ মানিকগঞ্জে ব্রিধান-৮৯, ৯২, ১০০(বঙ্গবন্ধু ধান ) বিনা ধান-২৫ এর নমুনা শস্য কর্তন ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিতহ হয়েছে।
জেলা শহরের রহমতপুর পূর্বদাশড়া পটলবিল এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সদরউ পজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ খামার বাড়ির উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েতউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা খামার বাড়ির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ জয়নাল আবেদীন।
প্রধান অতিথি বলেন,আমাদের দেশে প্রতি বছর ২৫ হাজার কোটি টাকার ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। বর্তমানে গবেষনার মাধ্যমে আমাদের যে নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন হচ্ছে তাতে এ জাতগুলো কম সময়ে উৎপাদন হয় এবং বাড়তি সময়ে আরো একটি ফসল উৎপাদন করা যায়। আমার এ সব ধান আবাদের আগেই উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করতে পারি এবং বর্তমানে করাও হচ্ছে। এতে কৃষকও যেমন লাভ বান হবে ঠিক তেমনি ভোজ্য তেল আমদানি বাবদ দেশের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। আগামী ৩ বছরে আমারা প্রায় আমদানির অর্ধেক টাকা বাচাতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ডিডি আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ বলেন, ১বিঘা জমিতে আমাদের“শস্য বিন্যাস” নিয়ম অনুসরন করে একজন কৃষক বছরে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বেশি আয় করতে পারেন। আমরা আছি আপনাদের সাথে যে কোন প্রয়োজনে।
অতিরিক্ত উপ পরিচালক(শস্য) ড.মমতাজ সুলতানার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এসএম সোহরাবউদ্দিন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মোঃ আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মোঃ আব্দুল মালেক।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন,অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মোঃ কে,এমকাউসার হোসেন,মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমতিয়াজ আলম, এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক মাহবুব ইসলাম রুনু, মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আব্দুর রাজ্জাক রাজা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহের তাহমিন দিলরোজ সেতু, কৃষক আব্দুল্লাহ আল মুরাদ সেলিম, কৃষক মোঃ সাইফুল ইসলাম ,কৃষানী মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ডিডি আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ জানান,এবছর মানিকগঞ্জে ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। এবার উন্নত জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৪৮,৭৭৫ হেক্টর জমিতে। ব্রি-৮৯ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে এবং হেক্টর প্রতি ৮,৫ হতে ১০.৫ মেঃটন।ব্রি-৯২ আবাদ হয়েছে ৮হাজার হেক্টর জমিতে এবং হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৮.৫ হতে ১১ মেঃটন। ব্রি-১০০ আবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টর জমিতে এবং হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৭.৮ মেঃটন।বিনা-২৫ আবাদ হয়েছে ৫০ বিঘা জমিতে এবং হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৭.৫ হতে ৮.১৬ মেঃটন। এবার এই উন্নত জাতের ধান আবাদ হয়েছে জেলার মোট উৎপাদনের ৭৭% এবং ব্রি-২৮,ব্রি-২৯ জাতের পুরোনো ধানের জাত আবাদ হয়েছে ২৩%।
সমাবেশে উপস্থিত কৃষক-কৃষানীরা জানান,নতুন নতুন জাত আবাদ করে আমারা লাভবান এবং আমার খুশি। এখন আর ধান আবাদ করে লোকসান গুনতে হয়না।
Leave a Reply