
অনলাইন ডেস্ক: কয়েক মাস ধরে যুগপৎভাবে আন্দোলন করলেও এখনও আন্দোলনের যৌথ রূপরেখা ঠিক করতে পারেনি বিএনপি ও শরিকরা। মাঠের চেয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা কিংবা বৈঠকে সরব দেখা যাচ্ছে। কর্মসূচি পালনের চেয়ে বেশি মনোযোগী দফা ঠিক করা নিয়ে। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সন্দেহ-শঙ্কা বাড়ছে। ছন্নছাড়া হচ্ছে আন্দোলন কর্মসূচি, জট লাগছে আন্দোলনে।
শরিকরা বলছেন, বিএনপি রমজানে তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই কর্মসূচি দিয়েছে। এ জন্য তারা যুগপৎভাবে কর্মসূচি পালন করছে না। আর বিএনপি বলছে, এত বড় আন্দোলনে উত্থান-পতন থাকবেই। যারা শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকতে পারবে তাদের নিয়েই নির্বাচনি বৈতরণী পাড়ি দেবে বিএনপি।
মাসকয়েক আগেও একাধিক জোট আর ছোট ছোট দলগুলোর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এসব জোট যুগপৎ আন্দোলনের শুরুর দিকে ছিল আলোচনায়। একে একে বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধে ৫৪টির মতো দল। জোটের এ বহর নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকেও শুনতে হয়েছে টিপ্পনী। কয়েকটি কর্মসূচির পর এখন জোটগুলোর তেজ ও ধার কমেছে। জোটের মধ্যে দেখা দিয়েছে মান-অভিমান।
দুয়েকটি দল ইতিমধ্যে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। আর যুগপৎ আন্দোলনের প্রধান বিএনপি তাদের এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে।
সম্প্রতি যুগপৎ আন্দোলনের শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বিএনপি ও সমমনা জোটগুলোর একে অপরের প্রতি আস্থার সংকট। এরই মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ যুগপৎ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় জোটের রাজনীতিতে এ সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা যৌথ রূপরেখা নিয়ে সম্প্রতি কয়েক দফা বৈঠক করেছি বিএনপির সঙ্গে। কিন্তু বিএনপি এখনও তাদের দিক থেকে চূড়ান্ত করতে পারেনি। তারা আমাদের সাত দফা দাবি নিয়ে অন্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছে। ঈদের পর হয়তো তা চূড়ান্ত আকারে ঘোষণা হতে পারে। তিনি বলেন, আন্দোলন কিছুটা ছন্নছাড়া হয়েছে; তা অস্বীকার করা যাবে না। এর কারণ রমজানে যেসব কর্মসূচি বিএনপি ঘোষণা করেছে তাতে আমাদের সায় ছিল না, কারণ এগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।
গণ-অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর সময়ের আলোকে বলেন, ‘আসলে এমন বৃহৎ আন্দোলনে দফা হওয়া উচিত একটাই। সরকারের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার করা। কিন্তু যুগপৎ শরিকরা কেন জানি ইদানীং দফা দফা করেই সময় শেষ করে দিচ্ছে। এত দফাটফা নিয়ে আন্দোলন হয় না। মানে এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, মাঠে প্রয়োগের চেয়ে তত্ত্ব নিয়েই বেশি ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। এতে ক্ষমতাসীনরা সুযোগ লুফে নেবে। আমাদের উচিত যত কম সময়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়।’
সাবেক এই ডাকসু ভিপি বলেন, ‘কিছু জনশক্তিহীন দল খুবই রিজিট পজিশনে আছে। তারা কাজের চেয়ে তর্ক বেশি করছে। বিএনপির কাছ থেকে আগেই কমিটমেন্ট চাচ্ছে; প্রেশার করছে। কিন্তু এখন সময় বৈশি^ক সমর্থন আদায় করা। আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া।’
সূত্র জানায়, বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সাত দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চকে। তাদের সঙ্গে দফারফা করতেই বেশ সময় যাচ্ছে। এ নিয়ে নাখোশ যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্য শরিকরা। তাদের বক্তব্য- বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চকে। এতে লাভের লাভ কিছু না। মাঠে তাদের লোকজন হাতে গোনা।
গণতন্ত্র মঞ্চের একজন নেতা বলেন, জাতীয় সরকার ইস্যুতে এখনও ঝামেলা রয়েই গেছে। কারণ বিএনপি বলছে এক আর আমরা বলছি আরেক। বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। জাতীয় সরকার গঠন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট না করায় এ দূরত্ব প্রকট হচ্ছে। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। এরই মধ্যে ১২টিরও বেশি কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এসব কর্মসূচিতে সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে নানা ইস্যুতে মতানৈক্য।
পহেলা এপ্রিল ও শুক্রবার যুগপৎ কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি গণতন্ত্র মঞ্চ ও কয়েকটি জোট। তাদের দাবি, সমন্বয়ের অভাবে একই দিন কর্মসূচি পালন থেকে সরে এসেছেন তারা। জাতীয় সরকারের ইস্যু নিয়ে বিএনপি অবস্থান পরিষ্কার না করায় আস্থার সংকট বেড়েছে বলে মনে করেন ১২ দলীয় জোটের নেতারা। জোটের সিনিয়র নেতা ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বিএনপি যে ওয়াদা করেছে, সেই ওয়াদা যে পালন করা হবে তার গ্যারান্টি কী। এগুলো আগেই চুকিয়ে নিতে হবে। সুত্র: সময়ের আলো
Leave a Reply