1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

শাবানে রমজানের আগমনি বার্তা

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ২৩১ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: রমজান মাসকে বলা হয় ইবাদাতের মৌসুম, তাই শাবান থেকেই রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরাম প্রস্তুতি শুরু করতেন। জাগতিক সব কাজ অনেকটা গুছিয়ে নিতেন এবং রমজান মাসকে কেবলই ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর জন্য সর্বপ্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন।

হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস শাবান। হাদিসের আলোকে বিভিন্ন বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্ব ও বরকতপূর্ণ একটি মাস। এই মাস মূলত পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস। কারণ এ মাস সমাপ্তির পরই রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসে পবিত্র মাহে রমজান। মূলত রজব ও শাবান মাস আসে রমজানের আগমনি বার্তা নিয়ে। মুসলিম জাতিকে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তাই রাসুলে করিম (সা.) রমজান মাসের জন্য দুই মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং রজব মাসের চাঁদ দেখেই রমজান মাসপ্রাপ্তির দোয়া করতেন-‘হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবানে বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন’ (মিশকাত : ১২১)। কারণ রমজান মাস পাওয়াটা প্রতিটি মুসলমানের জন্য খুবই আনন্দ এবং সৌভাগ্যের বিষয়। এই মাস পুরো মুসলিম জাতির জন্য বড় নেয়ামত। কেননা এ মাস কল্যাণের মাস। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার মাস। এই মাসে ইবাদতের মাধ্যমে পাপ-পঙ্কিলতাপূর্ণ আত্মাকে পরিশোধন করা হয় এবং স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির সেতুবন্ধ তৈরি হয়। তাই এই বরকতময় মাস আসার পূর্বেই রাসুল (সা.) নানাভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের রমজান মাসের ফজিলত বর্ণনা করতেন। এ মাস থেকে তাদের মধ্যে শুরু হয়ে যেত মাহে রমজানের প্রস্তুতি। শাবান মাসের বিশেষ গুরুত্বের কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) এ মাসকে ‘শাহরুর রাসুল’ তথা নিজের মাস বলে অভিহিত করেছেন।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শাবান হলো আমার মাস। যে ব্যক্তি শাবান মাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করল সে আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করল। আর যে আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, কেয়ামতের দিন আমি হব তার অগ্রবর্তী এবং নেকির ভান্ডার। আর রমজান মাস হলো আমার উম্মতের মাস।’ (শুয়াবুল ঈমান : ৩৫৩২)

শাবান মাসে পবিত্র রমজান মাসের আগমনি বার্তা সম্পর্কে হজরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসুল (সা.) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের ওপর এমন একটি মহান ও বরকতপূর্ণ মাস ছায়া বিস্তার করেছে, যাতে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম একটি মহামান্বিত রজনি রয়েছে। এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য রোজাকে ফরজ এবং রাতে নামাজ আদায় করাকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় একটি নফল কাজ করবে, সে ওই ব্যক্তির সমান সওয়াব পাবে, যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করেছে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করবে, সে ওই ব্যক্তির সমান সওয়াব পাবে, যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করেছে। সুতরাং রমজান মাস ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো একমাত্র জান্নাত। এটা পারস্পরিক সহানুভূতির মাস। এটা এমন এক বরকতপূর্ণ মাস, যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। আর এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে শুধু এক চুমুক দুধ অথবা একটি খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করাবে, এটা তার জন্য গুনাহ মাফের মাধ্যম হবে এবং নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। আর তাকে রোজাদার ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হবে। এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কম করা হবে না।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তির সঙ্গে ইফতার করাবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউসে কাউসার হতে পানি পান করিয়ে পরিতৃপ্ত করাবেন। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। আর এটা এমন মাস যার প্রথমভাগ রহমত, মধ্যভাগ ক্ষমা এবং শেষভাগে আছে জাহান্নাম হতে মুক্তি। আর যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনে চাকর-বাকরের কাজের ভার হালকা করে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করবেন। (মিশকাত : ১৮৬৮)

ইবাদত-বন্দেগির বসন্ত মাস রমজানের আগেই সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে যেত। ফলে সাহাবায়ে কেরাম শাবান মাসের চাঁদ দেখার পরপরই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করে দিতেন। যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতেন তারা বার্ষিক হিসাব কষে নেসাব পরিমাণ হলে জাকাত প্রদানের প্রস্তুতি নিতেন। বিশেষ করে রাসুল (সা.) এই মাসে রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ অধিক হারে নফল রোজা রাখতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের গোটা অংশ রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে অধিক পরিমাণ রোজা রাখতে দেখিনি’ (বুখারি : ১৮৬৮)। তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধারে এত বেশি রোজা পালন করতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর রোজা পরিত্যাগ করবেন না। আবার কখনো এত বেশি রোজা পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) রোজা পালন করবেন না। আমি রাসুলুল্লাহকে রমজান ব্যতীত কোনো পুরো মাসের রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোনো মাসে বেশি (নফল) রোজা পালন করতে দেখিনি (বুখারি : ১৯৬৯)। তাই রাসুল (সা.) সাহাবাদের জিজ্ঞেস করতেন, শাবানে রোজা রাখছে কি না। না রাখলে তার বদলে রমজানের পরে হলেও কয়েকটি রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। মোটকথা রাসুলে করিম (সা.)-এর কাছে নফল রোজার জন্য প্রিয় মাস ছিল শাবান মাস। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, নবী (সা.) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে কিছুদিন রোজা পালন করেছিলে?’ সে বলল, ‘না।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি তার বদলে রমজানের রোজা শেষ করে দুদিন রোজা পালন করবে।’ (মুসলিম : ২৬২৩)

তাছাড়া শাবান মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। এ বিবেচনায়ও রাসুল (সা.) এই মাসে বেশি নফল রোজা রাখতেন। যেন রোজা অবস্থায় আমলনামা পেশ করা হয়। হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে আপনাকে এত বেশি রোজা পালন করতে দেখিনি।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘এটি রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস। এই মাসের ব্যাপারে মানুষ গাফেল। অথচ এ মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি, রোজা অবস্থায় আমার আমল উত্তোলন করা হোক’ (নাসায়ি : ২৩৫৯)। তাই পবিত্র মাহে রমজানের প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে মানসিকভাবে গড়ে তোলার অপূর্ব সুযোগ শাবান মাস। এসব হাদিস থেকে এই নির্দেশনাই আমরা পাই। রমজান মাসকে বলা হয় ইবাদাতের মৌসুম, তাই শাবান থেকেই রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরাম প্রস্তুতি শুরু করতেন। জাগতিক সব কাজ অনেকটা গুছিয়ে নিতেন এবং রমজান মাসকে কেবলই ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর জন্য সর্বপ্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সমাজেও শাবান মাস এলে পবিত্র মাহে রমজানকে উপলক্ষ করে নানা প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে সেটা ইবাদাতের জন্য নয়, বরং ইবাদাতের পরিবর্তে রমজানকে নানা আয়োজন, ভোগ-উপভোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরাট মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে এবং এর জন্য রমজানের আগ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আল্লাহ তাদের সহিহ বুঝ দান করুন।

অতএব পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আমাদের প্রথমত দায়িত্ব হলো দৈহিক এবং মানসিকভাবে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং দোয়া করতে থাকা। শাবান মাসেই দুনিয়াবি সব ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া। বিশেষ করে যে কাজগুলো রমজান মাসে ইবাদত করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেগুলো এখনই সমাপ্ত করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, রমজানের মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে নিজে অবগত হওয়া এবং পরিবারকে অবগত করানো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :