
নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দেশ বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, যেকোনো মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে গেলে আমার কার্ড লাগে না আমার চেহারাটাই কার্ড।
২২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “এখানে আপনারা সবাই একেক জন নৌকার প্রতীক। বয়স্ক মানুষেরা যেভাবে স্লোগান দিলেন, এতে তাদের ভেতর যে আবেগ দেখা গেল; তাতে এই আবেগই প্রমাণ করে আপনাদের মতো মানুষদের কোনো কিছু দিয়েই কেনা যায় না। আমি রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতিবিদও না। আমার রাজনীতি হলো সেবামূলক। আমি তো শিল্পপতি না। আমি শিল্প মানুষ। গান গাই। গানের পয়সা দিয়েই যতটুকু পারি সেবা করার চেষ্টা করি। এই গানের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা আমাকে চিনেন। আমাকে ভালবাসেন। আর আমার ওপর আপনাদের দোয়া আছে বলেই আমার নেত্রী আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে আবারও আপনাদের মাঝে পাঠাইছেন।”
মমতাজ বেগম বলেন, আমি যা পারি, যা আনি সবই আপনাদের মাঝে বিলিয়ে দেই। আপনাদের হক আমি এক টাকাও মেরে খাই না। আমি শত শত কোটি টাকার কাজ করেছি। আজ কষ্ট লাগে, একটা গ্রুপ আজ বিভিন্ন জায়গার কালো টাকা নিয়ে এসে আপনাদের ভোট কিনতে চায়। তাদের একটা কথাই বলতে চাই, ১৫ বছরে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, এখান থেকে যদি পার্সেন্টেজ খাইতাম তাহলে আমার সাথে কি ওই কালো টাকাওয়ালারা পারতো? পারতো না। আমার হলো কষ্টের টাকা। আমি দুই টাকা খরচ করলেও কিন্তু আমার কষ্টের টাকা থেকেই করি। অতএব একটা বিষয়ে শান্তিতে আছি যে, আমার পাশে আপনারা যারা আছেন, তারা সবাই এটা জানেন। আর জানেন বলেই আমার ওপর এই চাপটা একটু কম। আমার চারপাশের নেতাকর্মীরা কিন্তু নিজেরাই খরচ করে। ভবিষ্যতে এ রকম নেতৃত্বই দরকার। যারা শুধু দেয় কিন্তু অবৈধভাবে টাকা পয়সা খায় না। আর এখন যারা কালো টাকা ছড়াইয়া এমপি হইব, ওরা একশো কোটি খরচ করলে এক হাজার কোটি কামাইয়া আবার বিদেশে পাচার করে দিব।”
মমতাজ আরও বলেন, “আমি কিন্তু সোনার চামুচ মুখে দিয়ে বড় হই নাই। এই এলাকায় আগে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ কোনো কিছুই ছিল না। আমরা তখন হেঁটে হেঁটে হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে গান করতাম। আজ কত সুন্দর রাস্তা হইছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাইছে। এটা আওয়ামী লীগ সরকার বলেই, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই সম্ভব হয়েছে। আমি কষ্ট করে, পরিশ্রম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছুই হয় না। সেই পরিশ্রম কিন্তু এখনও আমি করছি। তাই আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এমপি বানিয়ে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। উঠান বৈঠকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply