1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

শিবালয়ে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা জনদুর্ভোগ চরমে

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ২২০ বার পড়েছেন

শাহজাহান বিশ্বাস: প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়া ভুমি অফিস সংলগ্ন খোলা জায়গাসহ একাধিক স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া আরিচা বাসস্ট্যান্ড থেকে গরুর হাট পর্যন্ত বন্দর বাজারসহ কয়েকটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দকে পানি জমে যানবাহন চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এসকল সড়কগুলো দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল করা এখন কষ্টস্বাধ্য হয়ে পড়েছে।

সোমবার আরিচা ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে আরিচা ঘাটের  অন্যতম ব্যাস্ততম সড়ক এবং বন্দর বাজার রোডের অবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় বড় গর্তের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে একেবারে কাদা মগ্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের বড়-বড় গর্তের ভেতর দিয়ে হেলে দুলে চলছে ট্রাক, প্রাইভেটকার, সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, রিকশাসহ ছোটবড় অসংখ্য যানবাহন।

ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে গরুরহাট সড়কের অবস্থা বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সড়ক থেকে বৃষ্টির পানি সহজে নেমে গেলেও বড়ো বড়ো গর্তের মধ্যে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হতে দেখা যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে আরিচা ঘাটের উক্ত সড়কটি এখন যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

এছাড়া আরিচা ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাটের যাওয়ার যে এক মাত্র আঞ্চলিক সড়ক সেটি যেন এখন মরণ ফাঁদ। বিগত কয়েক বছর ধরে সড়কটির অবস্থা বেগতিক হলেও চলতি সময়ে আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে খানাখন্দকে ভরা এ সড়কটি দিয়ে ছোট ছোট কোন যানবাহান এবং  ট্রাক,লড়ি চলাচল করার কারণে সড়কটি যেন আরো মাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বোয়ালী বরকতের বাড়ি থেকে মোস্তফার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি এখন একেবারেই ব্যবহারের অনোপযোগী বলে মনে করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন সড়কটি মেরামত না করায় সাধারণ মানুষের চলাচল করাও যেন এখন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ইট বিছানো এ রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড়ো আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে কাদামগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরা করাও যেন কষ্টস্বাধ্য হয়ে উঠেছে। ভারি যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করার কারণে সড়কটি যেন দিন দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কষ্ট এবং ঝুকিপূর্ণ বলে রিক্সা ভ্যান চালকরা এ রাস্তা দিয়ে এখন যেতে চায়না।

অপরদিকে প্রয়োজনীয় ড্রেন না থাকায় বন্দর বাজার এলাকার মসজিদ মার্কেট থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কটিতে পানি জমে থাকায় মসজিদে মুসুল্লিদের যাতায়াতে অসুবিধাসহ পথচারিদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই বন্দর বাজারের মেইন পয়েন্টে সার্বজনিন মন্দরের সামনে এবং আরিচা ৪ নং ঘাটের কাছে ভাগ্যলক্ষী হোটেলের সামনে পানি জমে থাকে।

এছাড়া আরিচা ঘাটের অদুরে ময়দার মেল থেকে নিয়ালপুর টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তাটি যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এ রাস্তাটির বড় সমস্যা হচ্ছে পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। যে কারণে একটু বৃষ্টি নামলেই এ রাস্তাটি ডুবে গিয়ে নোঙরা পানিতে একাকার হয়ে যায়। বিগত কয়েক বছর ধরে সড়কটি ব্যবহার অনোপযোগী থাকলেও কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে রাস্তটি মেরামত করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিগত কয়েক বছর পূর্বে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ ঐ রাস্তাটিতে কিছু রাবিশ ফেলে এবং দায়সাড়া গোছের একটি ড্রেন নির্মাণ করে পথচারিদের চলাচলে কিছুটা উপযোগী করার চেষ্টা করে।কিন্তু মেরামতের কিছুদিন পরেই বৃষ্টিতে তাও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আবারও একই চিত্র এ রাস্তাটির। বর্তমানে ইট বিছানো এ রাস্তাটির অনেক জায়গা থেকে ইটগুলোও খোয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও আর কোন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জেলার পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আরিচা ঘাটের মানুষের জীবনের ঝুঁকি আরো প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে আরিচা ঘাটের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করলেও কারো যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সেদিকে এমনটাই মনেকরছেন সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা।

অটোরিকশা চালক আলী মুদ্দিন বলেন, এই সড়ক দিয়ে এখন আর গাড়ী চালানো যায় না। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ি মেরামত করে কুল পাচ্ছি না। আজ এইডা, কাইল ঐডা নষ্ট হয়ে যায়। সংসার চালামু নাকি গাড়িতে যন্ত্রপাতি লাগামু?”

সিএনজি চালক নাজমুল বলেন, একটু উনিশ বিশ অইলেই গাড়ী উল্টে যায়। প্রায় এই রাস্তাটিতে দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক যাত্রী আহত হয়। কিন্তু আরিচা ঘাটের এই রাস্তাটি মেরামত না করার কারণে আমরা এখন অসহায়। কি করমু না চালিয়েও পারি না। গাড়ি না চালাইলে সংসার কিভাবে চলবো। তাই বাধ্য হয়ে চালাই। আর না হয় এই রাস্তা দিয়া গাড়ি চালানো যায় না।”

এছাড়া আরিচা বন্দর বাজারের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তা। বিশেষ করে ভুমি অফিস সংলগ্ন ফাকা জায়গাটিতে প্রায় হাটু পানি জমে থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে ঐ এলাকয় দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের।

শিবালয় বন্দর বাজারের ব্যবসায়ী শুকুর আলী সিকদার বলেন, আরিচা ঘাট এব ঘাট সংলগ্ন যত রাস্তা রয়েছে এসব রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয়  ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি নামলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। পানি জমে থাকে আমাদের এলাকার মধ্যেও। তবে পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়েজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হলে এসব এলাকায় আর পানি জমে থাকবে না। বর্তমানে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। আমাদের অনেক কষ্ট হয় বলে তিনি জানা।’

তবে সাধারণ মানুষ বলছেন আরিচা ঘাট থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে নিলেও বন্দর বাজারের এসকল রাস্তা কেন দ্রুত মেরামত করছে না তা কারো বোধগম্য নয়। কারণ সবখানেই এখন উন্নয়নের ছোঁয়া। কিন্তু এসব রাস্তা কেন পড়ে রয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না। তবে এসব সড়কে মানুষ যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এর দায় কে নেবে? এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :