1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

ভরা মৌসুমেও দেশের নদীগুলোতে ইলিশের আকাল

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩
  • ৫৫৮ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: সাধারণত বর্ষাকালকে ইলিশের ভরা মৌসুম বলা হয়। এই সময়ে জেলেদের জালে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে এবং বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু উপকূলের নদ-নদী এবং সাগরেও আশানুরূপ ইলিশের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা। ফলে বাজারেও সেভাবে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও অনেক বেশি। ইলিশ ধরার সঙ্গে যারা যুক্ত তারা বলছেন, সাগরে ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তবে ২-৩ দিন ধরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর বরগুনা ও ভোলার মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন-উৎপাদন-বিচরণ বৃষ্টি, নদীতে স্রোত এবং পানির চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আমাদের বর্ষা মৌসুমে এখন হেরফের হচ্ছে। আগে বর্ষা মৌসুম ছিল আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। এখন বর্ষা মৌসুম সরে গিয়ে আগস্ট-সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরে চলে গেছে। যেহেতু ইলিশের উৎপাদন-প্রজনন সবকিছুই আবর্তিত হয় বর্ষা ঘিরে, তাই ইলিশের মৌসুমও সরে গেছে। একই সঙ্গে পদ্মা-মেঘনাসহ উপকূলের নদ-নদীতে প্রচুর অবৈধ জাল, ডুবোচর ও দূষণের কারণেও নদ-নদীতে ইলিশ আসতে বাধা পায়।

তবে মৎস্য অধিদফতর বলছে, এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এবার গতবারের চেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। তাই ধরাও পড়বে প্রচুর। বাজারে এখন ইলিশের সংকট থাকলেও অচিরেই তা কেটে যাবে। বৃষ্টি কম হওয়ায় কম ইলিশ ধরা পড়ছে। গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি বাড়ায় ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে।

মৎস্যসম্পদ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, জালে ইলিশ না ওঠায় হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বৃষ্টি ও নদীতে জোয়ারের চাপ ও স্রোত বাড়লে ইলিশ আসবে এবং ধরাও পড়বে। এ জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, সরকারের নানা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন অভয়াশ্রমসহ নানা উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন প্রতি বছর বাড়ছে। গত ১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন ২ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি বেড়েছে। ২০১১-১২ সালে দেশে ইলিশের উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিকটন। আর সবশেষ ২০২০-২১ সালে উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিকটন।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, সবশেষ গত বছরের ইলিশের প্রজনন সফলতা ৫২ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল। এর আগের বছরে প্রজনন সফলতা ছিল ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তার আগের বছর এটি ছিল ৫১ দশমিক ২ শতাংশ।

মৎস্য অধিদফতরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ১৯ মে শুরু হয়ে ২৩ জুলাই শেষ হয়েছে। এর পর দিন থেকেই জাল এবং ট্রলার নিয়ে নিয়মিত নদী এবং সাগরেও যাচ্ছেন জেলেরা। কিন্তু তারা আশানুরূপ ইলিশ নিয়ে ফিরছেন না। ফলে বাজারে যে ইলিশ সংকট ছিল, মৌসুম শুরুর পরও একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তবে গত ২-৩ দিন ধরে জেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতেও হাঁকডাক বাড়তে শুরু করেছে।

ভোলার মনপুরা প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোলার মনপুরা মেঘনা নদীতে কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা মেলেছে। আকাল কাটিয়ে ইলিশে ভরে উঠেছে মাছঘাটগুলো। গত এক বছরের মন্দা কাটিয়ে ইলিশ মাছের এমন প্রাচুর্যে হাসি ফুটেছে জেলে, ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের মুখে। জেলেপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলা ছোট-বড় মাছের আড়ত।

বুধবার উপজেলা বড় মৎস্য ঘাট জনতা বাজার, রামনেওয়াজ, ক্রসডেম এবং মাঝের ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে দেখা গেছে মেঘনা থেকে ছোট নৌকা ও বঙ্গোপসাগর থেকে একের পর এক মাছ বোঝাই ফিশিং ট্রলারগুলো এসে ভিড়ছে। শ্রমিকরা এসব ট্রলার থেকে মাছ আড়তে ওঠাচ্ছেন। সেই সঙ্গে হাঁকডাক আড়তগুলোতে লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। সেই মাছ চলে যাচ্ছে ঢাকা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও সোনাপুরসহ বিভিন্ন জেলায়।

জনতা বাজারের পাইকার নুর ইসলাম ঢালী বলেন, মনপুরায় বর্তমানে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ইলিশ ২৪-২৬ হাজার টাকা, ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ২৮-৩০ হাজার টাকা, ১ কেজি ওজনের প্রতি মণ ইলিশ ৪০-৪৫ হাজার টাকা এবং ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৬০-৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল ব্যুরো প্রধান এম মোফাজ্জেল জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরার ট্রলার বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড়লেও তৃপ্তির হাসি নেই জেলেদের মুখে। কারণ, চাহিদার অর্ধেক ইলিশও নেই ট্রলারে। বিগত দিনে ভরা মৌসুমের এই সময়ে ৫০-৭০ মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও এখন ১০-২০ মণ আসছে বলে জানান জেলেরা। শুধু সাগর নয়, নদীতেও ইলিশের দেখা নেই। এমনকি নেই অন্য দেশীয় প্রজাতির মাছও। আড়তদার জহির সিকদার বলেন, আমরা আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে সব জায়গায় ইলিশের সরবরাহ বাড়বে।

সোমবার বরিশাল নগরীর পোর্টরোডে দেখা যায়, ইলিশের পাইকারি আড়তগুলো ইলিশশূন্য। যতটুকু ইলিশ উঠছে, তার দাম অত্যধিক। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩৮২ টাকায়। ৬০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজিও ১ হাজার ৫০০ টাকার ওপরে।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ভরা মৌসুমেও ‘ইলিশ মোকাম’ হিসেবে পরিচিত আনোয়ারা উপকূলের রায়পুরের সরেঙ্গা, পূর্ব গহিরা, ফকিরহাট, গলাকাটা ঘাট, বাতিঘর, ধলঘাট, বার আউলিয়া, উঠান মাঝির ঘাট, দোভাষী ঘাট ও ছিপাতলী ঘাট, জুঁইদণ্ডী সাপমারা খালের মুখ এবং বারশতের পারকী বাজারসহ ১২টির অধিক ঘাটে মিলছে না ইলিশ।

গহিরা খুইল্যা মিয়ার ঘাট এলাকার মাঝি আনিস জানান, নিষেধাজ্ঞার এক দিন পর সাগরে বোট নামাই। চার দিন সাগরে মাছ ধরার পর তিন মণ ইলিশ ধরা পড়ে। মাঝি আনিস জানায়, গত দুই-তিন বছর ধরে মূলত বঙ্গোপসাগরে ইলিশের খরা চলছে। এই বছরও একই অবস্থা। তবে সামনে বৃষ্টি পড়লে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় জেলেরা কাক্সিক্ষত ইলিশ না পেলেও দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ চাঁদপুর মাঝঘাটে আসতে শুরু করেছে। এতে করে দেশের অন্যতম মৎস্য আড়ত বড়স্টেশন মাছঘাটে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দামও কিছুটা কমেছে। চাঁদপুর মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশ সোমবার ১৫শ-১৬শ টাকায় এবং এর বেশি ওজনের ইলিশ ২২শ-২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, মাছঘাটে ইলিশ না থাকায় দোয়ার আয়োজন পর্যন্ত করা হয়েছে। যা এখানকার ইতিহাসে এই প্রথম। ইলিশ দিন দিন কমে যাচ্ছে। চাঁদপুরে পানি কম, বৃষ্টি হয় না। আমরা আশাবাদী সামনে ৫শ থেকে এক হাজার মণ ইলিশ সরবরাহ হবে।

শওকত হোসেন নামের এক জেলে জানান, অন্যান্য বছর সাগরে সকালে নেমে বিকালে আসার সময় ৮-৯ মণ মাছ নিয়ে আসা যেত। এ বছর চার দিন সাগরে থেকে আসার পরও ৩-৪ মণের বেশি মাছ মিলছে না।

উপজেলা মৎস্য অধিদফতর জানায়, শুধু গহিরা এলাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার জেলে সাগরে নেমেছে। ছোট-বড় বোট রয়েছে প্রায় ৭০০টি।

অবস্থিত মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান  জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যথাসময়ে বৃষ্টি এবং নদীর পানি বাড়ছে না। মূলত ইলিশ গভীর জলে বিচরণ করে। নদীর পানি বৃদ্ধি না হওয়ার কারণে ইলিশ অবাধে বিচরণ করতে পারছে না। এ ছাড়া বর্তমান সময়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষার দূষিত পানি চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী হয়ে বয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এখানকার ইলিশ অন্যত্র সরে যাচ্ছে। তবে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। আগস্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জেলেরাও কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা পাবে।

মৎস্য অধিদফতরের ইলিশ শাখার প্রধান মাসুদ আরা মমি বলেন, আশা করি এবারও ইলিশের উৎপাদন ভালো হবে। কারণ এবার মাছ ধরা বন্ধের কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করা গেছে। শিগগিরই আশানুরূপ ইলিশের দেখা মিলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক জানান, উজানের পানির চাপ এবং মাছের পেটে ডিমের আকার বড় না হলে মাছ আসে না। মাছের বিচরণের রাস্তায় অনেক ডুবোচর তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া উজানের পানির চাপ কম হওয়ার কারণে মোহনায় ইলিশ আসতে কিছুটা সময় নিতে পারে। তবে সমুদ্রে প্রচুর মাছ রয়েছে, শিগগিরই প্রচুর মাছ ধরা পড়বে।

তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং গভীর সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। গতবারের চেয়ে এবার প্রচুর পরিমাণ জাটকা ইলিশ বড় ইলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রতি বছর আগের বছরের চেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে, এবারও পড়বে। সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :