
অনলাইন ডেস্ক:বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ১১ জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের খবর এসেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
রবিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বঙ্গোপসাগর উপকূলের কক্সবাজার শহর সংলগ্ন নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে মরদেহবাহী একটি মাছ ধরার ট্রলার ভেসে এসেছে। ট্রলার থেকে এ পর্যন্ত ১১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ভেতরে আরো মৃতদেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডস্থ সাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টে বোটটির অবস্থান রয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় ছেলেরা বঙ্গোপসাগরের গভীর এলাকায় ওই ফিশিং বোটটি দেখতে পায়। তারা শনিবার ঈদের দিন রাতে ফিশিং বোটটি টেনে নাজিরা টেক পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে এনে বোটের ভেতর তারা গলিত বেশ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলেদের থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটি দেখেন এবং সেখানে কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করেন। রবিবার সকালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের দলকে সঙ্গে নিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধারে যায় পুলিশ। সকাল থেকে চেষ্টা করে মরদেহবাহী ফিশিং বোটটি উপকূলের কাছে এনে দুপুরের পর থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার শুরু করে।
মো. রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, মাছ ধরার ফিশিং ট্রলারের কোলেস্টেরলজের ভিতরে থাকা মরদেহগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ উপায় সার্ভিস।
কী কারণে এ ঘটনা, তা বিস্তারিত জানাতে পারেনি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের এই কর্মকর্তা। তবে তিনি বলছেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
১৫-১৬ দিন আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে ডাকাতি করতে গিয়ে একদল জলদস্যু জেলেদের হামলার শিকার হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল স্থানীয়দের মাধ্যমে। হামলায় জলদস্যুরা মারা পড়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ওই দস্যুবাহিনীর বোটটি হাদিস পাওয়া যায়নি। সেসব জলদস্যুবাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী চকরিয়া ও বাঁশখালীর বলেও জানা গেছিলো।
ধারণা করা হচ্ছে, নাজিরার টেক পয়েন্টে ভেসে আসা বোটটি সেই বোট হতে পারে। তাই নাজিরটেক বোট আসার খবর পেয়ে নিখোঁজদের স্বজনরা সকাল থেকে নাজিরটেক এসে ভিড় করছে। ওই ফিসিং বোটের ভেতর ১৪-১৫টি পর্যন্ত মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply