1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা

নেত্রকোনায় গ্রামের সড়ক দখল করে ধান মাড়াই

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৭৮ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: নেত্রকোনা জেলার প্রধান প্রধান সড়কসহ জেলার গ্রামাঞ্চলের কাঁচা পাকা সড়কগুলোতে অবাধে ধান মাড়াই, ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। প্রধান সড়কের অর্ধেক রাস্তা খর ও ধান দিয়ে ব্লক করা হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সব রকমের যানবাহন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সকাল হলেই বিশেষ করে জেলার নেত্রকোনা-আটপাড়া ও দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা- মোহনগঞ্জ সড়কের পাশের কৃষষকরা খেত থেকে ধান কেটে রাস্তায় মাড়াই করে ও রাস্তার উপরে দুপাশেই ধান ও ধানের খড় শুকাচ্ছেন বিকাল অব্দি। আর বিকাল থেকে শুরু হয় রাস্তায় ঢেলে দেওয়া ধান বস্তায় করে তুলে বাড়ি নিয়ে যাওয়া। খরগুলোকে জরো করে রাস্তার পাশেই বড় বড় স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। শুকিয়ে গেলে অনেকে আবার বাড়িও নিয়ে যান।

কিছু দিন ধরে এভাবেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন স্থানীয়রা। প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে এভাবে রাস্তা গুলোর অর্ধেক জায়গা দখল করে ফসল শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। তাতে এসব সড়কে গাড়ি চলাচলের রাস্তা সরু হয়ে যায়। গাড়ি অভারটেকিং করাসহ নানা ধরনের সমস্যা হয়। ফলে সড়কে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এতে অনেকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সড়কে চলাচলকারীরা ও গাড়ি চালকরা। রাস্তা থেকে এসব দ্রুত অপসারণ করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন তারা। সড়কে যেন এভাবে কোন ফসল শুকানো না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে হারুন অর রশিদ নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, `রাস্তার উপর দু`পাশে বিভিন্ন সময় ধান, গম, ভূট্টা, ধানের খর শুকানোর ফলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

মাহিন্দ্র গাড়ি চালক বাবুল হক বলেন, `এভাবে রাস্তার উপরে ধান ও খর শুকানোর ফলে গাড়ির ব্রেক ঠিকভাবে ধরে না গাড়ি স্লিপ করে চলে যায়। এভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে ফলে মানুষ আহত ও নিহত হন। মোটর সাইকেল আরোহী ফারুক হোসেন বলেন, সড়কে অবাধে ধান ও খর শুকানোর ফলে অনেক মানুষের বিপদ হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরিভাবে প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ধান খড় দিয়ে রাস্তায় মরণ ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এভাবে এক্সিডেন্ট করে মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছে।

জীবনের ঝুঁকি থাকলেও বাড়িতে জায়গা সংকটের কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাস্তার উপর ধান মাড়াই করে ধান ও খড় শুকাচ্ছেন বলে জানান তারা।

লুৎফর রহমান নামে এক কৃষকের কাছে রাস্তায় ধান ও খর শুকানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়িতে জায়গা নেই। তাই উপায়ান্তর না পেয়ে  রাস্তায় ধান শুকাচ্ছি। আইয়ুব আলী নামে এক কৃষক বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল। বিভিন্ন কারণে বাড়ির আঙিনা গুলো কাদা হয়ে গেছে। এজন্য জীবনের ঝুঁকি থাকলেও কষ্ট হলেও ধান ও খর রাস্তায় শুকাইতে হচ্ছে। জেলার ছোট বড় রাস্তায়-রাস্তায় শুকানো হচ্ছে নতুন ধানের খড়। এতে আটকে আছে পুরো রাস্তা, এমনকি ঢেকে রাখা হয়েছে স্পিড ব্রেকারগুলো। গাড়ি চলাচলসহ মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রেও বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে দেখতে গেলে সরজমিনে পাওয়া গেছে এমনি চিত্র। রাস্তায় ধানের খড় শুকাতে দিয়েছে কয়েকজন। রাস্তার বেশির ভাগে জুড়েই ছড়িয়ে আছে ধানের খড়। এমনকি স্পীড ব্রেকার গুলোও বাদ রাখা হয়নি। প্রায় সম্পূর্ণ রাস্তাই খড়ে ভর্তি। যেভাবে রাস্তায় খড় মেলে দেওয়া হইছে, কোনো মোটরসাইকেল সাধারণ গতিতে থাকলেও বড় ধরণের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, মানছে না সাধারণ মানুষ। পথিমধ্যে এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, আমি সাধারণ গতিতেই মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম, “কিন্তু ধানের খড় থাকাতে ছিটকে পড়েছি, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হইনি। তবে পাকা চালক না হলে নিঃসন্দেহে বিপদ হবে।

জেলা প্রশাসককে রাস্তার উপরে ধান ও খর শুকানোর বিষয়টি অবগত করা হলে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘রাস্তার উপর  ধান শুকানোর কোনো সুযোগ নেই। রাস্তায় ধান ও খড় শুকানোর ফলে দুর্ঘটনার আশংঙ্খা কম নয়। তাই এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে মানুষদের সচেতন করা হবে। যাতে তারা রাস্তায় ধান ও খড় না শুকায়। তারপরও যদি কেউ কথা না শুনে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :