
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট সংলগ্ন শিবালয় হাট-বাজার থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয়হলেও সংস্কার না হওয়ায় রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ নানা ধরণের সংকট রয়েছে এ হাটটিতে। এবছরও ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ডাক হয়েছে শিবালয় হাট-বাজার। এর সাথে আরো ২৫% ভ্যাট যোগ করে রাজস্ব আয় হবে ৩কোটি ৬৬লাখ ২৫হাজার টাকা। বিশেষ করে শিবালয় মাছ বাজারের ড্রেনটি অকেজো হয়ে পড়ায় জমে থাকা পঁচা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বসেই মাছ বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে। ডেঙ্গু আতংকে ভুগছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধার্থে ২০০৪ সালে শিবালয় নিত্য বাজারের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন হাট বসানোর উদ্যোগ নেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এরপর থেকে নিয়মিত ধান ও গরুর হাট বসতে থাকে। প্রতিদিন ভোরে শুরু হয় কাঁচা তরি-তরকারি, দুধ, ডিম ও মাছের বাজার। এর মধ্যে বেশী গরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাছের বাজার এবং গরুরহাট।প্রতিদিন স্থানীয় এবং দুর-দুরান্ত থেকে শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এবং লক্ষ, লক্ষ টাকার কেনা-বেচা হয় এ হাটে। উপজেলার সবচেয়ে বেশী রাজস্ব আয় হয় এই শিবালয় হাট-বাজার থেকে। অথচ এখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হয়। কয়েকটি স্থানে ড্রেন থাকলেও দির্ঘদিন ধরে ময়লা-আর্বজনা পড়ে অকেজো হয়ে পড়েছে। এসব ড্রেনগুলা জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খুচড়া মাছ ব্যাবসায়ী মো.আব্দুল হাই বলেন, মাছের বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। খোলা আকাশের নীচে বসে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে ব্যাবসা করতে হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালনা, বাধ্য হয়ে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির পাশে বসেই মাছ বিক্রি করছি।
মাছ ব্যবসায়ী রইকা হালদার বলেন,শিবালয় মাছের আড়ৎ থেকে মাছ কিনে বিক্রি করি।বিৃষ্টি হলে এখানে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের খুব কষ্ট হয়।
শিবালয় বাজার মৎস্য আড়ৎাব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিবালয় বাজারের মৎস্য আড়তের নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে,এখানে ড্রেন নেই।ছোট আকারের যে ড্রেনটি রয়েছে তা দিয়ে ময়লা-আর্বজনা বের হয় না।এতে ব্যাবসায়ীদের মাছ কেনা- বেচা করা কষ্ট হয়। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একাধিক বার আবেদন করা হয়েছে।কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। অতিদ্রুত আরেকটি সেড (ঘর) ও ড্রেন নির্মান করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন তিনি।
শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, শিবালয় বাজারের যে ড্রেনগুলো রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে মেরামত করলে এ সমস্যা থাকবে না।ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাছ বাজার সংলগ্ন ড্রেনটির মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।পর্যায়ক্রমে সবগুলো ড্রেন মেরামত করা হবে বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু বলেন,শিবালয় বাজারের কাঠপট্টিতে ড্রেন নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের কল্পে গত আগস্ট মাসের মিটিংয়েই পাস হয়েছে। এছাড়া মাছের বাজার একটি জনগুরত্বপূর্ণ এরিয়া। অতি দ্রুত মাছ বাজারের পানি নিস্কাশনসহ অন্যান্য সকল সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply