
অনলাইন ডেস্ক: ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালীর উপকূলের জেলেদের সাগরে যেতে না যেতেই ফিরতে হয়েছে তীরে। কারণ বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বাধ্য হয়েই ফিরছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জেলেদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ, কখন আবহাওয়া ভালো হবে কখন সমুদ্রে যাবেন মাছ শিকারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত থাকা সত্ত্বেও কিছুসংখ্যক জেলে ট্রলার নিরাপদ স্থানে না থেকে জীবিকার তাগিদে রসদসহ ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরে মাছ শিকারে নেমে পড়ছেন। উপজেলার কোড়ালিয়া, চর মোন্তাজ জেলে পল্লিগুলো ঘুরে দেখা যায় জেলেদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কারণ প্রতিটি জেলে পরিবার ধার-দেনায় জর্জরিত। একদিকে যেমন মালিক-মহাজনদের দেনা পরিশোধের চিন্তা, অন্যদিকে সংসারের অন্ন-বস্ত্র জোগানের চিন্তা। জেলেদের ভাষ্যমতে, অবরোধের পরে যেমন আবহাওয়া খারাপ তেমনি জালেও ধরা পড়ছে না কোনো মাছ।
উপজেলার চর মোন্তাজের জেলে হান্নান বলেন, অবরোধের কারণে আমরা বেকার ছিলাম। কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছি। সাগরে জাল ফেলেও ধরতে পারছি না মাছ। এর মধ্যে খারাপ আবহাওয়া শুরুর কারণে ঘাটে ফেরত আসতে হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি থাকলে আমার মতো সব জেলে পরিবারগুলোকে না খেয়ে থাকতে হবে। কারণ মহাজনের ধার পরিশোধের চিন্তা, এরপরে পরিবারের সকলের পেটের চিন্তা। উপজেলার কোড়ালিয়া ট্রলার মালিক বেল্লাল হোসেন জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে জাল ফেলতে পারে নাই, তাই আবার ঘাটে ফিরতে হয়েছে। কেউ কেউ আবার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে থাকলেও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবার সাগরে পাঠাব ট্রলার।
কোড়ালিয়া মত্স্য সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, আমাদের জেলেরা সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার শেষ হয়ে যাওয়ার পরই আবহাওয়া খারাপ থাকায় ফিরতে হয়েছে তীরে। অনেক দিন জেলেরা বেকার সময় পার করছেন। সরকার যে সহায়তা দেয় তাও ঠিকভাবে পায় না প্রকৃত জেলেরা। এমন হলে কেমনে বাঁচবে জেলেরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, আমরা জেলেদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে বৈরী আবহাওয়ায় তারা গভীর সাগরে মাছ ধরতে না যান। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলেদের জালে দেখা মিলবে ইলিশের। লোকসান কাটিয়ে লাভবান হবেন জেলেরা। ৬৫ দিনের অবরোধের কারণে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে দুই ধাপে মোট ৮৬ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply