
অনলাইন ডেস্ক: দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। প্রতিদিন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ফেরি পারাপার হয় প্রায় ২ সহস্রাধিক যানাবাহন। পদ্মায় পনি হ্রাস পাওয়ায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন মহাসড়ক থেকে অনেক নিচে স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে এ্যাপ্রোজ সড়ক প্রচন্ড খাড়া ঢালু হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানবাহন আটকা পড়ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা, ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহনের চলকরা। এই ঢালু এ্যাপ্রোজ সড়ক টপকাতে গিয়ে যানবাহন বিকল হওয়াসহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে।
গত শনিবার বিকেলে দৌলতদিয়া ৭নং ফেরি ঘাট দিয়ে একটি পন্য বোঝাই ট্রাক ফেরি থেকে নেমে এপ্রোজ সড়ক দিয়ে মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রচন্ড খাড়া ঢালু টপকে ট্রকটি আগাতে পাড়ছে না। খানিকটা আসার পর ট্রাক চালক বাধ্য হয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে ফিরে যাচ্ছে ফেরিঘাট পন্টুনে। ঝুঁকির কারণ, একটু এদিক-সেদিক হলেই ট্রাকসহ নদীতে পড়ে যেতে পারে। এভাবে অন্তত আঁধা ঘণ্টা চেষ্টা করে অবশেষে ট্রাকটি মূল সড়কে উঠতে সফল হয়। ওই ট্রাকের চালক মো. সেলিম বলেন, ‘একদিকে এ্যাপ্রোজ সড়ক উচু-নিচু, অপরদিকে খাড়া ঢাল। এ কারণে ফেরি থেকে নেমে সড়কে ওঠা অনেক কষ্টকর হয়।’ তবে এই ট্রাকটি সড়কে উঠতে সফল হলেও প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক এ্যাপ্রোজ সড়কে ঢালু টপকে মহাসড়কে উঠতে ব্যার্থ হয়। ডাকতে হয় বিআইডব্লিউটিসি’র রেকার। গুনতে হয় ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এর আগে গত ৭ মার্চ দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে পেঁয়াজ ও রসুন বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে এসে ওই ট্রাকটি উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী একাধিক ট্রাক চালক জানান, ফেরি ঘাটের এ্যাপ্রোজ সড়কে যানবাহন বিকল অথবা আটকা পড়লে রেকার দিয়ে সরিয়ে সড়ক সচল করতে হয়। এতে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। ঢালু এ্যাপ্রোজ সড়ক দিয়ে ফেরিতে ওঠা-নামায় প্রচন্ড ভোগান্তির পাশাপাশি চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। সম্প্রতি একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় তারা দাবি করেন, এপ্রোজ সড়কের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ঢালু সহনশীল পর্যায়ে আনলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের চায়ের দোকানী মো. হানিফ শেখ জানান, ফেরি ঘাটের এ্যাপ্রোজ সড়কে প্রতিনিয়ত পন্যবাহি ট্রাক আটকা পড়ে। বিশেষ করে ওভার লোড ট্রাকগুলোই বেশি আটকা পড়ে থাকে। এতে তারাও ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। কারণ আটকে পড়া ট্রাকের যোগান (চাকার নিচে দেয়া কাঠের টুকরো) ছুটে এসে অনেক সময় পাশ^বর্তী দোকানেও আঘাট করে থাকে। এতে দোকানী ও পথচারীরা বিভিন্ন সময় কম-বেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো. আলীম দাইয়ান জানান, এটি একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে ফেরি থেকে নেমে এসে কোন যানবাহন যদি এ্যাপোজ সড়কে আটকা পড়ে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের রেকার দিয়ে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। এবং ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামা স্বাভাবিক রাখা হয়।
Leave a Reply