
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচার যমুনা নদীর তীরবর্তি এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় উৎসব বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে।যথারীতি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রবিবার সকাল থেকে শত, শত পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ এ স্নানাৎসবে অংশ নেন।
শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি এ উৎসব পরিচালনা করছে। সার্বিক সহযোগীতায় রয়েছে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু মহাজট ও শিবালয় সার্বজনীন মন্দির কমিটি।
এদিকে এ স্নানাৎসবকে ঘিরে ররিবার থেকে ৩ দিনব্যাপী মেল শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ৩ দিনব্যাপী এ মেলা হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে সাতদিন পর্যন্ত মেলা চলতে থাকে। এবারও অনুকুল পরিবেশ থাকলে মেলা সাতদিন চলবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
আরিচার যমুনা নদীর তীরে বসা ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় চিত্তবিনোদনের জন্য নাগরদোলা, ইলেকট্রিক্যাল নৌকা, বাইস্কোপসহ নানা ধরনের আয়োজন রয়েছে। হ্যন্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জার নানা দোকান, কাঠ,বেত, মাটি, লোহার তৈরী আসবাবপত্রসহ গৃহকাজে ব্যাবহার্য্য সামগ্রীর দোকান, মিষ্টি, বিন্নি, খৈই, আখড়া, সাজ, বাতাসাসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে এ মেলায়।

স্নান করতে আসা নির্মল সাহা বলেন, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছি এই স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্নান করতে এসেছি।
জাতীয় হিন্দু মহাজটের সভাপতি রামানন্দ পাল বলেন, প্রায় দু’শ বছর ধরে এ বারুনী স্নান ও মেলা আরিচায় যমুনার তীরে অনুষ্টিত হয়ে আসছে। এ উৎসব হিন্দু ধর্মালম্বীদের হলেও মেলাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলমানদের সোহার্দ্যপূর্ণ মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রথীন সাহা বলেন, রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ গঙ্গা স্নান চলবে। স্নান করতে আসা প্রত্যেক পূণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূর্ণ্যার্থীদের জন্য পোষাক বদলানোসহ সকল ধরণের সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন জানান, বারোনি স্নান উপলক্ষে আরিচার যমুনার পাড়ে বসা স্নান ও মেলায় আগত পূণ্যার্থী, দর্শনার্থী এবং দোকানীদের জন্য বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে পাহারাদার ও চকিদার দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিবালয় থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশও সার্বিক নিরাপত্তার দায়ীত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।সকলের সহযোগীতায় আমরা এ ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শিবালয় ৩নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো: আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আমাদের শিবালয়ের শত বছরের ঐতিহ্য এ বারুণী গঙ্গা স্নান।এ স্নান হিন্দু ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকে। আমরা শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমিতি’র পক্ষ থেকে সহযোগীতা করে থাকি।এবারের স্নান ভালভাবে হয়েছে এবং মেলাও সুন্দর ও সফলভাবে হবে এটাই আমি সকলের কাছে প্রত্যাশা করি।
Leave a Reply