
মুহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে সারা দেশে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে আমরা একা ফেলে দিবনা।এই শহীদের পরিবারকে আমরা ক্ষোভ, দু:খ, বেথা, বেদনা নিয়ে চলতে দিবনা।আমাদের যতটুকো শক্তি ও সাধ্য আছে তা নিয়েই এই শহীদ ভাইদের পাশে যেন আমরা দাড়াতে পাড়ি।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট)দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার রুপসা এলাকায় সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ রফিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত, শোকাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সান্ত্বনা প্রদান উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সভায় মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা উত্তরের আঞ্চলিক টিম সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন।
অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম, বায়তুলমাল সদস্য মাওলানা ওমর ফারুক, উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান এবং শহীদ রফিকের বাবা রহিজ উদ্দিন।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবালয় থানা শাখার আমীর হাফেজ মাওলানা হাতেম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা আবু তালেব, শিবালয় ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ডাঃ মো: ইব্রাহিম মল্লিক, মোঃ ফজর আলী মুন্সি, তেওতা ইউনিয়ন সভাপতি মুহাম্মদ জয়নাল চিস্তি, উথলী ইউনিয়ন সভাপতি মোশারফ হোসেন, উলাইল ইউনিয়ন সভাপতি মো. আলী আকবার, আরুয়া ইউনিয়ন সভাপতি ডা: আক্কাস আলী, শিমুলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি হাজী সাইফুল ইসলাম ও মহাদেবপুর ইউনিয়ন শাখার মুহাম্মদ তাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ তার বক্তব্যে আরো বলেন,’দ্রব্যমূল্যের চরম উর্দ্বোগতিতে এদেশের ১৮ কোটি জনতার জীবন পরিচালনায় তাদের মাঝে আজ নাভিশ্বাস বিরাজ করছে।এদেশের মানুষ চরমভাবে অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে আজকে তারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।দুর্নীতিতে সমাজ, দেহ ভরে গেছে।বিগত সরকারের দু:শাসনে আমাদের দেশের জনগণ তারা নিরযাতিত,নিস্পৃষ্ট। বাংলাদেশ জামায়াতী ইসলামী কোন দিন ক্ষমতার মসনদে ছিলনা। তারপরও বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সারা দেশে যারা শাহাদাত বরণ করেছে জামায়াত ইসলামী তাদের পাশে দাড়াবে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে একাত্ততাবোধ করবে।জামায়াত ইসলামী তার শক্তি সামর্থ দিয়ে তাদের বিপদ-আপদে সহযোগীতা করবে।
তিনি আরো বলেন, এই জালেম সরকারের নিকট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে এই ৫ আগস্ট যারা শহীদ হয়েছেন আমরা তাদেরকে ভুলে যাবোনা। প্রতি বছরই আমরা এই ৫ আগস্ট তাদেরকে স্বরণ করবো এবং তাদের জন্য দোয়া করব ইনশাআল্লাহ।আর সারা বছর ধরে তাদের পাশে থাকব।জামায়াত ইসলামী ইনশা আল্লাহ পাশে থাকবে।আমরা শুনেছি সরকার তাদের জন্য কিছু করবে, কিন্তু কবে করবে তার জন্য আমরা বসে নেই।আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী শহীদ ভাইদের পাশে দাড়াচ্ছি। শুধু তাইনা যারা আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে তাদেরকেও জামাত-শিবিরের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগীতা করে যাচ্ছি।
‘কোরআনে পড়েছি ফেরাউন পর্যন্ত তার সঙ্গী সাথীদের ছেড়ে যায়নি তাদের সবার সলিল সমাধি হয়েছে একসাথে, কিন্তু স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ফেরাউনকেও ছাড়িয়ে তিনি তার সঙ্গীদের নিয়েতো নয়ই একটু বলেও যায়নি, টাকা পয়সা নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেল। আমরা যখন শেখ হাসিনার অত্যাচার থেকে পুরো জাতি মুক্তির উপায় খুঁজছিলাম তখন ছাত্র সমাজ এগিয়ে এলো, ৪২ জন শিশুসহ অগণিত মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরশাসন থেকে আমরা মুক্তি পেলাম। কাজেই শহীদ রফিকের মতো বীর পুরুষদের এ জাতি চিরকাল মূল্যায়ন করবে, তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ইনছাফ কায়েম, রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর থেকে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, সুতরাং আমাদের সবাইকে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম শহীদ রফিকের পরিবারের সাথে সাক্ষাত এবং আলোচনা সভার পর দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগস্ট সকালে শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন মহাদেবপুর ইউনিয়ন সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে পড়াশুনার পাশাপাশি কৃষক বাবার কৃষি কাজে সহযোগীতা করতেন তিনি। তার কৃষক বাবা রহিজ উদ্দিনের সাংসারিক কাজে সহযোগীতা করা ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রামে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের কবর জিয়ারত, শোকাহত পরিবারকেও দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও সান্ত্বনা প্রদান করা হয়।
Leave a Reply