
অনলাইন ডেস্ক: গত বেশ কিছুদিন ধরেই ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইংল্যান্ড। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে যাকে সামনে পাচ্ছে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। হোম-অ্যাওয়ে কোনো পার্থক্যই করছে না তারা। ফল হিসেবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে (ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি) দুটো ফরম্যাটেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট তাদের মাথায়। ২০১৯ সালে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয়ের পর গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছে ইংলিশরা। এমনি অবস্থায় এই দুই ফরম্যাটের বিশ্ববিজয়ীরা বাংলাদেশ সফরে আসছে আজ শুক্রবার। দুটো দলে ভাগ হয়ে আজ ঢাকায় পা রাখবে চ্যাম্পিয়নরা। সন্ধ্যা ৭টায় প্রথম দলটির পৌঁছানোর কথা। এর এক ঘণ্টা বাদে পৌঁছাবে দলের বাকিরা।
এবারের বাংলাদেশ সফরে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। ওয়ানডে সিরিজের পর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সফরে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অ্যাওয়ে কন্ডিশনে মূল লড়াইয়ে আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে গ্রাহ্যের মধ্যে নেয়নি ইংল্যান্ড। আগামী ১ মার্চ মিরপুরে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম ওয়ানডে লড়াইয়ে নামবে সফরকারীরা। একই ভেন্যুতে ৩ মার্চ দুদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। দুদলের মধ্যে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৬ মার্চ। এই ম্যাচটির ভেন্যু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। এই মাঠেই ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি। এই সিরিজের বাকি দুটো ম্যাচ হবে মিরপুরে।
দুই ফরম্যাটেই সফরকারী দলকে নেতৃত্ব দেবেন জশ বাটলার। ইনজুরির কারণে এই সফরে নেই জনি বেয়ারস্টো, লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো সীমিত ওভারের স্পেশালিস্টরা। তারপরও যথেষ্ট শক্তিশালী দল নিয়েই বাংলাদেশ সফরে আসছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্যাম কুরান, ডেভিড মালান, মইন আলি, জোফরা আরচার, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদরা আছেন দুই ফরম্যাটের দলেই। এদের যেকোনো একজনই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য।
এদিকে খেলার মধ্যেই আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বিপিএলের টাটকা স্বাদ নিয়েই নামবে স্বাগতিকরা। বড় পরিবর্তনও এসেছে। দ্বিতীয় দফায় ফিরেছেন খ্যাতনামা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশের প্রথম মেয়াদে বেশ সাফল্য পেয়েছিলেন এই লঙ্কান কোচ। তার তত্ত্বাবধানেই ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। হাথুরুর সময়ে ঘরের মাঠে স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ।
হাথুরু পরবর্তী সময়ে অবশ্য আপাদমস্তক ঘূর্ণি ট্র্যাকের কৌশল থেকে কিছুটা সরে আসে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ঘরোয়া ক্রিকেট পেসবান্ধব উইকেট তৈরিতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেন। তার ছোঁয়ায় পেস বোলারদের উন্নতিও বেশ লক্ষণীয়। পেস বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দেন এক সময়ের দুনিয়া মাতানো ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড। পেসারদের গুরুত্ব দেওয়ার সুফলও মেলে। দেশের বাইরেও টাইগার পেসাররা আলো ছড়ান। তবে হাথুরু যে আবার আগের ফর্মুলায় ফেরত যাবেন তার ইঙ্গিতও সুস্পষ্ট। সম্প্রতি বলেছেন, হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়া উচিত। প্রতিটি দেশই এটা করে। আমাদের দেশে আমরা নিজেদের শক্তি অনুযায়ীই খেলব।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল কতটা কার্যকর হবে সে নিয়ে সংশয় থাকছেই। পেস অ্যাটাকের মতো ইংলিশদের স্পিনিং বিভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী। মইন আলি, আদিল রশিদের মতো চ্যাম্পিয়ন স্পিনার আছে দলটিতে। বাংলাদেশ সফরে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন টিন এজ সেনসেশন রেহান আহমেদ। পাকিস্তান সফরে নিজের অভিষেক টেস্টেই স্বাগতিক ব্যাটারদের কাঁদিয়ে ছাড়েন এই লেগ স্পিনার।
Leave a Reply