
অনলাইন ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪০ ব্যাচের সাবেক এক শিক্ষার্থীর সেলফি বাসের ধাক্কায় নিহতের ঘটনায় পরিবহনটির ২০টি বাস আটক করেছে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডের সামনে এ মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেলা ১২টা থেকে বাস আটক শুরু করে তারা।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম রুবেল পারভেজ। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানায়। তিনি মানিকগঞ্জের ঝিটকা মার্কেন্টাইল ব্যাংকে এমটিও (ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ফারজানা, মেয়ে ফারিহা আর মাকে নিয়ে ধামরাইয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পারভেজের মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে তার বন্ধু ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেলফি পরিবহনের বাস আটক করতে শুরু করে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী পারভেজকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে সেলফি পরিবহনের বাস। এই পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মহাসড়কে চলাচল করে। প্রতিনিয়ত তারা মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে চাই। পরিবহন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে বাসগুলো ছাড়া হবে না।’
নিহত পারভেজের বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এসএসসি পাসের পরেই ওর বাবা মারা যায়। কলেজ জীবন থেকেই ধামরাইয়ে ভাড়া বাসায় থাকত। ধামরাই সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ছেলেটা সারাজীবন সংগ্রামের করেছে। এখন বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিজের পরিবারের জন্য সে কিছু করার সুযোগ পেলো না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মো. রনি হোসাইন বলেন, ‘পুলিশ নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে। মালিকপক্ষ যেন নিহত রুবেলের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয় এবং সেলফি পরিবহনের লাইসেন্স বাতিল করে সে বিষয়ে আমরা হাইওয়ে থানা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আবু হাসান বলেন, ‘সেলফি পরিবহনের বাসটি রেখে এর চালক ও সহকারীরা পালিয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Leave a Reply