1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  3. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

জলবায়ু নিয়ে জাতিসংঘের আসন্ন বিশেষ সাধারণ সভায় তুলে ধরার আহ্বান

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩
  • ২৪৮ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেশে অন্যান্য বছর সাধারণত তাপপ্রবাহ কয়েক দফায় হয়। তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। বিচ্ছিন্নভাবে হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু এবার গ্রীষ্মকালে টানা তিন সপ্তাহের মতো তাপপ্রবাহ ছিল।

জলবায়ু নিয়ে জাতিসংঘের আসন্ন বিশেষ সাধারণ সভায় নিশ্চয়ই এই তথ্য তুলে ধরা হবে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিপ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যেন বিশ্বদরবারে পুঙ্খানুপূঙ্খভাবে তুলে ধরে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় এই বিশেষ অধিবেশনকে সামনে রেখে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ সময়ের আলোকে বলেন, যেমন জোয়ারে সমুদ্রের লোনা পানি এসে আমাদের নদীর পানিতেও লবণাক্ততা বাড়াচ্ছে এবং তা দিন দিন বাড়ছে। এই তথ্য নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ তুলে ধরবে। কিন্তু এর কারণে গত ২০ থেকে ৫০ বছরে আমাদের ফসলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে তাও যুক্ত করতে হবে। লোনা পানি ঢুকে আমাদের সুপেয় পানিও লোনা করে দিচ্ছে, সেই হিসাবও যুক্ত করতে হবে। এভাবে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এবং হয়েছি, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের তুলে ধরতে হবে।

জাতিসংঘে অনুষ্ঠেয় আসন্ন এই বিশেষ অধিবেশনকে সামনে রেখে জানতে চাইলে ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফিক অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের (নোয়ামি) নির্বাহী পরিচালক এবং সাউথ এশিয়ান মিটিওরোলোজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (সামা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশ সময়ের আলোকে বলেন, এবার যে এত লম্বা তাপপ্রবাহ ছিল এটা নিশ্চয়ই বিশ্ব দরবারে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে তুলে ধরা হবে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহের কারণে অনেকের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হয়েছে, অনেকের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হয়ে গেছে। অন্যান্য বছরের এই সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক ডাটা চাইলে হাসপাতালগুলো থেকে এসব তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এটাও তো জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে আমাদের ক্ষতি। বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেওয়ার সময় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ এসব বিষয়ও যুক্ত করা দরকার।

অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলেন, যেমন আমাদের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এমন দ্বীপে বসতি থাকার কথা নয়। এটি খালি করতে হবে। তা হলে সেখানে যারা বসতি করে আছেন, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। সমুদ্রের এত কাছাকাছি আমাদের দেশের মতো উপকূলে বসতি থাকা উচিত নয়। তা হলে সেখানকার নাগরিকদেরও পুনর্বাসন করে সরিয়ে আনতে হবে। এই বিষয়গুলোও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে এবং এর ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

দুর্যোগবিষয়ক লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা সময়ের আলোকে বলেন, নদীর পানি লবণাক্ত হতে হতে এখন গোপালগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত নদীর পানি লবণাক্ত। এর কারণ তো পানির প্রবাহ ঠিক নেই। উজানে ফরাক্কা বা তিস্তাচুক্তি বাস্তবায়ন না হলে তো এই সমস্যা বাড়তেই থাকবে। তাই এই বিষয়টিও বিশ্ব দরবারে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তাছাড়া জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যেসব ফান্ড আসে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক প্রকল্পের বরাদ্দ যেন অন্য প্রকল্পে ব্যয় না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। কারণ তাতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সময় আবার নেতিবাচক উদাহরণগুলো সামনে আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আইআইইডির একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ গ্রামীণ বসতি বন্যার কবলে পড়ে। আর প্রায় ৪১ শতাংশ বসতি ঝড়ের আঘাতের শিকার হয়। প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষ তাপদাহ, বজ্রপাত ও শৈত্যপ্রবাহের মতো দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ৩ মিটার উঁচুতে থাকা হাওর এলাকায় কয়েক বছর পরপর হঠাৎ বন্যা হয়। এর বাইরে খরা ও উপকূলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার সমস্যাও বাড়ছে। দেশের খুলনা এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ মিটার উঁচুতে হওয়ায় ঝড়–বৃষ্টি হলে সেখানে জোয়ারের পানি উঠে যায়।

প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় কিশোরী ও নারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে।

বাংলাদেশের নারীরা এমনিতেই সমাজে নানা বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। তার সঙ্গে দেশের উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকায় খাওয়ার পানি সংগ্রহের দায়িত্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের পালন করতে হয়। বাসাবাড়ির স্যানিটেশনের সমস্যার কারণে নারী ও কিশোরীদের বেশি ভুগতে হয়।

এই প্রতিবেদনে আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিন্ন নদী অববাহিকাগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্য উজানের দেশ চীন ও ভারতের সঙ্গে বসে আলোচনার ভিত্তিতে পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :