
অনলাইন ডেস্ক: নিশ্চিত হয়ে গেছে ২০২৩ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ, ওয়ানডে সুপার লিগের অন্তর্ভুক্ত এই সিরিজটা তাই এক অর্থে নিয়মরক্ষার। সিরিজের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, তাদের বিপক্ষেও একাধিকবার (ওয়ানডে চার, টেস্টে একবার) পাওয়া গেছে জয়ের মধুর স্বাদ। নতুন করে সেই স্বাদ যদি নেওয়া না যায়, তাতেও রসাতলে যাবে না টিম বাংলাদেশ। তবুও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজটার গুরুত্ব অনেক, টাইগারদের অন্য উচ্চতায় ওঠার অভিযান যে শুরু হচ্ছে এই সিরিজ দিয়েই।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন প্রবল প্রতিপক্ষ। ঘরের মাঠে তো কথাই নেই, দেশের বাইরেও তারা জয় পায় নিয়মিত। সাম্প্রতিক অতীতে আইসিসির ইভেন্টগুলোতেও নিজেদের সামর্থ্যরে ছাপ রেখেছে টাইগাররা। ২০১৫ বিশ্বকাপে তারা খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৭ সালে সেমিফাইনাল খেলেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। এখন লক্ষ্য ফাইনাল, নতুন এই উচ্চতায় ওঠার লক্ষ্য পূরণের সবথেকে জুৎসই মঞ্চ ভাবা হচ্ছে এ বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে। সেই ভাবনার পালে জোর হাওয়া লাগবে, যদি হারানো যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই সিরিজটিই আবার বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই যিনি বলে রেখেছেন, ‘নিজের ছাপ রেখে যেতে চাই।’ প্রথম মেয়াদে যেভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলে দিয়েছিলেন এই লঙ্কান কোচ, তার হাত ধরে এবার নতুন উচ্চতায় ওঠার জোর আশাই দেখছে টাইগাররা। তা ছাড়া বৃত্ত পূরণের বাড়তি একটা তাগিদও আছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য সব দেশের বিপক্ষেই সিরিজ জয় আছে টাইগারদের, এই গৌরবটা নেই শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
আক্ষেপটুকু ঘুচিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ এবার। ক্রিকেটের ধরন বদলে দিলেও ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক অতীত সুখকর নয় ইংল্যান্ডের। সবশেষ ১২ ম্যাচে তাদের জয় কেবল তিনটি, হেরেছে আটটিতে। সবশেষ চার সিরিজের কোনোটিতেই জেতেনি জস বাটলারের দল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ২০১৬ সালের পর কোনো সিরিজই হারেনি বাংলাদেশ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সিরিজ জিতে ফেরার পর ঘরের মাঠে সম্প্রতি ভারতকেও হারিয়েছে তারা। এবার তা হলে ইংল্যান্ড কেন নয়? হ্যাঁ, বাটলার ব্রিডেগ ভয়ংকর, কিন্তু অজেয় তো নয়। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তো উল্টো এই সিরিজে বাংলাদেশকেই ফেবারিট বলছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার দর্পে অবশ্য ফেবারিট হওয়ার বিষয়টাকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতেই দেখলেন মইন আলি। তার সাফ কথা, ‘কারা ফেবারিট, তাতে কিছু যায় আসে না। বাংলাদেশ নিজেদের কন্ডিশনে বেশ ভালো হতে পারে। আমরা জানি তারা কতটা হুমকি তৈরি করতে পারে। তবে আমরাও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এর আগেও ভালো করেছি।’ পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসতে পারেনি ইংল্যান্ড। এরপরও নিজেদের কোনো দিক থেকে পিছিয়ে রাখতে নারাজ মইন, ‘দলটা রোমাঞ্চকর। তাই সিরিজ শেষের আগ পর্যন্ত কে ফেবারিট, তাতে কিছু যায় আসে না।’
দুদিন আগে বাটলার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক, তার দল আগ্রাসী ক্রিকেট খেলবে। অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়েছেন মইনও। জফরা আর্চার, মার্ক উডদের দিয়ে গতির ঝড় তুলে মাঠে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিলেন। তাতে অবশ্য ভড়কে যাচ্ছে না স্বাগতিকরা। হাথুরুসিংহে জানিয়ে দিলেন, সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্যই তৈরি তার শিষ্যরা, ‘খেলোয়াড়রা (অনুশীলনে) যে নিবেদন দেখিয়েছে, আমি তাতে মুদ্ধ। আমরা এই সিরিজের জন্য খুব ভালোভাবেই প্রস্তুত। আমরা চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। আমরা নিজেদের আত্মবিশ্বাসের ওপরই ভরসা রাখছি। ড্রেসিংরুমে এটি নিয়েই কথা হয়েছে, নিজেদের সেরাটা দেব।’
স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে ইংলিশ পেসারদের গতি কতটা প্রভাব রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। আবার মাঠের বাইরে বিগত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ মাথা থেকে সরিয়ে রেখে আদৌ স্বাগতিকরা তাদের সেরাটা দিতে পারবে কি না সংশয় আছে তা নিয়েও। দলীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল অবশ্য বলে রেখেছেন, মাঠের বাইরের বিষয়গুলো খেলায় প্রভাব ফেলবে না। কোচ হাথুরুসিংহেরও একই কথা। তিনি আত্মবিশ্বাসী, ইংল্যান্ডকে হারানোর জন্য তার শিষ্যরা সবটুকুই নিংড়ে দেবে। কেননা তাদের কাছে দেশ এবং দলই আগে। সবাই এখন ভালো শুরুর অপেক্ষায়।
নতুন উচ্চতায় ওঠার অভিযানে শুরুটাকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন হাথুরু।
Leave a Reply