1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বেঞ্চ ফাঁকা, শিক্ষক একা, বিপন্ন গ্রামীণ বিজ্ঞান শিক্ষা শিবালয়ে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৮ , ভ্রাম্যমান আদালতে শাস্তি ৭ আমি নিজেও নদী ভাঙ্গা মানুষ, ভাঙন কবলিত মানুষের যন্ত্রণা আমার অন্তরে রয়ে গেছে: জিন্নাহ কবীর এমপি শিবালয়ে মাদক ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলায় ৭ জন আটক বর্ষা শুরুর আগেই নদী ভাঙন , চিন্তিত শিবালয়ের যমুনা পাড়ের মানুষ শিবালয়ে হেরোইনসহ আটক ১ শিবালয়ে সাংবাদিকের বাসায় মাদক ব্যাবসায়ীর হামলা মানিকগঞ্জে মাটি খেকোদের থাবা থেকে ফসলি জমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  শিবালয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা, আটক ৩ মানিকগঞ্জে শেষ হলো ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন শীর্ষক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা 

বাংলাদেশি মতিউর ২১ বছর পর ভারত থেকে দেশে ফিরলেন

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩
  • ১৮৭ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: একুশ বছর পর ভারত থেকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরলেন বাংলাদেশের মতিউর রহমান (৩৬)।

শুক্রবার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেন তিনি। তাকে ফিরে পেয়ে বাধভাঙার আনন্দে কাঁদতে থাকেন স্বজনরা।

সকাল ৯টা থেকেই স্বজনরা বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে মতিউরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন বাবা-মাসহ স্বজনরা। দুপুর আড়াইটার দিকে ভারতের ফুলবাড়ী ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে মতিউর রহমানকে নিয়ে আসেন বিএসএফ ও ভারতের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের নিতিশ শর্মা ও সহযোগী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বরালি কে কোন্ডউইলিকার। তারা তাকে বিজিবি সদস্য ও ইমিগ্রেশনের এএসআই খায়রুল ইসলামের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তুলে দেন।

পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের নীতিশ শর্মা বলেন, আমরা ২০১৯ সালে জুনে ভারতের মহারাষ্ট্রের কারজাত এলাকার এক রাস্তা থেকে মতিউরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। আমরা মানসিকভাবে যারা বিপর্যস্ত, যাঁরা রাস্তায় থাকেন, তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কাজ করে থাকি। মতিউরকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে চিকিৎসার এক পর্যায়ে জানতে পারি সে বাংলাদেশি। পরে থেকেই বাংলাদেশে তার পরিবার সম্পর্কে জেনে তাকে দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের সহযোগী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বরালি কে কোন্ডউইলিকার বলেন, আমরা মতিউরকে অসুস্থ্য অবস্থায় পেয়েছিলাম। তার রোগটি খুবই জটিল। এ রোগটি সম্পর্কে অনেকে জানে না। অনেক জায়গা ও গ্রামে এ রোগের চিকিৎসা সুবিধা নেই। এ কারণে এ রোগের আক্রান্তকারীরা বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। যেকোনখানে চলে যায়। এ রোগের অবশ্যই চিকিৎসা আছে ও ঔষুধও আছে। তাই আমরা যতোটা পারি উদ্বুদ্ধ করি।

পুলিশের এএসআই খায়রুল ইসলাম জানান, মতিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। তিনি আজ ভারত-বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও এনজিওর মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। আমরা ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।

দেশে ফিরে মতিউর রহমান অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ভারতে ছিলাম। আজ দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে।

মা মর্জিনা বেগম বলেন, একুশ বছর পর ছেলেটাকে পেয়েছি। বুকের ধন ফিরে এসেছে। ছেলেও জড়িয়ে ধরেন তার মাকে। বাবা শহিদুল ইসলাম ও ছোট বোনের আনন্দের কান্নায় এক আবেগঘন হয়ে উঠে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি আইসিপি চত্বর।

মতিউরের ছোট সাইফুন্নাহার বলেন, একুশ বছর ভাইকে ফিরে পাব এ আনন্দ প্রকাশ করার মতো নয়। ভাইকে ফিরে পেতে ঠাকুরগাও থেকে বাংলাবান্ধায় ছুটে এসেছি।

মতিউরের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, একুশ বছর পর ছেলেকে পেয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেই সাথে ভারতের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাদের জন্যই আজ আমাদের ছেলেকে পেলাম। এ আনন্দ প্রকাশ করার তো নয়। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার আখানগর ইউপি চেয়ারম্যান রোমান বাদশা বলেন, ২১ বছর আগে আমার ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ একুশ বছর পর সে ভারত থেকে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। খবর পেয়ে তার পরিবারকে নিয়ে মতিউরকে নিতে ছুটে এসেছি। সত্যিই আনন্দ লাগছে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে ১৫ বছর বয়সে হারিয়ে যান মতিউর। সে ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার আখানগর ইউপির অন্তর্গত ঝারগাঁও গ্রামে। সে হারিয়ে যাওয়ার পর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার পরিবার।

২০১৯ সালের জুনে ভারতের মহারাষ্ট্রের কারজাত এলাকার এক রাস্তা থেকে মতিউরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন ভারতের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। সংগঠনটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা রাস্তায় থাকেন, তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কাজ করে। মতিউরকে উদ্ধার করার পর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সে সিজোফ্রেনিয়ার রোগী হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, সে বাংলাদেশি। মহামারি করোনা শুরু হলে মতিউরের পরিবার সন্ধানের বিষয়টি স্থবির হয়ে পড়ে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আহমেদাবাদের বেসরকারি সংস্থা ‘স্নেহালয়’ বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত হয়। মতিউরকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের রাহা নবকুমার ও তাঁর স্ত্রী তন্দ্রা বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন শ্রদ্ধা পুনর্বাসন ফাউন্ডেশনের নীতিশ শর্মা। রাহা নবকুমার ও তন্দ্রা বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে একসময় ঠাকুরগাঁওয়ে মতিউরের স্বজনদের খুঁজে বের করে গত ২৭ জুন মতিউরকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কাগজপত্র জটিলতার কারণে তাকে সেদিন দেশে পাঠানো হয়নি।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :