1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  3. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :

গুনাহ থেকে বিরত থাকার যে আমল

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৩৯ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ভালো-মন্দ সব কর্মের হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা এই দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এমনকি কিয়ামত দিবসে সমগ্র জিন ও মানবজাতিকে সব কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। যেমন-আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে তা প্রকাশ করো অথবা গোপন রাখো, আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের কাছ হতে গ্রহণ করবেন’ (সুরা বাকারা : ২৮৪)। শুধু তাই নয়, কিয়ামত দিবসে বড় থেকে ছোট কোনো কর্মই বাদ যাবে না। সব প্রকাশ পাবে। কর্মের প্রতিফল অনুযায়ী জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে তা-ও দেখতে পাবে।’ (সুরা যিলযাল : ৭-৮)

তাই বেশি বেশি ভালো কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা যেন জান্নাতে যেতে পারি, সে জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। এমনকি, গুনাহ তথা পাপকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) কতিপয় দোয়া সাহাবিদের শিখিয়ে গেছেন। যে দোয়া পাঠের মাধ্যমে পাপকাজ থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহর তওফিক কামনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বান্দা সত্যের ওপর থাকলে হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাকে হেদায়েত দেবেন। বিভিন্ন প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থে এ সংক্রান্ত একাধিক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। যেমন সুনানে তিরমিজি গ্রন্থের ৩৫৯১ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক, ওয়াল আমাল, ওয়াল আহওয়া’, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’ অনুরূপভাবে, রিয়াদুস সালেহিন ও মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থেও আলোচ্য হাদিস উল্লিখিত হয়েছে। তবে প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) রচিত বুলুগুল মারাম গ্রন্থে আলোচ্য হাদিসটি ভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহুম্মা জান্নিবনি মুনকারাতাল আখলাক, ওয়াল আমাল, ওয়াল আহওয়া, ওয়াল আদওয়া’, অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমাকে ইসলাম গর্হিত স্বভাব ও মন্দ কাজ হতে, মন্দ কামনা হতে এবং ব্যাধি হতে দূরে রাখুন।’ (হাদিস : ১৪৯৭)

আলোচ্য হাদিসগুলোর আলোকে সহজেই প্রতীয়মান হয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বপ্রকার মন্দকর্ম থেকে মুসলিম উম্মাহকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছেন। মন্দকর্ম যেমন হালালকে পরিত্যাগ করে হারাম গ্রহণ, অপর মুসলিম ভাইকে কটুবাক্যে কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি কোনো কাজেই লিপ্ত হওয়া যাবে না। তাই একজন মুসলিম হিসেবে ব্যক্তিজীবনে মন্দ স্বভাব ও কর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা খুবই জরুরি। এর মাধ্যমে আমলনামায় নেকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং কেয়ামত দিবসে হিসাব সহজ হবে। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এ সংক্রান্ত ভিন্ন আরও একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। যেমন-শাকাল ইবনে হুমাইদ (রা.) একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া শিখিয়ে দিন। তখন নবীজি (সা.) এ দোয়াটি তাকে শিখিয়ে দেন-‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি, ওয়া মিন শাররি বাসারি, ওয়া মিন শাররি লিসানি, ওয়া মিন শাররি কালবি, ওয়া মিন শাররি মনিইয়ি’, অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অশ্লীল শ্রবণ, চোখের কুদৃষ্টি, জিহ্বার খারাপ বাক্য, অন্তরের কপটতা এবং কামনার অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই’ (সুনানে আবু দাউদ : ১৫৫১)

অতএব, সব মানুষের উচিত, দুনিয়াবি জীবনে সর্বপ্রকার খারাপ কর্ম পরিহার করা এবং বেশি বেশি সৎকাজ করা। সৎপথে চলার ক্ষেত্রে সচেষ্ট থাকা। যেন কেয়ামত দিবসে আমলনামা ডান হাতে পাওয়া এবং জান্নাতের বাসিন্দা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি, সবাইকে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান করা এবং হাদিসে বর্ণিত এসব দোয়া শিক্ষা দেওয়া।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :