
শাহজাহান বিশ্বাস: আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ সোমবার (২৫ মে) কবির স্মৃতি বিজড়িত ও কবি পত্নী প্রমীলার জন্ম ভিটা শিবালয়ের তেওতা গ্রামে মানিকগঞ্জ জেলা ও শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।
এর মধ্যে সকাল ১০টায় তেওতা জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে কবি ও কবি পত্নীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ১১টায় প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা সভা, সাড়ে ১১টায় কুইজ প্রতিযোগীতা, দুপুর ১২টা থেকে ১টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নজরুল সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি, বিকাল ৪টায় দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা সভা, ৪টা ৪৫ সাংস্কৃতক অনুষ্ঠান নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নাটক অনুষ্ঠিত হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা ও শিবালয় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পুস্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে তেওতা একাডেমি ও তেওতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী,নজরুল-প্রমিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটসহ নজরুল প্রেমী-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নিবে।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা গ্রমের বসন্ত কুমার সেনগুপ্ত ও গিরিবালা দেবীর একমাত্র সন্তান ছিলেন আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে দোলন বা দুলি। পরে ভালোবেসে কবি তার নাম দেন প্রমিলা নজরুল। জমিদার বাড়ির পাশেই ছিলো তাদের বাড়ি।
জানা গেছে, ১৯০৮ সালে তেওতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আশালতা সেনগুপ্তা। তেওতা একাডেমি স্কুলে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তার বাবা বসন্ত কুমার সেনগুপ্ত ত্রিপুরায় নায়েব পদে চাকরি করতেন। কাকা ইন্দ্র কুমার সেনগুপ্ত ত্রিপুরায় কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ইন্সপেক্টর ছিলেন।
চাকরি সূত্রে ইন্দ্র কুমার পরিবার পরিজন নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করতেন। আর বসন্ত কুমারের পরিবার বসবাস করতেন তেওতা গ্রামে। হঠাৎ বসন্ত কুমারের মৃত্যু হলে কাকার সঙ্গে কুমিল্লায় চলে যান আশালতা ও তার মা।
কাজী নজরুল ইসলাম তার বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে একবার কুমিল্লায় বেড়াতে গেলে ইন্দ্র কুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে আশালতার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপরই তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আশালতার সেনগুপ্তার টানে নজরুল কুমিল্লায় যান ৫ বার। আর তেওতা গ্রামে আসেন তিনবার। শেষবার জেল থেকে মুক্ত হয়ে কবি কুমিল্লায় গেলে নজরুল-প্রমীলার প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এক পর্যায়ে নজরুল কুমিল্লা ছেড়ে কলকাতায় চলে যান।
সামাজিক চাপে মা গিরিবালা দেবীও মেয়ে আশালতা ওরফে প্রমীলাকে নিয়ে কলকাতায় চলে যান। ১৯২৪ সালে গিরিবালা দেবীর ইচ্ছায় নজরুল ও আশালতার (প্রমীলা) বিয়ে সম্পন্ন হয়।
Leave a Reply