
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা,লুটপাট-হামলা ডাকাতি বন্ধ,জনমনে ভীতি দূর করা সহ শান্তি শৃংখলা রক্ষার আহবানে আজ রবিবার দুপুর ১টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরে জাতীয় ও সাদা পতাকা নিয়ে সম্প্রীতি মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ঠ করার চক্রান্ত,ইচ্ছাকৃত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর জন্যে উস্কানিমূলক শ্লোগান,ষড়যন্ত্র করা ,ভারতীয় গনমাধ্যমে পাঠানোর জন্যে ভাঙ্গুরচুরের মিথ্যা বর্ননা দিয়ে ভিডিও বানানো ,অপপ্রচার সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে উগ্রপন্থী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃৃষন ভাবনাকৃত সংঘ ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষন কনশাসনেস ) কে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবী জানান।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েক শ নেতা-কর্মী সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ হতে মিছিলটি নিয়ে শহরের শহীদ রফিক সড়ক দিয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিন করে খালপাড় শহীদ রফিক চত্ত্বরে এসে সমাবেশ করে।
সমাবেশে সমন্বয়ক মোঃ আশিকুর রহমানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মানিকগঞ্জ জেলার সমন্বয়কদের মধ্যে ওমর ফারুক,বাবুল হোসেন,মেহাদী হাসান হৃদয় মোঃ রমজান আলী,হাসান শিকদার,সাকিব খান অয়ন,সাগর সূত্রধর প্রমুখ।
বক্তরা বলেন,আমরা রাত-দিন পাহারা দিয়ে যাচ্ছি,ট্র্রাফিরের দায়িত্ব পালন,রাস্তা-ঘাট পরিস্কার,দেয়ালে আলপনা,মন্দির ও হিন্দু সম্পত্তি পাহারা সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছি।আমাদের সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছে।আমরা বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবরে ছুটে যাচ্ছি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাড়াচ্ছি।তবে যত অভিযোগ আসছে তার বেশির ভাগই গুজব।আমরা অনেক স্থানে গিয়ে ঘটনার কোন সত্যতা পাচ্ছি না।আমরা আইন রক্ষকারী বাহিনীসিভিল প্রশাসন,হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ,সমাজের বিভিন্ন দায়িত্বলীশ মানুষের সাথে প্রতি মূর্হুতেই যোগাযোগ রাখছি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে নিয়মিত যোগযোগ রাখছে এবং তারাও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের সহযোগীতা করে যাচ্ছে।কিন্তু বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট নামের সংগঠনটি গতকাল শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জ শহরে মিছিল সমাবেশ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী বিভিন্ন শ্লোগান দেয় এবং উগ্র আচরণ করে।তারা মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিকট শহীদ রফিক সড়ক আটকিয়ে সমাবেশ করে । এ সময় তারা “ জয় শ্রী রাম” হিন্দু বাড়ি আক্রমন হলে-জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে”এক ফোটা রক্ত ঝরলে হাজার ফোটা ঝরবে” ইত্যাদি উগ্র শ্লোগান দেয়।তাদের কে এ ধরনের উগ্র এবং ভারতীয় বিজেপির না দেয়া ও রাস্তা না আটকানোর অনুরোধ করলে সাংবাদিক ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের সাথে উগ্র আচরণ করেন।আগামী দু এক দিনের মধ্যে আরো কঠিন কর্মসূচির দেয়ার ঘোষনা করেন।
এ সময় তাদের মন্দির ও সম্পত্তির ক্ষতির সুনিদ্দির্ষ্ট তথ্য চাইলে তারা তা দিতে পারেনি।তারা মিথ্যা ভাংচুরের অভিযোগ তুলে ও গুজব সৃষ্টি করার জন্যে বক্তব্য দেয়।এক পর্যায়ে মানিকগঞ্জ জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারন সম্পাদক শ্রী তাপস রাজবংশী হুমকি প্রদান করেন।
জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু নেতারা বলেন,হিন্দু মহাজোট একটি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী।আমাদের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই।
বক্তারা বলেন,বিভিন্ন সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” আর্থিক সহযোগীতায় এরা ইচ্ছা করে বাংলাদেশ অশান্তি সৃষ্টির জন্যে নানান ধরনের কাজ করে যাচ্ছে এবং নব গঠিত সরকারকে বিতর্কিত করার জন্যেই এসব করে যাচ্ছে।হিন্দু নেতার বলেন,এরা আসলে মূল হিন্দু সমাজের কোন প্রতিনিধিত্ব করে না,তাদের সাথে ৫% হিন্দুও নাই ।এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর জন্যে আমরা বিপদে পরি এবং সমাজে বিশৃংখলা দেখা দেয়। এদের এদেশে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন,এই হিন্দু মহাজোট ও ইসকনের বেশির ভাগ লোকজন পতিত আওয়ামীলীগ .যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেরর নেতা-কর্মী।তারা এখন আওয়ামীলীগের পরিচয় বাদ দিয়ে হিন্দু মহাজোটের ব্যানারে সংখ্যালঘু সেজে দেশে বিশৃংখলা করে যাচ্ছে।তারা দেশটাকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে বিশে^র নিকট প্রচার করতে চাচ্ছে।আমরা বিষয়টি আর্মি,বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী,সাংবাদিক ,বিজ্ঞ ব্যক্তিদের অবগত করেছি।বিগত দেড়যুগ যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসকন মন্দিরে ভারতীয় উগ্রবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সার্বিক সহযোগীতায় বাছাই করা উগ্রপন্থী হিন্দু যুবকদের অস্ত্রের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে বলেও আমরা শুনতে পেয়েছি।তাই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা,আইন-শৃংখলা বজায়ে রাখার জন্যেই দ্রুত এই জঙ্গীবাদী সংগঠন হিন্দু মহাজোট ও ইসকন নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন,বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ,অভিভাবক,শিক্ষক,বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তথা সর্বস্তরের মানুষ রাষ্ট্রে শান্তি-শৃংখলা রজায়ে রাখতে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
ছাত্ররা মিছিলে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই-সন্ত্রাসীদের জায়গা নাই,তুমি কে আমি কে-বাংলাদেশী বাংলাদেশী ইত্যাদি শ্লোগনে পুরো শহর মুখরিত করে তুলে।
অপর দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা জেলায় শান্তি-শৃংখলা বজায়ে রাখা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্যে শত শত নেতা কর্মী নিয়োগ করেছেন জেলার বিভিন্ন স্থানে।জেলা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরি দিন রাত পাহারা দিয়ে যাছে হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘর।পুরো জেলার ডাকাত আতংক রুখতে পাড়ার পাড়ায় দল বেধে চলছে পাহারা।সেনা বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।সব মিলিয়ে জেলায় এখন আর তেমন কোন অতাংক বিরাজ করছে না।
Leave a Reply