1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক মানিকগঞ্জে মানবপাচার প্রতিরোধে লিগ্যাল এইড কমিটির বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবার ঈদে অব্যবস্থাপনা হলে প্রথমে ওই জায়গার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে ৪০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বেঞ্চ ফাঁকা, শিক্ষক একা, বিপন্ন গ্রামীণ বিজ্ঞান শিক্ষা শিবালয়ে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৮ , ভ্রাম্যমান আদালতে শাস্তি ৭ আমি নিজেও নদী ভাঙ্গা মানুষ, ভাঙন কবলিত মানুষের যন্ত্রণা আমার অন্তরে রয়ে গেছে: জিন্নাহ কবীর এমপি শিবালয়ে মাদক ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলায় ৭ জন আটক

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি ৬ ঘন্টা পর উদ্ধার ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়েছেন

শাহজাহান বিশ্বাস: রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি ৬ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় রাজবাড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহবায়ক করে রাজবাড়ির সিনিয়র এডিশনাল এসপি, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এ কমিটি তিন কর্ম দিবসের মধ্যে ঘটনার অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ওই বাসটি নদীর তলদেশ থেকে ওপরে তোলা হয়। এর আগে এদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পল্টুনে ফেরিতে উঠতে গিয়ে উল্টে নদীতে ডুবে যায় বাসটি। বাসটিতে ৪৭ জনের অধিক যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১১জনকে জীবিত এবং ২৬জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকীরা নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক রাজিব হোসেন।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত প্রায় ৪০-এর বেশি যাত্রী বাসের ভেতর ছিলেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়নি। সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমরা সংবাদ সংগ্রহ করছি। কোনো নিখোঁজের সংবাদ পেলে আমরা আবার নামবো। আমরা পরিকল্পনা করে কিছুক্ষণের মধ্যে আবার উদ্ধার অভিযানে নামবো। অফিসিয়ালি উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়নি। গতকাল ২৩ জনের মরদেহ ও আজকে তিনজনের মরদেহসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখনো কেউ নিখোঁজ আছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিটের ১৫ জন ডুবুরি উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে। এছাড়াও কাজ করছেন কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্প্রতিবার বিকাল ৫টায় এরিপোর্ট লেখা  পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যে ২৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন, রাজবাড়ীর রেহেনা আক্তার ও তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান, কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রাজীব বিশ্বাস, রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের জহুরা অন্তি, একই মহল্লার কাজী সাইফ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের মর্জিনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার, কুষ্টিয়ার দেলোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান ইস্রাফিল, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর, রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের শিশু সন্তান তাজবিদ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের গাড়িচালক আরমান খান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের নাজমিরা ওরফে জেসমিন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিমা আক্তার, একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের জোৎস্না, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মুক্তা খানম, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের নাছিমা, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান, উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন এবং একই উপজেলার চর মদাপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের আয়েশা আক্তার, রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার শিশু সন্তান সোহা আক্তার, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিনের শিশু সন্তান আয়েশা সিদ্দিকা, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশু সন্তান আরমান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান।

রাজবাড়ি জেলা প্রশাসক  সুলতানা আক্তার বলেন,  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়ছে এবং তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার কথা বলা হয়েেেছ। নিহত ২৬জনের মধ্যে ১৮জনই রাজবাড়ি জেলার। এদের স্বজনদেরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হচ্ছে। অলরেডি রাজবাড়ি সদর উপজেলার ৯টি পরিবারের মধ্যে উক্ত টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। বাকীগুলো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।  উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :