
শাহজাহান বিশ্বাস:রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে যাত্রীসহ সোহার্দ্য পরিবহন যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ব-০০২৪ পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে।মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। পাঁচ থেকে ছয় জন যাত্রী পরিবহন থেকে নেমে পন্টুনে দাঁড়িয়ে ছিলো শুধু তারাই জীবিত আছে।এতে করে দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ( রাত সাড়ে ৮টা) বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আহত ৭জনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া বাস কিংবা নিখোঁজ যাত্রীদের কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সৌহার্দ পরিবহণের পাটুরিয়া ঘাটের চেকার বলেন, এটি ৪০সিটের বাস।পুরা সিটিই পরিপূর্ণ ছিল।
সোহার্দ্য পরিবহনের যাত্রী কালাম হোসেন জানান,, আমি এই গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি থেকে নেমে আমি পম্টুনে দাঁড়াই তার কিছুক্ষণ পরেই চোখের পলকে আমার সামনে দিয়ে গাড়িটি যাত্রীসহ পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। গাড়িতে আমার ব্যাক ও মূল্যবান কাগজ পাতি রয়েছে। কিছুই বের করতে পারিনি। গাড়িতে যে কটা সিট আছে সবকটাতে যাত্রী ইউজফুল ছিলো।পদ্মা নদী থেকে ৪/৫ জন যাত্রী উঠতে পারলেও সবগুলো ডুবে গেছে।হামজা ও ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। 
গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের লিডার ইয়াহিয়া খান জানান,, বিকেল পোনে ৬টার সময় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করি। আমাদের ফায়ার সার্ভিস দলের ডুবুরি দল না থাকায়। পাটুরিয়া থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক রাজীব বলেন,দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে মোট ৪৫/৪৭ জন যাত্রী ছিলেন।যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসের “চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ৫জনকে স্থানীয় গোয়ালন্দ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ রয়েছে।”
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধারকাজে নেমেছে। তবে উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), গোয়ালন্দ ঘাট থানা কিংবা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।
রাত সাড়ে ৮টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply