
শাহজাহান বিশ্বাস:পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে মানুষ ধামাই, নবীনগর,আশুলিয়া, গাজিপুর ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে । পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ভিড়।এ সুযোগে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবহণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।অসাধু পরিবহণ শ্রমিকরা এবার ভিন্ন কায়দায় বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শুক্র ও শনিবার দুপুরে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করে স্যালো নৌকা, লঞ্চ, ফেরি ও স্পিডবোটযোগে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে এসে বাসযোগে রাজধানি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে ফিরছেন। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই ধামরাই, নবীনগর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়গঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঈদের ছুটি গত সোমবার শেষ হলেও আগামি রবিবার থেকে অফিস করার জন অনেকে বাড়তি ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার থেকে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী ফিরতি যাত্রীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাগ, বাক্স-পেটোরা ও শিশু সন্তান নিয়ে অনেক নারী-পুরুষ যাত্রীরা আরিচা, পাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও উথলী পাটুরিয়া মোড়ে বাসে উঠার জন্য রাস্তায় বসে অপেক্ষা করছিল। আবার কেউ কেউ বাসের ভাড়া নিয়ে যানবাহন শ্রমিকদের সাথে দরকশাকশি করছিল।

পাটুরিয়া-গাবতলী রোডে সেলফি, নীলাচল ও পদ্মা লাইনসহ কয়েকটি পরিবহণ চলাচল করে থাকে। কিন্তু এসব পরিবহণ শুক্রবার দুপুরে উথুলী-পাটুরিয়া মোড় থেকে ২০০ টাকা করে ভাড়া নিয়ে শুধু নবী নগরের যাত্রী উঠাতে দেখা গেছে। গাবতলী বাস নেই বললেই চলে। যে কারণে গাবতলীগামী যাত্রীদেরকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। কারণ এরা একবার দুইশ’ টাকা ভাড়া দিয়ে নবীনগর গিয়ে সেখান থেকে আবার ১০০টাকা ভাড়া দিয়ে গাবতলিতে পৌঁছাতে হচ্ছে। এভাবে তাদের গাবতলী পৌঁছাতে ২শ’ টাকার স্থলে ৩০০টাকা করে ভাড়া লাগছে। এর আগে নবীনগরের ভাড়া ছিল ১২০টাকা। আজ শুক্রবার ২০০টাকা করে নিতে দেখা গেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাটুরিয়া ঘাট থেকে ৩/৪শ’ টাকা করে ভাড়া নেয়ার অি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সরাসরি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে প্রশাসনের ঝামেলায় পড়তে হয়। এ ঝামেলা এড়াতেই পরিবহণ শ্রমিকরা এবার নতুন কৌশল অবলম্বন করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
পাবনা থেকে আসা পোশাক শ্রমিক আক্কাস আলী বলেন, বাড়ি গিয়ে ঈদ করে সব শেষ। এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর। নবীনগরের ১২০ টাকার ভাড়া ২০০টাকা নিচ্ছে।
সাথিয়ার আবুল হোসেন বলেন, তিনি যাবেন ঢাকার গাবতলী। দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন উথলী পাটুরিয়া মোড় এলাকায়। আগে এখান থেকেই সেলফি পরিবহণে উঠে ঢাকা যেতেন। কিন্তু ওই পরিবহণগুলো আজকে ২০০টাকা করে ভাড়া নিয়ে শুধু নবীনগর ও সাভারের যাত্রী উঠাচ্ছে।
স্থানীয় যাত্রী বিল্লাল হোসেন বলেন, সেলফি, নীলাচল, পদ্মা লাইনসহ কয়েকটি বাস আজকে মানিকগঞ্জসহ স্থানীয় কোন যাত্রীই তারা তুলছে না। যে কারণে লোক স্থানীয় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোন উপায় না পেয়ে এসব যাত্রীরা ৫০টাকার স্থলে ১০০টাকা ভাড়া দিয়ে পিকাপ, সিএনজিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সেলফি গাড়ির এক চালক বলেন, গাড়িগুলো যাওয়ার সময় ভর্তি করে গেলেও আসার সময় আবার খালি আসতে হয়। তাই যেটা বাড়তি নিচ্ছে এটা আসলে বাড়তি না। সেলফি গাড়িগুলো তেলের হওয়ায় আপ-ডাউনে অনেক টাকার তেল লাগে।এছাড়া এবার তেলেরও সংকট রয়েছে। তাই ঈদের বাজার যাত্রীদের নিকট থেকে একটু ধরে নেওয়া ছাড়া উপায় নাই।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনির হোসেন বলেন, বাড়তি ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে আমরা শোনার সাথে সাথে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন শ্রমিকদেরকে বাড়তি ভাড়া না নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বাড়তি ভাড়ার নেয়ার ব্যাপারে আমরা জিরোট্রলারেন্স। এব্যাাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। আমি এবং আমার লোকজন নিয়ে সারাটা দিন প্রতিটি গাড়িতে উঠে যাত্রীদেরকে বাড়তি ভাড়া না দেয়ার জন্য সচেতন করছি।
আমরা চেষ্টা করছি পরিবহন শ্রমিকরা যাতে বাড়তি ভাড়া না নিতে পারে। আজকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার জন্য একটি গাড়িকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর অন্যান্য কারণে ৪টি গাড়িকে মামলা দেয়া দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply