
অনলাইন ডেস্ক: কয়েক দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল মোখা শক্তিশালী রূপ ধারণ করে আছড়ে পড়বে বাংলাদেশের কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। সিডরের আকার ধারণ করতে পারে- এমন ধারণাও দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে সরকারের প্রস্তুতি ছিল একেবারে আঁটসাঁটভাবে। যেন কোনোভাবেই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মোখার প্রস্তুতি মনিটর করেছেন।
ঝড়ের সংকেত দেখলেই অনেকের ধারণা হয়ে যায়, কী ভয়ংকর হতে পারে মোখা। একেবারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত সারা দেশকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন, এটা সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, না সুপার সাইক্লোন হবে না। তিনি অবশ্য আবহাওয়া অফিসের সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়েই এই কথা বলেন। এরপরও মোখা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো শেষ ছিল না।
আবহাওয়া অফিস ক্ষণে ক্ষণে বুলেটিন দিয়েছে। প্রেস বিফ্রিং করেছে মোখার গতি-প্রকৃতি নিয়ে। সর্বশেষ ধারণা ছিল, রোববার বিকাল নাগাদ আঘাত হানবে। রোববার সকাল থেকেই মোখার অগ্রভাগ তার নিজস্ব শক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ১২টায় মোখা সমুদ্রের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্র যখন সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও মিয়ানমারের মংডু জেলার মধ্যবর্তী স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা শুরু করে, ঠিক তখনই সমুদ্রে ভাটা শুরু হয়ে যায়। যে কারণে সমুদ্রের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার স্থল ভাগে আঘাত করার সময় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পড়ে।
দুর্বল হওয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে এম আজম চৌধুরী বলেন, মে মাস গরমের মাস। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় এ মাসে বেশি। আবার তাপমাত্রার কারণে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। মোখা প্রথম দিকে বাংলাদেশের দিকে কেন্দ্র ছিল। পরে আস্তে আস্তে মিয়ানমারের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে সমুদ্রে ভাটার টান থাকার কারণে সমুদ্রেই দুর্বল হয়ে যায় মোখা। যদি জোয়ার থাকত তা হলে মোখা আরও গতি পেত।
Leave a Reply