1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তিস্তার পানি চায়

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৬৭ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক:দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির প্রশ্নে মতপার্থক্য দূর করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে; জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে পানিবণ্টন হতে হবে। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস সার্ক চেতনার পুনরুজ্জীবন প্রত্যাশা করেন। খবর পিটিআই ও দ্য হিন্দুর।

ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে পিটিআইকে ড. ইউনূস বলেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় দুই দেশের কারও কোনো লাভ হচ্ছে না। ড. ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে এবং সেগুলো তারা চান।

পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই সমস্যার (পানিবণ্টন) দিকে নজর না দিলে কিছু হবে না। যদি জানতাম কতটুকু পানি পাব, তা হলে স্বাক্ষর করা ভালো হতো, এমনকি চুক্তি নিয়ে পুরোপুরি খুশি না হয়েও। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ভারতকে চাপ (পুশ) দেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, নতুন সরকার এই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা চালাবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চাপ শব্দটি অনেক বড়; আমি এই কথা বলছি না, তবে আমরা আলোচনা করব। আমাদের একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এতে সম্মতি দেননি। কারণ হিসেবে তিনি তার রাজ্যে পানির ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ড. ইউনূস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়, পুরোনো সমস্যা। আমরা এই বিষয়ে অনেকবার আলোচনা করেছি। আলোচনা পাকিস্তানের শাসনকাল থেকেই শুরু হয়েছিল। আমরা সবাই এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে চেয়েছিলাম, ভারতের সরকারও তৈরি ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার তৈরি ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করতে হবে।’

সে সময় বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর নির্দিষ্ট অধিকার সমুন্নত রাখতে চাওয়ার অধিকার থাকার বিষয়টি সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। ভাটির দেশগুলোর নির্দিষ্ট কিছু অধিকার আছে আর সেই অধিকার আমরা চাই।’

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কদিন আগে পিটিআইকে বলেছিলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে আবারও আলাপ শুরুর তাগিদ দেবে ঢাকা। সে সময় উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পানিসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা। সৈয়দা রিজওয়ানার এমন মন্তব্যের কয়েক দিন পরেই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস একই অবস্থান নিলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চাওয়া হয় ড. ইউনূসের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় হাইকমিশনার যখন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তখন আমি বলেছি, বন্যার সময় পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই লক্ষ্যে আমরা অধিকতর ভালো ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কাজ করতে পারি। দুই দেশের মধ্যে এরকম সমন্বয়ের জন্য আমাদের মধ্যে কোনো প্রকার চুক্তি থাকার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একসঙ্গে কাজ করে এর সমাধান করতে পারি। এটি গণমানুষের দুর্দশা লাঘব করবে। এ ধরনের মানবিক পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।’

সীমান্ত হত্যার কঠোর প্রতিবাদ : ড. ইউনূস সীমান্ত হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় হত্যাকাণ্ড কোনো সমাধান নয়। তিনি ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের কথিত হত্যাকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুরতা’ আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘কাউকে হত্যা কোনো সমাধান নয়। কেননা এসব মোকাবিলার জন্য আইনি পদ্ধতি রয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য একটি গ্রাউন্ড মেকানিজম এবং আইনি প্রক্রিয়া থাকতে হবে।’

ড. ইউনূস কড়া ভাষায় বলেন, ‘আপনার দেশ দখলের জন্য কেউ সীমান্ত অতিক্রম করছে না। যাদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে তারা শুধু মালামাল পারাপার করে। এটা নিষ্ঠুরতা। এটা বন্ধ করতে হবে।’

সার্কের পুনরুজ্জীবন : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার আট জাতির জোট (সার্ক) আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ বলে সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্ক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও একটি ফটোসেশনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান ড. ইউনূস।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :