1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৮৮ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতার শুরুতেই বাংলাদেশে সংসদীয় রীতির রাষ্ট্রপ্রধান ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে সেখান থেকে সংবিধানে পরিবর্তন এনে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।

এই সরকার ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে। তাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই কাঠামোতে একজন উপরাষ্ট্রপতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সংবিধানের বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই ব্যবস্থায় জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে তার উপরাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার এবং ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা ছিল। তবে সামরিক রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আবারও সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরে আসে দেশ। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিধান ফিরে আসে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। শর্তসাপেক্ষে তিনি নিজ থেকে শুধু দুটি কাজ করতে পারেন, তা হলোÑপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করা। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কিছুই করতে পারেন না।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এই দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর। দেশে ১৯৭২-৭৫ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু থাকার সময় এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পর এক মেয়াদের ব্যতিক্রম বাদ দিলে সংসদে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিরা দলের বাইরে গিয়ে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করেননি। দলের প্রতি, বিশেষ করে দলের সভাপতির প্রতি আনুগত্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার একটি প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে কাজ করেছে। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ না করেই বিদায় নেন তৃতীয় রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। চতুর্থ রাষ্ট্রপতি মুহম্মদ উল্লাহও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ না করেই বিদায় নেন এবং সে সময় আবারও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতায় আসেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থানের মধ্যে ৬ নভেম্বর বিদায় নিতে হয় তাকে। এরপর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তাকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় বসেন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হন তিনি। জিয়ার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার এবং ১৯৮১ সালের ২০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে এএফএম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদে বসান তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তাকে সরিয়ে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নিজেই দেশের রাষ্ট্রপতি পদ দখল করেন। গণ-আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ।

এরশাদের পতনের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আসেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। নির্বাচন দিয়ে ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফিরে যান তিনি। ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা আবদুর রহমান বিশ্বাস। আবদুর রহমান বিশ্বাসের পর সাহাবুদ্দীন আহমদকে আবারও রাষ্ট্রপতির পদে বসায় আওয়ামী লীগ সরকার। পাঁচ বছর রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলে ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর বিদায় নেন তিনি। সাহাবুদ্দীনের পর বিএনপি আমলে রাষ্ট্রপতি হন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিএনপি সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি।

বদরুদ্দোজার বিদায়ের পর দায়িত্বে আসেন স্পিকার মো. জমিরউদ্দিন সরকার। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তারপর রাষ্ট্রপতি করা হয় ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদায় নেন তিনি। আবদুর রহমান বিশ্বাস, সাহাবুদ্দীন আহমদ ও ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাদের মেয়াদ পূর্ণ করলেও কোনো রকম বিদায়ি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া অনেকটা নীরবেই বঙ্গভবন ছাড়তে হয় তাদের।

২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জিল্লুর রহমান। ৪ বছরের মাথায় তিনি মারা যান। এরপর রাষ্ট্রপতি হন আবদুল হামিদ। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ৪১ দিনসহ টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১০ বছর ৪১ দিন রাষ্ট্রপতির চেয়ারে ছিলেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ সোমবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :