
অনলাইন ডেস্ক: এক দশকেরও বেশি সময় টানা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর গতকাল সোমবার বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিলেন মো. আবদুল হামিদ। বিদায়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সদ্য সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে গণমাধ্যমের প্রশ্ন ছিল, পরবর্তী জীবনে কী করবেন? জবাবে আবদুল হামিদ বলেন, আমি তো এখন রিটায়ার্ড হয়ে গেছি। দোজ হু আর টায়ার্ড, দে গো ফর রিটায়ার্ড। এখন বাড়ি বসে থেকে কিছু লেখালেখি করতে পারি। কিন্তু সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার পরিকল্পনা নেই।
কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আমাকে এত বড় ইজ্জত দিয়ে দুই মেয়াদে দেশের সর্বোচ্চ পদে রাষ্ট্রপতি করেছে। সুতরাং আবার আমি রাজনীতি করা বা অন্য কোনো পদে যাব-এটা করলে এ দেশের মানুষকে আমি হেয় করব। সুতরাং সেটা আমি করব না।
‘আপনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে ভালোবাসেন। বলছেন, ১০ বছর অনেকটা বেড়াজালের মধ্যে ছিলেন। এখন কীভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশবেন?’ গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ১০ বছর বন্দি থাকলেও তাদের (সাধারণ মানুষ) প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল না, তা নয়। সেটা ছিল। তবে কাছে গিয়ে সবার কাছে প্রকাশ করতে পারি নাই। এখন অনেকের কাছে সেটা প্রকাশ করতে পারব।’
সদ্য শপথ নেওয়া নতুন রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, উনি সাংবিধানিক দায়িত্ব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন-এটাই সারা জাতির প্রত্যাশা এবং আমারও প্রত্যাশা।
দুই মেয়াদে দীর্ঘ ১০ বছর দায়িত্ব পালনের ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলোয় হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, এটা বাংলাদেশে হয়নি, ভারতে দুবার হয়েছে, কিন্তু ১০ বছর কেউ ছিল না। আবার পাকিস্তানে তো পাঁচ বছরের ওপরে কেউ ছিল না। সুতরাং এ উপমহাদেশে আমার মনে হয় আমিই সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কারণ, ১০ বছর ছাড়াও আরও বোধ হয় ৪১ দিন বেশি আছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়।
আবদুল হামিদ বলেন, আমি স্পিকার ছিলাম। আমার এখানে আশার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আমি আসছি আরকি। আমি পার্লামেন্টে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। কারণ, ওখানে নিজেকে মুক্ত বলে মনে হতো। আমি জানি যে এখানে এলে অনেকটা বেড়াজালের ভেতরে পড়ে যাব। যা-ই হোক, তবু ১০ বছর মোটামুটি পার করে ফেলেছি।
Leave a Reply