1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক

দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে পাহাড়ে

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩২৫ বার পড়েছেন
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে পাহাড়ে

অনলাইন ডেস্ক: বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে ‘কেএনএফ’ সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলা চালিয়ে টাকা লুট, শাখা ম্যানেজারকে অপহরণ, থানচি থানায় দীর্ঘসময় গুলিবর্ষণসহ ধারাবাহিক দুর্ধর্ষ ঘটনাগুলো নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে সরকারকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়েন্দারা বলছেন, শান্তি আলোচনার নেপথ্যে মূলত আরও বেশি অস্ত্র-সরঞ্জাম বৃদ্ধির কৌশলেই এগিয়েছে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ)’। সেটি তারা জানানও দিয়েছে গত ২ এপ্রিল রুমায় সোনালী ব্যাংকে ও পরে থানচি থানায় সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে। এসব অস্ত্র বাইরের কোনো দেশ থেকে সরবরাহ হচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ফলে নতুন করে আর ভয়ানক রূপ নেওয়া কেএনএফ সন্ত্রাসীদের আর কোনো ছাড় না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে তাদের নির্মূল করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কেএনএফর অস্ত্র তথা সশস্ত্র সদস্যের সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা শান্তি আলোচনার কথা বললেও গোপনে বা কৌশলে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য বাড়ানোর অপতৎপরতা চালায়। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত যে দুইবার তারা শান্তি আলোচনায় বসেছিল, সেখানেও তারা তাদের অপকর্মের পক্ষেই সাফাই ও যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করে গেছে। এ পর্যন্ত তদন্তে মনে হচ্ছেÑ টাকার জন্য এবং নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার জন্য তারা এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ বছর দুই আগে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠলেও তাদের সশস্ত্র তৎপরতা মাঝখানে অনেকটাই ‘নিস্তেজ’ হয়ে পড়েছিল। র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের পর দৃশ্যত তাদের তৎপরতা কমে যায়। একপর্যায়ে বলা হচ্ছিল, শক্তি-সক্ষমতা হারিয়ে এখন তারা শান্তি আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক পথে ফিরতে চায়। আর সে প্রস্তাবে সরকারও আন্তরিক হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘শান্তি কমিটি’ গঠন করে কেএনএফের নেতৃত্ব দেওয়া বম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে দুই দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবারও তৃতীয় দফায় শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু তার দুদিন আগেই কেএনএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মিলে আক্রমণ করে রুমা উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের শাখায়। এরপর থানচি থানায় সশস্ত্র হামলাসহ একাধিক স্থানে তাদের সহিংস উপস্থিতি জানান দিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তোষামোদ করে কোনো শান্তি আলোচনা হয় না। তার প্রমাণ আবারও দিয়েছে কেএনএফ। ফলে এখন একমাত্র পথ এই সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা। তা না হলে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হুমকিতে পড়বে।  তিনি বলেন, একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হয়েও কতটা দুঃসাহস দেখিয়েছে যে, তারা ব্যাংক লুট করছে। থানায় হামলা চালাচ্ছে! এরপরও তাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ কেন নয়? সরকার থেকে কেন এমন ঘোষণা আসছে না? মুজিবুর রহমান বলেন, কেএনএফ সন্ত্রাসীসহ পাহাড়ি এই জাতীয় সন্ত্রাসীদের আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তামিল টাইগারদের মতো করে তাদের দমন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বান্দরবানে হঠাৎ আবারও সশস্ত্র তৎপরতা বাড়ানো কেএনএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী মিলে অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে অপহৃত ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং র‌্যাবের মধ্যস্থতায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২ এপ্রিল থেকে ওই সন্ত্রাসীরা যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে সেগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত তাদের শনাক্তে কাজ করছে র‌্যাব। পাহাড়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অভিযান চলমান থাকবে।

কমান্ডার আল মঈন আরও বলেন, র‌্যাব এর আগেও ২০২২ সালে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কেএনএফের কার্যকলাপ শনাক্ত করে। তারা পাহাড়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া  নামে একটি সংগঠনকে টাকার বিনিময়ে অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। সে সময় এই জঙ্গি সংগঠনের সব সদস্য এবং কেএনএফের কিছু সদস্যকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। আমাদের অব্যাহত অভিযানের কারণে কেএনএফ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শান্তি আলোচনা চলাকালীন তারা আবারও রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে। কেএনএফের এবারের তৎপরতার বিষয়টি মূলত টাকার জন্য এবং নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যকে জানান দিতে বলেই মনে হচ্ছে।

গত ১৪ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হয়েছিলেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মার্মা। অপহরণের চার ঘণ্টা পর আবার মুক্তি পান। মুক্ত হয়ে ফিরেও তিনি সরাসরি অপহরণকারীদের বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়রা জানান, কেএনএফ সন্ত্রাসীরা পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যানকে অপহরণ করেছিল। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে উহ্লা মং মার্মা নিজেও এলাকা ছেড়ে এক ধরনের আত্মগোপনে আছেন।

কেএনএফের আকস্মিক এই সশস্ত্র তৎপরতার প্রসঙ্গে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লা মং মার্মা মুঠোফোনে বলেন, ‘কেএনএফের কারণে রুমা, থানচিসহ আমাদের অনেক এলাকায় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশাল সমস্যায় আছি আমরা। কেএনএফের কারণে আমি নিজেও এলাকা ছাড়া। এইভাবে আর কতদিন থাকা যায়? সম্প্রতি সময়ের এসব ঘটনায় মনে হচ্ছে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই জাতীয় একটি সংগঠন, যা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে সশস্ত্র হামলা চালানোর মতো দুঃসাহসিকতা দেখাচ্ছে, এটা সাধারণ বিষয় নয়। এই ধরণের তৎপরতা ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। ফলে কেএনএফের এই সশস্ত্র তৎপরতার পেছনে স্বাভাবিকভাবেই দেশি-বিদেশি কোনো মদদ আছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু এই সন্ত্রাসীদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জাম থাকার খবর জানা যাচ্ছে, তা হলে এগুলো তারা কোথায় পাচ্ছে? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দেশ থেকে বা এমন কেউ বা কোনো গোষ্ঠি সরবরাহ করছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে এবং সেটা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, কুকি জাতিগোষ্ঠী বা বম সম্প্রদায়ের অনেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরাম ও মনিপুরে বসবাস করেন বলে আমরা জানতে পারি। পাশাপাশি মিয়ানমারেও কিছু অংশে এই সম্প্রদায়ের লোকজনের বসতি আছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে সহজেই প্রতিবেশী দেশের সীমানায় গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে। ত্রিদেশীয় সীমানার সুযোগ দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রতিবেশি দুই দেশের সঙ্গে কেএনএফ বিরোধী অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও জোরালো করতে হবে।

জানা যায়, ২০২২ সালের অক্টোবরে কেএনএফ সশস্ত্র তৎপরতার মাধ্যমে হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে বহুল আলোচিত ‘ভূখণ্ড বিচ্ছিন্নে কুকিদের নীলনকশা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। অনলাইনে প্রকাশ করা হয় কেএনএফ সন্ত্রাসীদের সামরিক প্রশিক্ষণের ভিডিও।

এরপর সেনাবাহিনী ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে পাহাড়ে অভিযান শুরু হয়। ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা। এসময় আত্মগোপনে চলে যান কেএনএফ প্রধান নাথান বম। বর্তমানে এই নাথান বম ভারতের মিজোরামে কিংবা ইউরোপে অবস্থান করে পেছন থেকে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সুত্র:সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :