
অনলাইন ডেস্ক: দেশের তরুণ জনগোষ্ঠি প্রায় ৪ কোটি, যারা আগামী দিনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দিবেন। তামাক কোম্পানিগুলো তাদেরকে সিগারেটের নেশায় ধাবিত করতে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধূমপানের নেশার মাধ্যমে যুবসমাজ মাদকের নেশায় ধাবিত হয়। তাই ধূমপান ও তামাক থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হবে। আগামীতে সুস্থ-সবল জাতি গঠন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের ক্ষতিকর নেশা থেকে দূরে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এর যৌথ উদ্যোগে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দীন আহমেদ। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধী সংস্থা (মানস) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল’র সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানস’র সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি ইউনিয়নের কারিগরী পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে তামাকমুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ভূমিকা রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্ত সংস্থা সমূহ এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে, অধীনস্ত সংস্থাসমূহের অফিস, স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়া অনুষ্ঠানগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষণে তামাক ও মাদক নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় অন্তর্ভূক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের নেশা থেকে দূরে রাখতে হবে। ধূমপান হচ্ছে মাদক সেবনের প্রবেশ পথ। তাই ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ করা হলে দেশকে মাদকমুক্ত করাও সম্ভব হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে তামাক ও মাদকমুক্ত করার ক্ষেত্রে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এগিয়ে আসা দরকার।
এনটিসিসি’র সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, দেশের বড় অংশ যুব সম্প্রদায়। এদের মধ্যে ক্রীড়া জগতের তারকাদের প্রভাব রয়েছে। তাই ক্রীড়াজগত ও যুব সমাজসংশ্লিষ্ট সকল অনুষ্ঠান তামাকমুক্ত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক প্রতিভাবান তরুণ নেশার কারণে ক্রীড়াজগত থেকে হারিয়ে গেছে। এদের প্রায় সকলে ধূমপানের মাধ্যমে নেশার জগতে প্রবেশ করে। তাই দেশকে তামাকমুক্ত করা হলে ক্রীড়াজগতও উপকৃত হবে। প্রবন্ধে এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি তুলে ধরে বলেন, সাংবিধানিক, আন্তর্জাতিক ও নৈতিক কারণে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এলক্ষ্যে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের স্থান বিলুপ্ত, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং খুচরা শলাকা সিগারেট বিক্রয় নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
মানস’র প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত এর সঞ্চালনায় সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ক্রীড়া পরিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ঢাকাসহ তামাক বিরোধী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply