
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা চলতি বছরের শুরু থেকেই সব রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। যার ধারাবাহিকতায় রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত যথাক্রমে জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভিসানীতি প্রকাশ করে যে সতর্কবার্তা জারি করেছে, তারপর নির্বাচনি পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন আসছে কি না, ভিসানীতি প্রকাশের পর বড় দলগুলো আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা। এ দেশের বিষয়ে তাদের এত ভাবনার পেছনের কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে এ দেশগুলোর বিনিয়োগ রয়েছে এবং এ জন্য তারা অস্থিতিশীল পরিবেশ চায় না।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে দেখতে চান। এটা তারা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ-পরস্থিতি বোঝার জন্যই তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছেন।
বিদেশিদের ভাষায় সব রাজনৈতিক দল বলতে আসলে কী বোঝায়, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, সব দল এসব কথার কথা। মূল বিষয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ আছে, বিএনপিকেও আসতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বা বাকিরা যাই বলুক না কেন, এই দেশে এখন দুটি রাজনৈতিক দল আছে, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে এবং ১০ বছর সংসদের বাইরে থাকলেও বিএনপি কিন্তু অস্তিত্বহীন হয়ে যায়নি। এ দেশের বিরোধী দল বলতে বিএনপিকেই বোঝায়। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে সবদল অংশ নিয়েছে এ কথা বলা যাবে না। যদি বিএনপি ছাড়া সব দলই নির্বাচনে অংশ নেয় তা হলেও এই তত্ত্বের কোনো পরিবর্তন হবে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক তখনই হবে যখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়েই অংশ নেবে।
নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী এবং নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী শারমিন মুর্শিদ এই প্রতিবেদককে বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আসন্ন ভোটের পরিস্থিতি বোঝার জন্য আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা কী বোঝাচ্ছেন, জানতে চাইলে শারমিন মুর্শিদ বলেন, বিদেশিরা সরাসরি না বললেও তাদের মূল বার্তা হচ্ছে তারা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়কেই চান। অর্থাৎ আমরা কোনো দলের কথা না বলে এটা বলতে পারি যে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে যাতে নির্বাচন হয়। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তবে কী অংশ্রগহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে শারমিন মুর্শিদ বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর দলের একটি। তারা যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই দুর্বল হয়ে যায়। তখন প্রশ্ন উঠে যে নির্বাচনের কী পরিবেশ সৃষ্টি করা হলো যে বিরোধী দলগুলো আসতে পারল না।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে রোববার বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বৈঠক বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত মাসরুর মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে একটা সাধারণ বৈঠক হয়েছে। আমরা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেব তা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি নির্বাচন ইস্যুতে গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক নির্বাচনি ব্যবস্থা ও বর্তমান মানবাধিকার তারা জানতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশে কী হচ্ছে, আগামীতে কী হতে যাচ্ছে, আগামী দিনে বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে-এটা তারা বোঝার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে যা হচ্ছে আমরা তাই তুলে ধরেছি।
সুত্র: সময়ের আলো
Leave a Reply