
অনলাইন ডেস্ক: একুশ বাঙালিকে গেঁথেছে এক অবিনাশী সূত্রে। দিয়েছে আত্মপরিচয়। তাই তো ভালোবাসা নিবেদনের পর্বটাও একটু আলাদা। আর সেই ভালোবাসার টানে কাঁটাতারের ব্যবধান মুছে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতা থেকে ৫০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে চড়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসেছেন ভারতীয় এক দল নাগরিক। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি সংগঠনসহ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে একাধিক নাগরিক। তাদের অনেকের পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশে। কারও আবার নিজের বাড়ি অথবা শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের শহিদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই বছরজুড়ে পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান এই ভারতীয়রা।
সাইকেলে চড়ে আসা দলটি সোমবার ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেন। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় তাদের। তারা জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হুগলির চন্দননগর থেকে সাইকেলে করে রওনা দেয় আটজনের দলটি। কলকাতা-সোদপুর-বারাসাত-বনগাঁ-পেট্রাপোল স্থলসীমান্ত বন্দর পেরিয়ে সাইকেল র্যালিটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি। পরে বেনাপোল-নড়াইল-ভাঙ্গা-মাওয়া হয়ে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পৌঁছান তারা। এই সফরের নাম তারা দিয়েছেন ইন্দো-বাংলা ইন্টারন্যাশনাল সাইকেল র্যালি।
শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর অনুভূতি প্রকাশ করে এই দলের সদস্য শৈবাল ব্যানার্জি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ভাষা নিয়ে যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান, ভাষা নিয়ে যে উন্মাদনা, তা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করা অনেক গর্বের। তাই আমরা কাঁটাতারের ব্যবধান মুছে ৫০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে চড়ে এখানে এসেছি।
শৈবাল বলেন, বাংলা ভাষাভাষী যে অঞ্চলেই থাকুক, আমরা পশ্চিম বঙ্গ কিংবা পূর্ব বাংলা অথবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই থাকি না কেন, আমাদের শেকড় এই বাংলা ভাষা।
এই দলে অন্যদের মধ্যে আছেন শৈবাল ব্যানার্জির স্ত্রী মহুয়া ব্যানার্জি, অঞ্জন দাশ, শ্রীকান্ত মণ্ডল, প্রসেনজিৎ সরকার, প্রণব মাইতি, সত্যব্রত ভান্ডারি ও রমজান আলি।
শ্রীকান্ত মণ্ডল সময়ের আলোকে বলেন, এখানে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে গর্ববোধ করছি এবং মানুষের ঢল দেখে অভিভূত হয়ে গেছি। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা পূরণ হলো।
এদিকে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত বিশ্ব গড়ার ক্যাম্পেইন নিয়ে কলকাতা থেকে পায়ে হেঁটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন আরেক ভারতীয় নাগরিক আলমগীর খান। পিঠের ব্যাগে সযত্নে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ও ভারতের পতাকা পরম শ্রদ্ধাভরে বহন করছেন তিনি।
আলমগীর জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বারাসাত থেকে শুরু হয় তার পদযাত্রা। পথে পথে তিনি থ্যালাসেমিয়ামুক্ত বিশ্ব গড়তে এবং প্রত্যেক বাড়িতে রক্তদাতা তৈরি করতে প্রচার চালান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও পশ্চিম বঙ্গের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। বাঙালি মানে একসত্তা, এক জাতি। কেবল সীমান্ত আমাদের পৃথক করে রেখেছে।
পরিচয় নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে কলকাতা থেকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন কৃষ্ণা ভট্টাচার্য। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে ভাষার ইতিহাস ও গল্প শুনেছি। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে আসব। আজ সেই দৃশ্য দেখে ও উপলব্ধি করে ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।
Leave a Reply