1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

আবদুল হামিদ অবসরে যেভাবে সময় কাটাবেন

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৩২৬ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: একটি বিখ্যাত গানের কলি হচ্ছে, ‘বিদায় হে বন্ধু গো বলো/ বিদায় লগ্ন কেন আসে /কান্নায় ভরে উঠে মন/আঁখি দুটি জলে কেন ভাসে’। কিন্তু বাংলাদেশের দীর্ঘতম রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিদায় ছিল আনন্দের। ৫২ বছরে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাল বঙ্গভবন। বঙ্গভবন থেকে রাজকীয় বিদায়কে তাই অনেকে বলেছেন, এ যেন আনন্দঅশ্রু মিশ্রিত বিদায়।

টানা ১০ বছর ৪১ দিন বঙ্গভবনে ছিলেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এখন তার অফুরন্ত অবসরের পালা। এখন যেন তিনি মুক্ত বলাকা। এখন পাখনা মেলে দেবেন দৃষ্টি যেদিকে যায়। কিন্তু এ অবসরে তিনি কীভাবে দিন সময় কাটাবেন। বিখ্যাত শিল্পী আশা ভোসলের একটি গানের কলি হচ্ছে, ‘আমার দিন কাটে না রাত কাটে না/ স্মৃতিগুলো কিছুতেই পিছু হটে না’। হয়তো আবদুল হামিদের নিজের অজান্তে কত স্মৃতি ভেসে আসবে। কত স্মৃতি হয়তো হবে সুখের, আবার কত স্মৃতি হবে দুঃখের।

অফুরন্ত অবসর তিনি কীভাবে কাটাবেন- এ নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে তিনি তার কাছের মানুষদের মন খুলে বলেছেন, অফুরন্ত অবসরে কীভাবে দিন কাটাবেন। বিশেষ করে বঙ্গভবনে যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে দুয়েকজন সেই বার্তাটি দিয়েছেন।

আপাতত রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে মো. আবদুল হামিদের দিন কাটবে কয়েক দিন। এরপর তিনি উড়াল দেবেন নিজ গ্রামে। আর বেশিরভাগ সময় কাটাবেন হাওরে। হয়তো জোছনায় ভেসে যাবে সেই হাওর, মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে চেয়ে দেখবেন সেই জোছনার কাফন। আবার কখনো হয়তো একটা ছোট ডিঙ্গি নিয়ে ভেসে বেড়াবেন ঢেউয়ের তালে তালে।

হাওর আবদুল হামিদের খুবই পছন্দের। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে একসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সম্পদ বড়ুয়া। তিনিও অবাক হয়েছেন আবদুল হামিদের হাওর প্রীতি দেখে। সম্পদ বড়ুয়ার সঙ্গে আবদুল হামিদের কাজের রসায়ন এমনভাবে মিলে গিয়েছিল যে, তিনি তার কর্মজীবনের শেষ পর্যন্ত সঙ্গে রেখে দিয়েছেন। সম্পদ বড়ুয়া বর্তমানে রাষ্ট্রপতির সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার আবদুল হামিদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তিনি অবসরে তিন জায়গায় কাটাতে চান। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় কাটাবেন হাওরে। হাওর যে তার কত প্রিয় তা আবার প্রমাণ করলেন তার বক্তব্যে।

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, পরবর্তী জীবনে কী করবেন? জবাবে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি তো এখন রিটায়ার্ড হয়ে গেছি। দোজ হু আর টায়ার্ড, দে গো ফর রিটায়ার্ড। এখন বাড়ি বসে থেকে কিছু লেখালেখি করতে পারি। কিন্তু সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার পরিকল্পনা নেই। কারণ দেশের মানুষ আমাকে এত বড় ইজ্জত দিয়ে দুই মেয়াদে দেশের সর্বোচ্চ পদে রাষ্ট্রপতি করেছেন। সুতরাং আবার আমি রাজনীতি করা বা অন্য কোনো পদে যাব, এটা করলে এ দেশের মানুষকে আমি হেয় করব। সুতরাং সেটা আমি করব না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, আপনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে ভালোবাসেন। বলছেন, ‘১০ বছর অনেকটা বেড়াজালের মধ্যে ছিলাম।’ এখন কীভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশবেন? এর উত্তরে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ১০ বছর বন্দি থাকলেও তাদের (সাধারণ মানুষ) প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল না, তা নয়। সেটা ছিল। তবে সবার কাছে প্রকাশ করতে পারিনি। এখন অনেকের কাছে সেটা প্রকাশ করতে পারব।’

দুই মেয়াদে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালনের ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলোয় হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘এটা বাংলাদেশে হয়নি, পার্শ্ববর্তী ভারতে দুবার হয়েছে, কিন্তু ১০ বছর কেউ ছিল না। আবার পাকিস্তানে তো পাঁচ বছরের ওপরে কেউ ছিল না। সুতরাং এ উপমহাদেশেই আমার মনে হয়, সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কারণ, ১০ বছর ছাড়াও আরও বোধ হয় ৪১ দিন বেশি আছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়।’

দুই মেয়াদে টানা ১০ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর সোমবার এ পদ থেকে বিদায় নিলেন আবদুল হামিদ। নতুন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণের পর বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল হামিদ।

এদিকে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হামিদ কয়েক দিন রাজধানীর নিকুঞ্জের নিজ বাসা ‘রাষ্ট্রপতি লজে’ কাটাবেন। তিনি সোমবার বঙ্গভবন থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে রাষ্ট্রপতি লজে ওঠেন। এই বিদায়কে তিনি দুঃখের বলতে চান না। তিনি প্রাণবন্ত হাসিমুখে অবলীলায় বলেছেন, এ বিদায় আমার আনন্দের। কারও মনে কষ্ট না দিয়ে তিনি সব দুঃখকে ঢেকে দেন প্রাণবন্ত হাসিতে। কিন্তু এরপরও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের এক পংক্তি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। আর সেই পংক্তি হলো, কি গভীর মগ্ন সমস্ত আকাশ।

আবদুল হামিদের খুব ইচ্ছে তার আত্মজীবনী লেখার। হয়তো অবসর সময়টুকু সেভাবে লিখবেন। তার মুখ থেকে শুনে শুনে লেখার জন্য একজনকে ইতিমধ্যে বলে রেখেছেন। তবে এই মুহূর্তে তিনি ঘুরবেন মনের আনন্দে। নিকুঞ্জে অনেকের জন্য আপাতত প্রবেশ সীমিত হয়ে গেলেও কাউকে কাউকে তিনি ডেকে নেবেন। গল্প করবেন।

নিকুঞ্জে কয়েক দিন অবস্থান করার পর সোজা চলে যাবেন মিঠামইন। হয়তো সেখানে চায়ের দোকানে বসে চা খাবেন। গল্প করবেন মন খুলে। আবার হাওরে বেড়াবেন সঙ্গে কাউকে নিয়ে। কখনো হয়তো রিকশায় চড়ে এখানে-সেখানে যাবেন। ঘুরে ঘুরে দেখবেন প্রকৃতির যত আলো ছায়া রয়েছে। এতদিন চলতে গেলে বাধা পেতেন। সেই বাধা এখন হয়তো থাকবে না। তবে আগামী তিন মাস এই বাধা থাকতে পারে বলে একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বিশেষ চিকিৎসা কিংবা চেকআপের জন্য কয়েক দিনের জন্য বিদেশ যেতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, তিন জায়গায় সময় কাটাবেন। এক নিকুঞ্জ, দ্বিতীয় মিঠামইন, তৃতীয় হাওর। তবে সময়কে তিনি ভাগ করতে চান না। সময় বলে দেবে কোথায় কখন যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, মো. আবদুল হামিদ প্রথম দফায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নিয়ে সেদিনই বঙ্গভবনে উঠেছিলেন। যদিও এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের অসুস্থতার সময় এবং তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকার কারণে মো. আবদুল হামিদ ৪১ দিন ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে সে সময় তিনি বঙ্গভবনে ওঠেননি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরই মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে উঠেছিলেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

সংবিধান অনুসারে, দুই মেয়াদের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবদুল হামিদ ছাড়া আরও ১৬ জন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবদুল হামিদ স্বাধীন বাংলাদেশে সাতবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সংসদে নিজের এলাকা কিশোরগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকারের দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল হামিদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার আসনে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন ছেলে রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক। সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :