1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

শীতের চাদরে ঢাকা সারা দেশ

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৯৪ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: রংপুর নগরীর টার্মিনাল রোডে থাকেন ছাবিয়া বেগম। দুপুরে খড়ের গাদায় আগুন জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কিছুতেই পারছিলেন না। থরথর করে কাঁপছিলেন। নিজের মনে মনে আওড়াতে থাকেন, ‘সূর্য কী আকাশ থাকি হারে গেল বাহে?’। আসলে সূর্য হারিয়ে যায়নি। ঘন কুয়াশার চাদর সূর্যকে একেবারে ঢেকে দিয়েছে। কুয়াশার সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে শুষ্ক শীতল বাতাস। পাথর কুচি হয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা।

এই পরিস্থিতি এখন উত্তরাঞ্চলের ১৪টি জেলায়। এমন কি ঢাকা শহরেও। কনকনে শীত যেন আলপিন হয়ে সারা শরীরে বিঁধে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিদফতরের শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশের রাত আর দিনের অবস্থা কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। বরং আগামী ৫ দিনের মধ্যে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঘন কুয়াশা শিগগির কাটছে না। বরং শীত আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথ, আকাশপথ ও সড়কপথে চলাচল বিঘ্ন হতে পারে। শনিবার ১৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ভারতীয় প্লেন জরুরি অবতরণ করে আবার গোহাটির দিকে ফিরে গেছে। কারণ দিল্লিতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ২ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যে কারণে দিল্লিতে রেড অ্যালাট জারি করা হয়েছে। তারই প্রভাব বাংলাদেশে।

শীত নিবারণে দরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে কিছুটা উত্তাপ নিতে চেষ্টা করছে। গাইবান্ধায় আগুন পোহাতে গিয়ে এক বৃদ্ধা দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

 বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রতিনিধি/সংবাদদাতারা শীত নিয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রচণ্ড কনকনে শীতে খেটে খাওয়া মানুষরা কষ্টের মধ্যে পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে বিপন্ন জনজীবন। কাঁপছে মেঘনা পারের মানুষ। জনজীবন শুধু বিপর্যস্ত নয়, একেবারে জবুথবু। কম্বলের জন্য অনেক স্থানে আহাজারি। তবে একটা কম্বল পেলে খুব খুশি।

দিনাজপুর : শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৮ সেলসিয়াস-দিনাজপুরে। গত ১২ দিন ধরেই এ অঞ্চলে চলছে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে শহর। দিনে দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে অসহায় হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষরা।

ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শ^াসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রচণ্ড শীতে স্থানীয় অভাবি খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে না পেরে কোথাও কাজের সন্ধানে যেতে পারছেন না তারা। শহরের ষষ্টিতলা মোড়ে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিক আজিরন বেওয়া ও নুর ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশা ও কনকনে শীতের কারণে আমরা ঘর থেকে বেরই হতে পারছি না। কাজ পাব কীভাবে, খাব কী জানি না? এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়েই মরতে হবে। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিত্তশালীদের মধ্যে এ পর্যন্ত কেউ কোনো খোঁজখবর নেয়নি আমাদের।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সময়ের আলোকে জানান, দিনাজপুরে শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সকাল ৯টায় রের্কড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২ কিলোমিটার।

ঝালকাঠি : পৌষের শেষে হাড় কাঁপানো হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। বাতাসের সঙ্গে চলছে কুয়াশার দাপট। রাতে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ-যান ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না কেউ। বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া লোকজন। এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত নিবারণের জন্য বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা। ক্রেতারা দোকান ঘুরে দরদাম করে পুরোনো এসব শীতবস্ত্র কিনছেন। তবে অনেকেরই সাধ্য নেই শীতের কাপড় কেনার। যেখানে পরিবারের ভরণপোষণ করাটাই কষ্টদায়ক সেখানে শীতের কাপড় কেনার বাড়তি টাকা জোগাতে পারছেন না তারা।

বরিশাল : বরিশালে হঠাৎ করেই বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত দুই দিনের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র শীতে বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা। শনিবার বরিশালে মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর একদিন আগে শুক্রবার বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি বরিশালে। এ কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি। হঠাৎ করে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশালের জনজীবন। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাটে মানুষজনের চলাচল কম। বিশেষ করে দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। তারপরও পেটের দায়ে কাজে নামতে হয়েছে তাদের।

মাদারীপুর : মাদারীপুরে গত এক সপ্তাহ ধরে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সন্ধ্যার পরেই প্রচণ্ড শীত নেমে আসে। সেই সঙ্গে থাকে কুয়াশাও। সারা দিনে সূর্যের দেখা তেমন একটা মেলে না। দিনের বেলাতেও সড়কে লাইট জ¦ালিয়ে যানবাজন চলাচল করতে দেখা যায়। এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষরা। তবে শীতকে উপেক্ষা করেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের গৈদি বিল এলাকায় জমিতে কাজ করছিলেন ৫৫ বছর বয়সি কৃষক রাসমোহন বালা। তিনি বলেন, এ শীতের মধ্যেই কাজে নেমে পড়ছি। কাজ না করলে সংসার চলে না।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলার ৫৯টি ইউনিয়নে ৬০০টি করে কম্বল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। যা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। মাদারীপুরের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, মাদারীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় সবশেষ ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কুয়াশার মাত্রা গত কালের চেয়ে কিছুটা কম। তবে ঠান্ডার সঙ্গে হিমেল বাতাস বইতে থাকায় শীত কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

মোংলা (বাগেরহাট) : হঠাৎ শীত জেঁকে বসেছে মোংলাসহ সুন্দরবন উপকূলে। শীতের প্রকোপ বেড়েছে, বইছে বাতাসও। তাই প্রচণ্ড শীতে এখানকার জনজীবন এখন জবুথবু। গত দুই-তিন দিন ধরে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বস্তিতে বসবাসকারী অতিদরিদ্র শ্রেণির মানুষ। শীতে গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় তারা চেয়ে থাকেন ত্রাণের (কম্বল সহায়তা) দিকে। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শীতবস্ত্র পাননি তারা। এতে ক্ষুব্ধ শীতার্ত মানুষরা। শহরের বস্তি এলাকার মো. সেলিম ও রহিমা বেগম বলেন, প্রতি বছর শীত এলেই বিভিন্ন লোক কম্বল নিয়ে আসত। এবার এখন পর্যন্ত কেই একটা কম্বল দিল না। শীতে আমরা খুব কষ্টে আছি।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : ‘বাবা রে! হামার খ্যাতা নাই, বিছানাও নাই। হামার কষ্টের সীমাও নাই। যে জার পচ্ছে, খুবে কষ্ট করি থাকি। আইজকে তোমারগুলের কম্বলটা পায়া খুব উপকার হইল। এলা থাকি এই ঠান্ডাত আরামে নিন্দ পাইরবের পামো।’

শনিবার বিকালে আত-তানজিম পাঠাগারের দেওয়া কম্বল পেয়ে এভাবেই আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা ছালেহা বেওয়া।

কম্বল বিতরণের সময় তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লেবু, আত-তানজিম পাঠাগারের উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ হাসান, পাঠাগারের সভাপতি নাঈমুল ইসলাম নাঈম, সহ-সভাপতি আবদুুল্লাহ আল মাসুদ, প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে জবা রানী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণিপাড়া মহল্লায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই মহল্লার প্রয়াত বিপিন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, তীব্র শীতের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খড়ের আগুনের তাপ নিচ্ছিলেন বৃদ্ধা জবা রানী। এ সময় অসাবধানতাবশত খড়ের আগুন কাপড়ে লেগে তার শরীর দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে শুক্রবার রাতে মারা যান তিনি। জবা রানীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. ছামিউল ইসলাম।

হিলি (দিনাজপুর) : টানা চার দিন পর শনিবার বিকালে সূর্যের দেখা মিলছে দিনাজপুরের হিলিতে। তবে কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় কমছে না শীত। ট্রেনসহ যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে। কুয়াশার কারণে জ্বালাতে হচ্ছে হেডলাইট। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে থাকলেও মিলছে না কাক্সিক্ষত ক্রেতা। তবে শীতের প্রকোপ সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হতে শ্রমজীবী মানুষদের।

হিলি বন্দর এলাকার দিনমজুর আবেদ আলী বলেন, খুব ঠান্ডা পড়ছে বাবা। এ শীতে কেউ কাজে নিতে চায় না। তিন-চার দিন থেকে কাজ করতে এসে বাড়ি ঘুরে যাচ্ছি। আর কাজ না করলে খাওন জুটে না। আমাদের মতো গরিবের মানুষের কেউ খোঁজও নেয় না।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : হিমেল হাওয়া আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোটার মতো কুয়াশা ঝরছে এ উপজেলায়। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষজনের অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কিন্তু কর্মজীবী মানুষকে শীত উপেক্ষা করে বের হতেই হচ্ছে। শহরের রাস্তাগুলোতে লোকজন চলাচল কম। এ কারণে রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানসহ ছোট ছোট যানবাহনের চালকরা ভাড়া পাচ্ছেন না।

চাঁদপুর : চাঁদপুরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তীব্র শীতে জবুথবু এ জেলার মানুষ। তারপরও তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষজন।

গত ৩ দিন ধরেই বইছে হিমেল হাওয়া, যা শনিবারও অব্যাহত ছিল। দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শহরে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। লোকজনও প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল বেড়েছে ঠান্ডাজনিত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মুহাম্মদ শোয়েব জানান, চলতি শীত মৌসুমে আজ (শনিবার) শীতের তীব্রতা বেড়েছে। জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কমলনগর-রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : পৌষের শেষে হাড় কাঁপানো হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর- রামগতি উপজেলার জনজীবন। হিমেল বাতাসের সঙ্গে চলছে কুয়াশার দাপট। রাতে ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে কষ্ট করে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না কেউ। বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া লোকজন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শীতের তীব্রতার কারণে উন্মুক্ত স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিলেন তাদের অনেকেই।

এদিকে শীত নিবারণের জন্য বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা। ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া লোকজন জেলা-উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন হাট বাজারের পুরোনো কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন শীতের পোশাক কিনতে। কিন্তু অনেকেরই সাধ্য নেই শীতের কাপড় কেনার। খেটে খাওয়া মানুষরা জানান, যেখানে পরিবারের ভরণপোষণ করাটাই কষ্টদায়ক, সেখানে বাড়তি পোশাক কেনা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সমাজের বিত্তবান শ্রেণি ও বিভিন্ন এনজিও, মানবিক সংগঠন এগিয়ে এলে ছিন্নমূল মানুষের উপকার হতো। সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :