1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে দুই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি’র সভাপতি হলেন মো.শহীদুর রহমান শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব

শিবালয়ের যমুনায় বিশাল চর, সেচ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৮৮ বার পড়েছেন

শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা নদীতে চর পরায় এবার  সেচ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা। ইরি-বোরোর ভরা মওসুমে শুরু হবার আগেই সেচ সমস্যার সমাধান না করলে এবার চরমভাবে ব্যাহত হবে বোরো আবাদ । এতে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। সেচ প্রকল্পের পক্ষ থেকে অতিদ্রুত চরকেটে ক্যানাল তৈরী করে সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে।

শৃক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিবালয়ের আরিচা খালপাড় এলাকায় যমুনা নদীর তীরে কাশাদহ সেচ প্রকল্পের পানির হাউজের সামনে নদীতে বিশাল আকারের চর জেগে উঠেছে। এতে সেচ প্রকল্পের পানির হাউজ এলাকা থেকে প্রায় ১কি.মি. দুরে সরে গেছে নদী।এই হাউজের আশেপাশে কোথাও কোন পানি নেই। আছে শুধু ধু-ধু বালুচর। এমতাবস্থায় এই চর কেটে ক্যানাল বের না করলে কোনক্রমেই এ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর পানি দিয়ে এ বছর বোরো আবাদ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, ১৯৮০ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে শিবালয় উপজেলার ১৪/১৫টি গ্রামের ২ হাজার কৃষক প্রায় ১২শ’ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবত স্বল্প খরচে বোরো আবাদ করে আসছেন। এতে একদিকে নদীর আয়রনমুক্ত পানি দেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালে শিবালয় ক্ষুদ্র পানি ব্যাবস্থপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার-৩। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুণ:খননসহ নির্মাণ করা হয়েছে পাকা ড্রেন ও পানির হাউজ। এবার নদীতে চর পরে বন্ধ হয়ে গেছে পানির উৎস। সেচের অভাবে এবার বোরো আবাদ করতে না পারলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।

 

ছোট আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মো. আবুল কালাম বলেন, আমরা এই যমুনা নদীর পানি দিয়ে বোরো আবাদ করতাম। কিন্তুু এ বছর চর পড়ার কারণে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই চরকেটে না পানি  বের করার ব্যবস্থা না করলে সেচ দিতে পারবে না।

বড় আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী বলেন, আমরা ৪০ বছর ধরে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করে আসছি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে এবং সেচ খরচও অনেক কম হচ্ছে। এ বছর পানির হাউজের সামনে যে চর পড়েছে তা কেটে ক্যানাল তৈরী না করলে সেচ দেয়া সম্ভব হবে না। এতে বন্ধ হয়ে যাবে বোরো আবাদ। এর ফলে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. মশিউর রহমান আওয়াল বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পাম্পের সাহায্যে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তুলে বোরো ধানের আবাদ করে আসছি। এ বছর বিআইডব্লিউটিএ উজানে নদী খনন করে ড্রেজিংকৃত মাটি ফেলার কারণে আমাদের পানির হাউজের সামনে যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে উঠেছে। এতে নদীর পানি তোলার পাম্পের হাউজ এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে সরে গেছে মূল নদী। এমতাবস্থায় চর না কাটলে এবার কোনক্রমেই জমিতে সেচ দেওয়া যাবে না। এতে এলাকায় খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গো-খাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং পরিষদের সংশ্লিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :