1. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  2. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা শিবালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে গেল বাস ঈদের প্রস্তুতি দেখতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপ্রতিমন্ত্রী শিবালয়ে জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে মটরসাইকেল ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিতে শিবালয়ে নানা আয়োজন শিবালয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ সভা পশুর হাটসহ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে-ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে র‌্যাব শিবালয়ে মাদকসহ অন্যান্য মামলায় ১২জন আটক

হেলমেট না পরায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৮ শতাংশের মৃত্যু হয়

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩
  • ৩৮২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর বিসিক এলাকায় গত ১৮ জুন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তারেক (২০) ও সজিব (১৯) নামে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের আরেক বন্ধু বাবুকে (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একটি অনুষ্ঠান শেষে তিন বন্ধু এক মোটরসাইকেলযোগে ফিরছিলেন। এমন সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

একই দিন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পিকআপ ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ লিঙ্কনের (২২) মৃত্যু হয়। এক দিনে তিন তরুণের প্রাণ গেল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। একটি মোটরসাইকেলে তিনজন-তাও আবার ছিল না হেলমেট। এমন দুর্ঘটনার দায় কার!

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় পড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের ৮৮ শতাংশেরই মাথায় হেলমেট ছিল না। যে কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। উপরের একটি ঘটনায় দেখা যায় আরোহীরা তিনজন এক মোটরসাইকেলে চড়ে আইন ভঙ্গ করেছেন। কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলে মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি ওঠা নিষিদ্ধ। তার ওপর হেলমেটও পরা ছিল না। ঠিক তেমনই রূপগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতারও হেলমেট ছিল না। বেশিরভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণ হেলমেট না থাকা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মে মাসে ১৮৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৮১ জন নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন। এপ্রিলে ১৯১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০১ জন। আর মার্চে ১৭৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৯৪ জনের। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতি মাসে মোট দুর্ঘটনার ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। দেশে ২০১৯ থেকে ২০২২-এই চার বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আড়াইগুণ বেড়েছে। এর কারণ মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও যথাযথ নিয়ম না মানা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের মধ্যে ৬০ শতাংশই মোটরসাইকেল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মোট চালকের ৩৪ শতাংশ সবসময় হেলমেট ব্যবহার করেন। বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করেন ৫৩ শতাংশ চালক। ১০ শতাংশ চালক কিছু সময় ও ২ শতাংশ চালক কখনোই হেলমেট ব্যবহার করেন না। অন্যদিকে বাজারে যে তিন ধরনের হেলমেট পাওয়া যায়, তার মধ্যে ঢাকা শহরে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ফুল ফেস ক্লোসড হেলমেট ব্যবহার করেন মাত্র ১১ শতাংশ চালক এবং মাত্র ২ শতাংশ আরোহী। এসব চালকের বেশিরভাগই অর্থাৎ ৬৫ শতাংশই ব্যবহার করেন হাফ ফেস হেলমেট। ওপেন ফেস বা হ্যাট ধরনের খোলা হেলমেট ব্যবহার করেন ২৪ শতাংশ চালক।

এ বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, বাজারে গুণগত মানের হেলমেটের নিশ্চয়তা ও সঠিকভাবে যদি হেলমেটের ব্যবহার করা হয় তা হলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতের ঘটনা ৭০ শতাংশ কমে যাবে ও মৃত্যু কমবে ৩০ শতাংশ। কিন্তু বাজারে যেসব হেলমেট পাওয়া যায়, সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলো পরে শুধু আইন রক্ষা হবে, দুর্ঘটনা হলে চালক বা আরোহীকে বাঁচানো যাবে না।

কম দূরত্বে হেলমেট পরেন না ৬৩ শতাংশ চালক : গবেষণায় দেখা গেছে, কম দূরত্বের সময় মোটরসাইকেল চালকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হেলমেট পরেন না। এই সংখ্যা ৬৩ শতাংশ। গরম আবহাওয়ার সময় হেলমেট পরেন না ২০ শতাংশ চালক। ১৫ শতাংশ চালক রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে পড়লেই কেবল হেলমেট পরেন। পাড়া-মহল্লার রাস্তা বা গলিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরেন না ১২ শতাংশ চালক। এ ছাড়া দিনের বেলা হেলমেট পরেন না ৩ শতাংশ এবং রাতে ও দিনে হেলমেট পরেন না ২ শতাংশ করে চালক।

অর্ধেক চালক হেলমেট পরেন না অস্বস্তির কারণে : গবেষণায় হেলমেট না পরার যে সুনির্দিষ্ট ১০টি কারণ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে অন্যতম অস্বস্তিবোধ করা। গবেষণায় বলা হয়েছে, ৪৫ শতাংশ চালকই হেলমেট পরেন না অস্বস্তির কারণে। গরম লাগে ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হয়-এই দুই কারণে হেলমেট পরেন না ২১ শতাংশ করে চালক। হেলমেট পরলে দেখতে অসুবিধা হয়-এ কারণে পরেন না ১৮ শতাংশ চালক। এমনকি এলাকার রাস্তাঘাটে ধীরে মোটরসাইকেল চালান বলে হেলমেট পরেন না ২২ শতাংশ চালক। এ ছাড়া নাকে ব্যথা পান-সে কারণে ৯ শতাংশ, খুব ভালো চালান এমন অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে ৫ শতাংশ ও দামের কারণে ৪ শতাংশ চালক হেলমেট পরেন না।

ঢাকায় হেলমেটের ব্যবহার বেশি কিন্তু নিম্নমানের : দেশে সবচেয়ে বেশি হেলমেট ব্যবহার হয় ঢাকাতে। কিন্তু এর গুণগত মান অনেক খারাপ। দেখা গেছে, ঢাকা শহরে প্রায় শতভাগ (৯১ দশমিক ৮ শতাংশ) মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ব্যবহার করেন। এখানে আরোহীদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ পুরুষ ও ৮৭ শতাংশ নারী হেলমেট পরেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ক্যাপ স্টাইলে পরেন। এভাবে হেলমেট পরলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না।

মগবাজারের হেলমেটের দোকান রাইসা অটো হাউজের মালিক ইয়াসিন ইসলাম সময়ের আলো বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০টি হেলমেট বিক্রি হয়। এর মধ্যে নরমাল হেলমেট বিক্রি হয় ১৫টি। ১৫০ টাকা থেকে হেলমেট পাওয়া যায়। কিন্তু এর মান খারাপ।

কম হেলমেট ব্যবহার হয় বরিশালে : বরিশাল শহরে হেলমেটের ব্যবহার খুবই কম। এখানে চালকদের ৭৮ শতাংশ হেলমেট পরলেও চালক-আরোহী মিলে হেলমেট ব্যবহার করেন মাত্র ৫৬ শতাংশ। আরোহীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ হেলমেট পরেন। নারী আরোহীদের হেলমেট পরার হার শূন্য। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে হেলমেট পরেন ৯০ শতাংশ চালক-আরোহী। এই সড়কে নারী চালকদের শতভাগ এবং আরোহীদের ৮৬ শতাংশ এবং পুরুষ চালকদের ৯৬ শতাংশ এবং আরোহীদের ৭৪ শতাংশ হেলমেট পরেন।

হেলমেট না পরার পক্ষেও রয়েছে মত : মোটরসাইকেল চালকদের ৮৪ শতাংশই হেলমেট পরার পক্ষে তাদের মত দিয়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ চালক মনে করেন হেলমেট না পরলেও চলে ও ২৫ শতাংশ চালকই মনে করেন তার পেছনে থাকা আরোহীর হেলমেট না পরলেও চলে। ৮৪ শতাংশ চালক মনে করেন হেলমেট পরা থাকলে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৩৪ শতাংশ চালক মনে করেন সড়কে ধীরে চালানোর সময় ও কম দূরত্বে ৭৩ শতাংশ চালক মনে করেন রাতের চেয়ে দিনে হেলমেটের দরকার বেশি। আর ৩০ শতাংশ চালক হেলমেট পরেন শুধু পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে।

বাজারে নানা রকমের বাহারি হেলমেট : রাজধানীর বেশ কয়েটি হেলমেটের দোকান ঘুরে দেখা গেছে বাহারি রকমের নানা হেলমেট। ১৫০ টাকা থেকে হেলমেটের দাম শুরু। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিম্নমানের হেলমেটের চাহিদা অনেক বেশি। তবে এসব হেলমেট ব্যবহারে নেই তেমন কোনো তদারকি। সার্টিফাইড হেলমেটের পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি হয় দোকানে।

মগবাজারের হেলমেটের দোকান সেন্টার বাইক সার্ভিসের মালিক সোহেল সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কখনো চাই না মানুষ কম দামি হেলমেট কিনে সড়কে মৃত্যুর মুখে পড়ুক। আমরা নিম্নমানের হেলমেটকে বলি আইন রক্ষার হেলমেট। এই হেলমেট দিয়ে দেশে আইন রক্ষা হয়, তবে জীবন রক্ষা হবে না। আমাদের কাছে অনেক ভালো হেলমেটও আছে। এখানে সব রকমের হেলমেট পাওয়া যায়। কেউ ফুল ফেস, কেউ হাফ ফেস, কেউ খোলা ফেস হেলমেট, আবার কেউ নরমাল হেলমেট কেনেন। তবে কম দামি হেলমেট কিনতে চান বেশিরভাগ ক্রেতা।

তবে গত ১৭ মে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, হেলমেট বিক্রিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া হেলমেট বিক্রি করা যাবে না। দুর্ঘটনা রোধ এবং হেলমেটের মান নিশ্চিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি আরও কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে হেলমেটের গুণগত মান রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, বিএসটিআইয়ের হেলমেটের গুণগত মান যাচাইয়ের কাজ করা উচিত। তারা যদি এটা ভালোভাবে মনিটরিং করে তা হলে বাজারে নিম্নমানের হেলমেট কমে যাবে। তবে মোটরসাইকেলের যারা চালক ও আরোহী আছেন তাদের একটি কথা মনে রাখতে হবে-হেলমেট কেনার ক্ষেত্রে কম দামি হেলমেট কিনে নিজেদের ক্ষতি না করে ভালো মানের হেলমেট কেনা দরকার। এতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে। সুত্র: সময়ের আলো

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :